এরাউন্ড দ্যা ওয়ার্ল্ড

ইরানি পুরুষরা কেন হিজাব পরে ছবি তুলছে?

ইরানে নীতি পুলিশদের তদারকি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেছে। গতবছর নারী দিবসের একটি ঘটনা বেশ আলোচিত হয় সেখানে।

জনসম্মুখে হিজাব খুলে ফেলায় এক নারীকে ইরানের আদালত দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। প্রতিবাদে গেল বছর ৮ মার্চের নারী দিবসে ইরানে প্রতিবাদ হয়। রাজধানী তেহরানে সেই নারীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ হয়।

সেই নারী আদালতে অবশ্য হিজাব না পড়ার জন্যে অনুতপ্ত নন, বরং বিচারককে বোঝাতে চেয়েছিলেন, জোর করে পরানোর চেষ্টা ঠিক নয়।

উল্লেখ্য, ইরানের আইন অনুযায়ী, মহিলাদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক৷ আইনে স্পষ্ট বলা আছে, মেয়েদের চুল ঢাকতে হবে এবং শরীরের সমস্ত অংশ ঢেকে রাখতে হবে৷ ১৯৭৯ সালে ইরানে ধর্মীয় বিপ্লবের পর নারীদের হিজাব পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

গত একদশক আগেও নারীরা এই নিয়মের প্রতি বাধ্য ছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে নারীরা এখন বলতে চাইছেন, হিজাব পরা না পরা ব্যক্তির সিদ্ধান্ত। এখানে কারো হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

নারীদের জোর করে হিজাব পরানোর এই নিয়মের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অনেক প্রতিবাদ হয়েছে। নারীরা প্রকাশ্যে হিজাব ছাড়াই বের হচ্ছে। সবচেয়ে অভিনব প্রতিবাদ শুরু করেছেন ইরানের পুরুষরা।


তারা নারীদের পাশে দাঁড়াতে নিজেরাই হিজাব পরিধান করে রাস্তায় নামছেন, প্রতিবাদ করছেন। নারী বন্ধু, স্ত্রীর সাথে ছবি তুলে ছড়িয়ে দিচ্ছেন সোশ্যাল মিশিয়ায়। যা রীতিমতো আলোচনা তৈরি করেছে।

হিজাব পড়া ইরানে এতোটাই কঠোরভাবে মানতে বাধ্য করা হয় যে, নীতি পুলিশ সেখানে নজরদারি করতে থাকে নারীদের উপর। ইরানে বিলবোর্ডেও হিজাব পড়া নিয়ে প্রচারণা চালানো হয়৷ এটা মানসিক অত্যাচারের মতো অনেকটা।

কাউকে জোর জবস্তিমূলক নির্দিষ্ট পোষাকে বাধ্য করাকে ইরানের নারীরা এখন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

তারা প্রতিবাদে নিজেদের মাথার চুলই ফেলে দিচ্ছে কেউ কেউ। পুরো মাথা শেভ করে ফেলছেন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। ইরানের এক সাংবাদিক যার নাম আলিনেজাদ তিনি নারীদের প্রতি সংহতি জানাতে পুরুষদের আহ্বান জানান, শুরু হয় 'My Stealthy Freedom' নামে ইরানি পুরুষদের আন্দোলন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে #meninhijab হ্যাশট্যাগ দিয়ে পুরুষরা নিজেদের হিজাবওয়ালা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিতে শুরু করেন।

আলিনেজাদ বলছেন, ইরানে নারীদের অস্তিত্ব নির্ভর করে পুরুষদের প্রতি আনুগত্যের উপর। শৈশব থেকে তাদের বাধ্যতামূলক মাথায় স্কার্ফ পরতে হয়। কখনো না পরলে নীতি পুলিশের দ্বারা হেনস্থার স্বীকার হতে হয়।

এই আন্দোলন এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত, আলোচিত ইরানেও। আন্দোলনের এই আগুন কতদূর ছড়ায় এখন সেটাই দেখার বিষয়....