খেলা ও ধুলা

এই যদি হয় পেশাদারিত্বের নমুনা...

আরিফুল ইসলাম রনি: বিপিএলের দলগুলি কতটা পেশাদার, তা নিয়ে আমাদের বেশ ভালোই ধারণা আছে। তাই অতটা গভীর বিষয়ে গেলামই না। কিন্তু সামান্য একটা প্রেস রিলিজ লেখার ক্ষেত্রে ভাষা ও তথ্য নিয়ে একটু সতর্ক তো তারা থাকতে পারে...!!!

এবারের আসরের পরের দিকে ক্রিস গেইল আসবেন বলে প্রেস রিলিজ দিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। খুব ভালো কথা। কিন্তু সেখানে তারা লিখেছে, "কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুঞ্জন ছিল, ব্যক্তিগত কারণে এবারকার বিপিএলে অংশ নেবেন না ইউনিভার্সাল বস খ্যাত ক্রিস গেইল।" 

অথচ গুঞ্জনের কিছু ছিল না। গেইল নিজেই বলেছেন যে বিপিএলের ড্রাফটে তার নাম কিভাবে এলো, নিজেই জানেন না। সংবাদমাধ্যম তার কথাই তুলে ধরেছে। নিজেরা অনুমান করেনি বা উড়ো খবর জানায়নি। তাহলে, আজকে চট্টগ্রাম দল যে জানাল, 'পরের দিকে গেইল আসবেন', এটিও কি গুঞ্জন? নিশ্চয়ই নয়! গেইল নিজে যা বলেছেন আগে, আজকে চট্টগ্রাম দল যা বলছে, সংবাদমাধ্যম সেসবই প্রকাশ করছে। গেইল এলে টুর্নামেন্টের জন্য ভালো, সংবাদমাধ্যমের জন্য ভালো, সব পক্ষের জন্য ভালো। অযথা গুঞ্জন কেন হবে? 

ব্যাপারটি হলো স্বচ্ছতার। আমাদের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা অনেক সময়ই এসব বুঝতে চান না। বিসিবি যেমন, অনেক সাধারণ ব্যাপারেও প্রায়ই রাখঢাক রাখে, অযথা জটিল করার চেষ্টা করে, চেপে যাওয়া বা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। অথচ নিজেরা প্রেস রিলিজে বা অন রেকর্ড সবকিছু স্পষ্ট করে বলে দিলেই সংশয়ের অবকাশ থাকে না, গুঞ্জন ছড়ানো বা অনুমান করার প্রয়োজন হয় না...

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের আজকের প্রেস রিলিজ ছিল আরও সব ভুল তথ্যে ভরা। তারা লিখেছে, বিপিএলে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে গেইল সফলতম ব্যাটসম্যান। সাধারণভাবে 'সফলতম ব্যাটসম্যান' বলা হয় তাকেই, যার রান সবচেয়ে বেশি। গেইলের স্ট্রাইক রেট, গড় অনেক ভালো বিপিএলে। কিন্তু মোট রানে তার চেয়ে বেশি আছেন ৫ জন। সফলতম কিভাবে? 

তবু ধরে নিলাম, সব মিলিয়ে সফল বলা হয়েছে। কিন্তু আরও লেখা হয়েছে, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কম বলে ফিফটি, সেঞ্চুরির রেকর্ড গেইলের। অথচ দুটি রেকর্ডই আহমেদ শেহজাদের (১৬ বলে ফিফটি, ৪০ বলে সেঞ্চুরি)। 

এই সাধারণ ভাষা, খুবই সাধারণ তথ্যগুলোও তারা ঠিক ভাবে দিতে পারেন না একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। বানান ভুলের ছড়াছড়ি নিয়ে বললামই না। কিভাবে তারা এসব করেন, কাদের দিয়ে চালিয়ে নেন, কে জানে!