মনের অন্দরমহল

এই হচ্ছে আমাদের শিক্ষকদের অবস্থা!

আমিনুল ইসলাম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে'র এক শিক্ষক'কে বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়া হয়েছিলো। কেন দেয়া হয়েছিলো? কারন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়'টির শিক্ষা কার্যক্রম আর শিক্ষক'দের সমালোচনা করে প্রথম-আলো পত্রিকায় একটি কলাম লিখেছিলেন। 

তো, এক'ই পেশায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়'টির অন্য শিক্ষক'রা সেটা সহ্য করবে কেন? তাই তাকে বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছিলো। যাতে সে কোন রকম শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত না থাকতে পারে। 

এরপর ওই শিক্ষক আদালতে মামলা করেছেন। আদালত ওই বাধ্যতামূলক ছুটি'কে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর এর শিক্ষক'দের বয়ে'ই গেছে! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলে কথা। এরা পারলে সূর্য'কে পশ্চিম দিকে উদয় করে ছাড়ে! আর এটা তো স্রেফ একটা আদালতের রায়। 

ওই শিক্ষক আদালতের রায় পাবার পরও ক্লাস নিতে পারছেন না। শেষমেশ বাধ্য হয়ে তিনি প্রতিদিন প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলন করছেন। এই হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়'টির শিক্ষকদের অবস্থা! 

পৃথিবীর সকল দেশে ধরে নেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে এমন একটি জায়গা, যেখানে যে কেউ মতামত প্রকাশ করতে পারবে এবং সেই মতামত ধারণ করার ক্ষমতাও সবার থাকতে হবে। এই জন্য'ই না বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা হয়। 

ধরুন কেউ একজন একটা নতুন বিষয় আবিষ্কার করেছে, যেটা প্রচলিত সকল ধ্যান- ধারণা'র বিপরীত। এখন সেই গবেষক কিংবা শিক্ষক'কে যদি একটা বিশ্ববিদ্যালয় মত প্রকাশ করতে না দেয়; তাহলে কি এই জীবনে কোন দিন কোন কিছু আবিষ্কার করা সম্ভব? 

এরা নাকি আবার প্রাচ্যে'র অক্সফোর্ড! অবশ্য পুরো দেশের চিত্র'ই এক। আমাদের প্রেসিডেন্ট সেদিন রাজশাহী'তে গিয়ে বললেন- 'আমাদের শিক্ষক'রা জ্ঞান চর্চা বাদ দিয়ে পদ পদবী'র লোভে লবিং করে বেড়ায়।' তো, তিনি মিথ্যা'টা কোথায় বললেন? কিন্তু শিক্ষক'দের এই সমালোচনা সহ্য হবে কেন? তারা এখন প্রেসিডেন্টে'র সমালোচনা করে বেড়াচ্ছে। বলে বেড়াচ্ছে- আপনি রাজনীতিবিদ'দের সঠিক পথে আনুন। শিক্ষকদের চিন্তা আপনার করে ফায়দা নেই। 

এই হচ্ছে আমাদের শিক্ষক'দের অবস্থা! এই সামান্য সমালোচনা টুকুও এরা নিতে পারল না। আপনাদের জানিয়ে রাখি, প্রেসিডেন্ট যখন রাজশাহী'তে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে'র সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বলেছেন- 'শিক্ষকরা পড়ায় না। লবিং করে বেড়ায়...' তখন সেখানে উপস্থিত সকল ছাত্র-ছাত্রী তাদের শিক্ষকদের সামনে'ই "শেইম, শেইম" বলে গলা ফাটিয়ে প্রেসিডেন্টের কথায় সায় জানিয়েছে। এরপরও এইসব শিক্ষকদের লজ্জা হয় না। 

এখন তো স্রেফ "শেইম, শেইম" বলছে; আর কয়দিন পর ছাত্ররা আপনাদের শ্রদ্ধা করা কিংবা সালাম দেয়া তো দূরে থাক; আপনাদের নাম ধরে ডাকবে কিংবা তুই- তকারি করবে। সেদিনও হয়ত আপনারা ভাব নিয়ে বলবেন- তাতে কি হয়েছে! আমরা তো প্রাচ্যে'র অক্সফোর্ডের শিক্ষক।