পিংক এন্ড ব্লু

কুকুরের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে নিজের প্রাণটাই দিলেন তিনি!

কত সূক্ষ্ম ঘটনায় মানুষের প্রাণ চলে যেতে পারে! আপনি যখন এই লেখাটি পড়ছেন তখনো কেউ না কেউ এই পৃথিবী থেকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। মৃত্যু ব্যাপারটাকে আমার বেশ নির্দয় নির্মম মনে হয়। মৃত্যু অদ্ভুত এক ব্যাপার, কখন কিভাবে আসে, কার জন্যে কিভাবে মৃত্যু অপেক্ষা করে আমরা তা জানতে পারি না কখনোই।

তবুও কিছু কিছু মৃত্যু একটু বেশি নাড়া দেবার মতো। এই যেমন খিলগাঁওয়ের এই যুবকের চলে যাওয়া, যার নাম রাজন। ২৪ বছর বয়স তার। আপাতদৃষ্টিতে এই সমাজ হয়ত কখনো তাকে আলাদা করে নজর দিতো না, তার মৃত্যু নিয়ে কখনো কেউ হয়ত ভাবতোও না। কারণ, এই যুবক একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। আমাদের ফেলে দেওয়া ময়লা সে পরিষ্কার করত, তবুও তার জীবনে হয়ত কখনো এই কাজের জন্যে এপ্রিশিয়েশন পায় নি সে।

কিন্তু, পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাজন এমন এক কারণে মৃত্যুবরণ করলেন যে, তার জন্যে আমার মন থেকে দোয়া করতে ইচ্ছে করছে, সৃষ্টিকর্তা তাকে ভালো রাখুক এই প্রার্থনা করতে ইচ্ছে করছে। জানি না, কেউ মারা যাওয়ার পর ভালো থাকার প্রার্থনায় কাজ হয় কিনা, কিন্তু একটা মানুষের এমন মৃত্যুতে মন থেকেই প্রার্থনা আসে, বলতে ইচ্ছে হয় জনমভর যে মানুষটার গেল কষ্টে কষ্টে, যার শেষটাও হলো এমন করুণ, তার অন্তিম যাত্রাটা শান্তিময় হোক অন্তত।

একটু বলি রাজনের গল্পটা। রাজন শরিয়তপুরের ছেলে। কাজ করতেন সিটি সুপার মার্কেটের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে। রোজকার মতো রাজন গতকালও কাজে গিয়েছেন। কাজ করতে গিয়ে তিনি লক্ষ্য করলেন, মার্কেটের একটা গলিতে একটা কুকুর আটকে পড়ে আছে। তিনি আটকে পড়া কুকুরটাকে বাঁচানোর কথা ভাবলেন। নিয়ে আসলেন লোহার রড৷ রড দিয়ে আটকে পড়া কুকুরটাকে উদ্ধার করতে গেলেন।

কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস। সেখানে পড়েছিল বৈদ্যুতিক তার। রাজন হয়ত খেয়াল করেন নি। তার মনে হয়ত কাজ করছিলো, কুকুরটাকে উদ্ধার করতে হবে। তিনি হুট কতে বিদ্যুৎ তারের স্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলেন। এক ঝটকায় আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়লেন রাজন৷

হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল তাকে। রাত সাড়ে আটটায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঘোষণা দেয়া হলো, রাজন আর বেঁচে নেই। রাজন মৃত। হাসপাতালের মর্গে এখন পড়ে আছে রাজনের লাশ।

মানুষের মৃত্যু কতই না অদ্ভুত! রাজন চেয়েছিলেন একটা প্রাণীর প্রাণ রক্ষা করতে। কিন্তু কে জানত, এমন মানবিক এক কাজ করতে গিয়ে মানুষটারই প্রাণ চলে যাবে!