ইনসাইড বাংলাদেশ

যত দোষ, 'ছাত্র ইউনিয়ন' ঘোষ?

মেঘমল্লার বসু: ছাত্র ইউনিয়নের নিশ্চয়ই অন্য সব সংগঠনের মতোই সীমাবদ্ধতা আছে, তা অস্বীকার করার কারণ ও প্রয়োজন দেখি না। 

কিন্তু কোন কাজের সমালোচনা করবেন, এবং কোনো কাজের প্রশংসা- সেটা একটু খোদাপ্রদত্ত মস্তিষ্কের ব্যবহার করে নির্ধারণ করেন। গতকাল থেকে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের কাউন্সিল চলছে। কাউন্সিল উপলক্ষে গতকাল আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য-সংসদ সেখানে চমৎকার একটা পরিবেশনা করেছে। কৃষ্ণপক্ষ গাইতে উঠে বলেছে, যখন তাদের কেউ ডাকত না তখন ছাত্র ইউনিয়ন তাদের ডেকে ডেকে এসব অনুষ্ঠানে গান গাইতে বলত।ইউনিয়ন তাদেরকে অনেক অনুপ্রেরণা দিয়েছে। সহজিয়া এসে তাদের গানের (জাদুকর) ইউটিউব রিলিজের  ঘোষণা দিয়ে গেছে। রাজু ভাস্কর্যের আশেপাশে যেই পথশিশুরা ঘুমায় তারা সহজিয়ার কাছে 'ছোট পাখি' গানটা শুনতে চেয়েছে। সহজিয়া তাদেরকে উৎসর্গ করেই সেই গানটা গেয়েছে।  

কিন্তু আপনি এসবের কিছুই জানেন না।সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এই গোটা প্রসঙ্গে পাবলিকের জানা একমাত্র তথ্য হচ্ছে ইউনিয়ন রাস্তা আটকায়ে কী যেন একটা করেছে। ব্যারিস্টার সুমন রাজু ভাস্কর্যের নিচে দাঁড়িয়ে বিকালে একটি জ্বালাময়ী লাইভ করেছেন। সেখানে তিনি উপাচার্যের কাছে রাস্তা আটকে অনুষ্ঠান করায় যে যানজট সৃষ্টি হয়েছে তার বিচার দাবি করেছেন। 

একটা লোক কতটা শঠ অথবা মর্কট (অথবা উভয়) হলে এরকম কথা বলতে পারেন! রাজু ভাস্কর্য যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস না হয়, তাহলে আমাদের ক্যাম্পাসটা কই ? যেখানে ক্যাম্পাসের ভেতর বড় যানবাহন এমনিই চলার কথা না সেখানে উনার প্রাইভেট কার কেন আটকে আছে এই নিয়ে তিনি ক্ষোভ দেখাচ্ছেন। 

রাজু ভাস্কর্যের থেকে রোকেয়া হল, হাকিমের দিকে মুখ করে যে স্পেসটা সেখানে আজকে থেকে অনুষ্ঠান হয় না। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ইশা ছাত্র-আন্দোলন নির্বিশেষে ঐখানে হাজার হাজার অনুষ্ঠান হয়। গানের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বক্তৃতা, অনশন থেকে শুরু করে মানব-বন্ধন সবই ঐ নির্দিষ্ট স্পট করে হয়ে থাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে ন্যূনতম ধারণা আছে এমন যেকোনো মানুষের এটা ভালো করেই জানা। 

আমি খালি চিন্তা করি, মঈন হোসেন রাজুর সংগঠনকে রাজু ভাস্কর্যের নিচে অনুষ্ঠান করার জন্য ব্যারিস্টার সুমনের অনুমতি নিতে হবে এইটা বলার জন্য চূড়ান্ত নির্বুদ্ধিতা প্রয়োজন! মজার বিষয় হচ্ছে, ট্রাফিক জ্যামের আসল কারণ নিয়ে ভদ্রলোক কোনো আলাপই করেন নাই। আগে তো এই জ্যাম হত না, গোটা এরিয়াটা ব্লক করে রাখলেও হত না। ইলিফেন্ট ইন দ্য রুমটা হলো ফ্রিকিং মেট্রোরেল! ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া একটা আস্ত মেট্রোরেল। ঐটা নিয়ে কথা বললে ব্যারিস্টার সুমনের হালকা উত্তম-মধ্যম খাওয়ার সম্ভাবনা আছে অবশ্য। 

আমাদেরও আসলে উত্তম-মধ্যম দেওয়ার চর্চাটা শুরু করা উচিত। নইলে মুগুর কুকুরের উপযুক্ত হচ্ছে না। মাইরের ভয় থাকলে এরা এত স্টুপিডিটি করে না।