খেলা ও ধুলা

চারে মিঠুনকে নামানোর তামাশা ও মুশফিকের কাছে জিজ্ঞাসা

টপাটপ দুটো উইকেট পড়ে গেছে, দরকার একটা জুটির, উইকেটে প্রয়োজন স্থিতধী কাউকে। অথচ দলের সেরা ব্যাটসম্যান, সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারটি কিনা সেই নাজুক সময়ে নিজের কাঁধে দায়িত্ব না নিয়ে বসে থাকছেন ড্রেসিংরুমে! আরও একটা উইকেটের পতনের পর দল যখন খাদে, তখন তিনি হেলতে দুলতে নেমে আসছেন ব্যাট হাতে। বাংলাদেশের প্রতিটা ইনিংসেই দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। পনেরো-বিশ রানের মধ্যে তিন উইকেট পড়ে গেছে, তারপর উইকেটে আসছেন মুশফিকুর রহিম। একটা দলের সেরা ব্যাটসম্যান কেন পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করতে নামবেন- এই প্রশ্নের জবাবটা কি তার কাছে কেউ চেয়েছেন?

সুনীল গাভাস্কার গত টেস্টেও প্রশ্নটা তুলেছেন, এই টেস্টেও টেনে এনেছেন প্রসঙ্গটা। তার প্রশ্ন একটাই- বাংলাদেশ দলে মুশফিক হচ্ছেন টেকনিক্যালি সবচেয়ে সাউন্ড ব্যাটসম্যান। বিপদের মূহুর্তে তিনি তাকে সামনে না এনে কেন মিঠুনের মতো দুধভাত একজন ব্যাটসম্যানকে ঠেলে দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট? প্রশ্নটা তিনি করলেন কমেন্ট্রিবক্সে থাকা আতহার আলী খানকেও। আতহারের কাছে দেয়ার  মতো কোন জবাব ছিল না। থাকবে কি করে, খোদ মুশফিকের কাছেই এই প্রশ্নের জবাব আছে কিনা কে জানে! 

গত টেস্টেই হার্শা ভোগলে বলছিলেন, দলের সেরা ব্যাটসম্যানের উচিত চারে নামা। কথাটা হার্শা বলছেন বলেই যে উল্লেখ করার মতো, তা নয়। টেস্টে প্রতিটা দলের সেরা ব্যাটসম্যান খেলে চার নম্বরে। ভারতে কোহলি চারে নামেন, অস্ট্রেলিয়ায় স্টিভেন স্মিথ, কিংবা ইংল্যান্ডে জো রুট- সবাই চার নম্বির পজিশনেই ব্যাটিং করেন। আমাদের দলের সেরা ব্যাটসম্যানের নাম মুশফিকুর রহিম, অথচ আমরা চারে খেলাচ্ছি মোহাম্মদ মিঠুনকে! এরচেয়ে বড় তামাশা আর কি হতে পারে? 

ভারতীয় পেসারেরা তান্ডবনৃত্য চালাচ্ছেন পুরো সিরিজ জুড়েই। বুমরাহ নেই, নাভিশ্বাস তুলে ফেলছেন শামি-উমেশ, বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখাচ্ছেন ইশান্ত শর্মা। বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলাই করছেন তারা। রান করা তো দূরের কথা, উল্টো আহত হয়ে ব্যাটসম্যানদের ছুটতে হচ্ছে হাসপাতালে! এই সময়ে সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারতেন দুজন, মুমিনুল আর মুশফিক। মুমিনুল অধিনায়কত্বের চাপে ব্যর্থ, আর মুশফিক তো চাপ নিতেই চাইলেন না! কোথায় তরুণদের আগলে রাখবেন অভিজ্ঞতা দিয়ে, সেসব না করে তিনি কিনা ব্যাট হাতে নামছেন পাঁচ নম্বরে! 

মুশফিকের চারে না নামার পেছনে কারণ কি থাকতে পারে? অনেক যুদ্ধের পর তার হাত থেকে টেস্টের জন্যে গ্লাভসজোড়া কেড়ে নেয়া গেছে, মুশফিক নিজেই জানিয়েছেন যে, টেস্টে ব্যাটিংয়ে মনযোগ দিতে চান তিনি, তাই কীপিং করবেন না এই ভার্সনে। ব্যাটিংটাই যদি মনযোগের মূল জায়গা হয়, তাহলে পাঁচ নম্বরে কেন তিনি নামবেন? তার তো যতোটা বেশি পারা যায় উইকেটে থাকার কথা, চার নম্বর পজিশনটা তার জন্যে সবচেয়ে বেশি উপযোগী। 

এরচেয়েও বড় কথা, দলের এই ভয়াবহ অবস্থায় এগিয়ে আসার কথা ছিল মুশফিকের। সামনে এসে দায়িত্ব কাঁধে নেয়ার কথা ছিল। অথচ তিনি ভীতুর মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, নামছেন দেরীতে, ততক্ষণে বাড়তি একটা উইকেট হারিয়ে বিপদের আরও তলানীতে ডুবে যাচ্ছে দল। এই স্বেচ্ছাচারিতার মানে কি? দলের ভালো-টা ওপরে, নাকি নিজের জেদ? টিম ম্যানেজমেন্ট কেন এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হচ্ছে? কিংবা সংবাদ সম্মেলনে কোন সাংবাদিক কেন এই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করছেন না? 

চারের চেয়ে পাঁচে হয়তো মুশফিক বেশি সফল। সেখানে তার গড় বেশি, রান বেশি, সেঞ্চুরীও বেশি। কিন্ত বাস্তবতা হচ্ছে, দলের তাকে চার নম্বরে প্রয়োজন, পাঁচে নয়। আজও তিনি পাঁচে নেমেছেন, ডাবল সেঞ্চুরীও যদি তিনি করে ফেলেন পাঁচ নম্বরে নেমে, তাহলেও তার পাঁচে নামাটা জাস্টিফায়েড হবে না কোনভাবেই। এটা খামখেয়ালীপনা না, এটা ক্রাইম। এটা নিজের দায়িত্ব পালন না করার মতোই অপরাধ।

হার্শা ভোগলের একটা কথা দিয়েই শেষ করি। পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করে মুশফিক হয়তো নিজের জন্যে ভালো করছেন, রান করছেন বেশি। কিন্ত তার এই সুবিধাবাদী আর স্বার্থপর আচরণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিটা হচ্ছে দলের। সেটা মুশফিক বুঝতে পারলেই হতো...