সিনেমা হলের গলি

শরিফুল রাজ: যে তরুণে আমরা আশায় বুক বাঁধি

Md. Ramiz: সাম্প্রতিক সময়ের সেরা ৩টি বাংলাদেশী সিনেমার লিস্ট করতে গেলে আমি ''আইসক্রিম''কে লিস্টে অবশ্যই রাখবো। এই ছবিতে এন্টি হিরো চরিত্রে ছিলেন শরিফুল রাজ। নবীন এই অভিনেতার অভিনয় এতোটাই ভাল লেগেছিল যে, আমি আমার রিভিউতে তাকে বাংলার ইমরান হাশমীর খেতাব দিয়েছিলাম! একজন কলেজ পড়ুয়া কামপিপাসু প্লেবয় তরুনের চরিত্র শরিফুল রাজের অভিনয় পুরো ছবিকে দারুণ উপভোগ্য করেছিল। 

কিন্তু নতুন অভিনয় শিল্পীদের এই মর্ডার্ন রোমান্টিক ছবিটি ব্যাবসায়িক ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে শরিফুল রাজকে নিয়ে পরে যতটা মাতামাতি হওয়ার কথা ছিল তার কিছুই হয়নি। বলতে গেলে শরিফুল রাজ এক ছবি দিয়েই হারিয়ে যাওয়ার দলে যোগ দিয়েছিল প্রায়। 

এ নিয়ে বেশ কয়েকবার হতাশা জানিয়েছি। অনেকেই ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে শরিফুল রাজকে সূযোগ দেয়ার জন্য নির্মাতাদের কাছে আবেদন জানিয়েছে। আশার কথা হচ্ছে, একটু দেরীতে হলেও নির্মাতারা তার সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছে। 

শুরুটা হয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্সের মাধ্যমে। স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রথম ছবি ''ন'ডরাই'' নায়িকা প্রধান গল্পের ছবি হলেও ছবির প্রধান নায়ক চরিত্রে তারা শরিফুল রাজকে সূযোগ দিয়েছে। ''ন'ডরাই'' এর ট্রেইলার এবং গানে শরিফুল রাজ আরো একবার চমক দেখিয়েছে। 
আইসক্রিমে যেমন সে এন্টি হিরো হয়েও নায়ক-নায়িকার চেয়ে বেশী জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তেমনি ন'ডরাই নায়িকা প্রধান ছবি হলেও শরিফুল রাজ নজড় কাড়ছে সবার। 

এরপর সাম্প্রতিক সময়ে বানিজ্যিক ছবির সেরা নির্মাতা রায়হান রাফী তাকে নিয়েছেন ''পরাণ'' নামের রোমান্টিক ড্রামায়। রায়হান রাফীর প্রিয় শিল্পী সিয়াম আহমেদ হয়তো শিডিউল জটিলতায় ছবিটা করতে পারেনি, কিন্তু সিয়ামের জায়গায় শরিফুল রাজকে নিয়ে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নেননি বলেই মনে হচ্ছে। এ ছবিতেও শরিফুল রাজ অ্যান্টি হিরোর চরিত্র করেছে এবং সিনেমায় তার লুক দেখেই মনে হচ্ছে দুর্দান্ত কিছু হতে যাচ্ছে। ''পরাণ''- এ রাজের সাথে আরো আছেন বিদ্যা সিনহা সাহা মিম এবং ইয়াশ রোহান। ছবিটি আগামী বছর ভালবাসা দিবসে মুক্তি পাবে। 

এই দুই ছবি ছাড়াও শরিফুল রাজ এখন কাজ করছেন মেজবাউর রহমান সুমনের ''হাওয়া'' ছবিতে। সমুদ্রের জেলেদের গল্প নিয়ে ছবিটির কাজ এখন চলছে সেন্টমার্টিনের গভীর সমুদ্রে। হাওয়াতে রাজ ছাড়াও আছেন চঞ্চল চৌধুরী, নাজিফা তুষি সহ আরো অনেকে। 

এই তিনটি ছবিই মানসম্মত হবে বলে ধারণা করা যায়। তিন ছবিতেই শরিফুল রাজ ভিন্ন ধারার কাজের সূযোগ পেয়েছেন। এগুলোতে তার অভিনয় প্রশংসিত হলে বাংলাদেশের সিনেমা আরো একজন নির্ভরশীল সুঅভিনেতার দেখা পাবে বলেই মনে হচ্ছে। 

শরিফুল রাজদের মত সুঅভিনেতারা আমাদের সিনেমায় নিয়মিত হয়ে আমাদের সিনেমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাক এই প্রত্যাশাই করি।