ইনসাইড বাংলাদেশ

সাঈদিকে মুক্তি দিয়ে জন্মবার্ষিকীর মোনাজাত পড়ানোটা বাকী থাকবে কেন?

হাসনাত কালাম সুহান: বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূলবক্তা হিসেবে নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো- বাংলাদেশ সরকারের একটা নিন্দাযোগ্য কাজ। বঙ্গবন্ধু তার জীবন দিয়ে যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে গেছেন, সেই স্পিরিটের সাথে এই গুজরাটি কসাইয়ের কোনরকম মিল নাই। যে সাভারকার আর শ্যামাপ্রসাদ শিবিরের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে অসাম্প্রদায়িক শেখ মুজিব ঘৃণা করতেন; সেই সাম্প্রদায়িক গেরুয়া হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অধুনা মুরিদকে জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে আনার পরিকল্পনার খুব ঘৃণ্য চিন্তা।

অনেকেই বলতে পারে, অন্য কোন সরকার প্রধান নাই। কিংবা আর কাউকে আনা সম্ভব না ওই সময়ে! তাহলে বলবো- এইটা শেখ হাসিনা সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা। নইলে, ডেসমন্ড টুটো, দালাইলামা, জিমি কার্টার কিংবা প্রণব মুখার্জিকেও মূল বক্তা আনা যেত। আর কূটনৈতিক জোর প্রচেষ্টা থাকলে জাস্টিন ট্রুডোকেও আনা যেত। তার বাবা প্রেসিডেন্ট পিয়েরে ট্রুডো পশ্চিমা শাসকবর্গের মধ্যে সবচে' সোচ্চার রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে। শরনার্থীদের সাহায্য করা, বাংলাদেশকে শুরুতেই স্বীকৃতি দেয়া, পাকিস্তানের কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধুর মুক্তির ব্যাপারে সোচ্চার ছিলেন পিয়েরে ট্রুডো। তার সন্তান জাস্টিন ট্রুডোও তার বাবার মতোই অসাম্প্রদায়িক লিবারেল পলিটিক্স করেন। শেখ হাসিনার সাথেও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক থাকার কথা! তো উনাকে আনা যেত না মূল বক্তা হিসেবে?

কেবল ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেখে, এক কসাইকে দিয়ে কী নোট স্পীচ দেওয়াতে হবে? নরেন্দ্র মোদী কখনও বঙ্গবন্ধুর পলিটিক্স ধারণ করবার যোগ্যতা রাখে না; বরং গোলাম আজমের মিরর ইমেইজ ধারণ করে। মানবিক পৃথিবী আর সম্প্রদায় বিদ্ধেষহীন যে বিশ্বের স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখতেন; একটা সাম্প্রদায়িক দেশকে ভেংগেচুরে যে সেক্যুলার দেশের ভিত রচনা করে গিয়েছিলেন। তার চৌকাঠ মারানোর যোগ্যতাও এসব সাম্প্রদায়িক কসাইদের নেই। আর সে 'কীনোট স্পিচ' দিতে আসবে!

তাইলে সাঈদিকে মুক্তি দিয়ে জন্মবার্ষিকীর মোনাজাত পড়ানোটা বাকী থাকবে কেন?