সিনেমা হলের গলি

ভালবাসা, বন্ধুত্ব? তবে থাক...

আসামের কন্যা সুনিধির সাথে অর্ণবের পরিচয় বিশ্বভারতীতে। একদিন বিশ্বভারতীতে এক আয়োজনে গান গাইছিলেন সুনিধি। সেখানে সুনিধির রবীন্দ্র সংগীত শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন অর্ণব। অর্ণব নিজেই রবীন্দ্র সংগীতকে অন্য মাত্রা দিয়েছেন, শ্রোতাদের কাছে রবীন্দ্র সংগীতকে জনপ্রিয় করতে ছড়িয়ে দিতে অবদান রেখেছেন তার গায়কী দিয়ে। এখনো রাতে হেডফোনে বাজে অর্ণবের কণ্ঠে 'মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না..'।


সেই তিনি সুনিধির গাওয়া রবীন্দ্র সংগীত পছন্দ করলেন। সেখান থেকে পরিচয় হলো তাদের। একসাথে আড্ডা জমতে থাকলো। তারা দুইজন বেশ ভালোরকমের বন্ধুও হলেন। প্রায়ই এখন অর্ণবের সাথে দেখা যায় সুনিধিকে।

এই দুজন মানুষ এবার একসাথে গাইলেন একই গানে। দুইজনে গাওয়া গানটি ইউটিউবে রিলিজ হয়েছে তিনদিন আগে। গানটির শিরোনাম 'তবে থাক'। গানের শুরুটা অনেকটা এরকম,

"এই আকাশের রঙ, বাতাসে ছড়ায়
এই বাতাসের ঝরাপাতা,
অলেখা অবেলায়।
আজ প্রণয়ের ফাঁদে গড়া, নীল কৃষ্ণচূড়া
ভেজা প্রণয়ের নীচে অভিমান পাহাড়ে চূড়া।

তবে থাক, তবে থাক,
লেখা থাক, লেখা থাক
রোদমাখা আবেগের সুতোটা বাঁধা থাক..."

অর্ণবের সুর সংগীতে 'তবে থাক' শিরোনামের এই গানটির লিরিক লিখেছেন মানজুরুল শিবলী। ভিডিও সহ গানটি প্রকাশিত হবার পর শ্রোতাদের বেশ নজড় কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

গানটির ভিডিওচিত্রে অর্ণব সুনিধি তো ছিলেনই, সঙ্গে ছিলেন আফসানা মিমি, অর্চিতা স্পর্শিয়াও। এই গানটি মূলত তৈরি হয়েছে একটি ওয়েব সিরিজের জন্যে। 'নো কাপল এন্ট্রি' নামক একটি ওয়েব সিরিজের জন্যে এই গান, যে ওয়েব সিরিজে একটি কফিশপের নানান ঘটনা দেখানো হয়েছে। এই সিরিজটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফসানা মিমি।

অর্ণবের গানটিতেও গল্পের ঝলক দেখা যায়। কফিশপের মালিক মিলি যিনি কফিশপে আসা এক তরুণীর চলাফেরায় নিজের অতীতের ছায়া খুঁজে পান। সেই তরুণী কফিশপে তন্ময় নামের একটি ছেলের সাথে সময় কাটায়, গল্প করে। মিলির কফিশপে প্রেমিক প্রেমিকার প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ, তাই তিনি রিমিকে একদিন জানিয়ে দেন তারা যেন না আসেন। রিমি অবাক হলেও পরে জানতে পারে কফিশপের মালিক মিলির এমন সিদ্ধান্তের পেছনে আছে অন্যরকম এক গল্প। অভিমান, প্রেম কিংবা আবগের অন্য পাঠ।


রোমান্টিক বিরহী ঘরানার 'তবে থাক' গানটি শুনতে লেগেছে বেশ চমৎকার। ভিডিও'তে আফসানা মিমির এক্সপ্রেশনও বেশ পছন্দ করেছেন শ্রোতা দর্শকরা। সুনিধির গায়কী প্রথমবার যারা শুনেছেন তারা কেউ কেউ টেনে এনেছেন শাহানা বাজপেয়ীকে। কমেন্টে কয়েকজন লিখেছেন, সুনিধির কণ্ঠে শাহানার ভাইব পেয়েছেন তারা।

গানের কোরাসে বিষন্ন হাহাকার কিংবা বিরহের আবেশটা বেশ দারুণ ছিল। তবে, অর্ণবের যে সুরের স্পেশাল এক ম্যাজিক থাকে, অর্ণবের সিগনেচার টোন কিংবা লিরিকে সহজবোধ্য গভীরতা সেখানে কিছুটা খামতি খুঁজতে চেয়েছেন কেউ কেউ। সব মিলিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় ভাসছে অর্ণব সুনিধির প্রথমবারের মতো দ্বৈত সঙ্গীতটি। তাদের প্রতি শুভকামনা। এই যুগল নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে যুগলবন্দী হয়ে আরো দারুণ দারুণ গান আমাদের উপহার দেবেন, সেই প্রত্যাশায়...