ডিসকভারিং বাংলাদেশ

ভূটান ভ্রমণের খরচ বাড়ছে বাংলাদেশীদের জন্য!

প্রকৃতি তার নিজ হাতে খুব যত্ন করে সাজিয়েছে ভূটানকে। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত ছোট্ট এই দেশটা অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর। আর সেই সৌন্দর্য্যের সাক্ষী হতে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক ছুটে আসেন ভূটানে। প্রতিবেশী দেশ হওয়ায়, আর ভ্রমণের খরচটা নাগালের মধ্যে থাকায় হাজার হাজার বাংলাদেশীও ছুটি কাটাতে ছোটেন ভূটানে। কিন্ত সেই সুখের দিন শেষ হতে চললো বলে! নতুন পর্যটন আইন করতে যাচ্ছে ভূটান সরকার, সেই আইন অনুযায়ী, ভিসা-ফি বাবদ জনপ্রতি খরচ হবে ৪০ ডলার করে, সেইসঙ্গে সব খরচ বাদ দিয়ে ভূটানে এক রাত কাটানোর জন্যে বাংলাদেশীদের গুণতে হবে প্রায় ৬০০ টাকা করে! 

বাংলাদেশ থেকে ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিয়ে সড়কপথেও বাংলাদেশ থেকে ভূটানে ঘুরে আসা যেতো, বাড়তি কোন ভিসার দরকার ছিল না। বর্ডারেই মিলতো অন অ্যারাইভাল ভিসা। কিন্ত সেই নিয়মটাও তুলে দেয়া হবে নতুন আইনে। 

আমেরিকা-ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়া থেকে কেউ যদি ভূটানে বেড়াতে আসতে চায়, তাহলে তাকে প্রতিদিন ২৫০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২১ হাজার টাকা) ভূটান সরকারকে বিভিন্ন খাতে কর দিতে হয়, যার মধ্যে ৬৫ ডলার টেকসই উন্নয়ন ফি এবং বাকী ৪০ ডলার ভিসা ফি- এর অন্তর্ভুক্ত। তবে, বাংলাদেশ, ভারত ও মালদ্বীপের নাগরিকদের জন্য এতদিন এসব ফি মওকুফ করা ছিল, ফলে বাংলাদেশী পর্যটকদের এতসব ফি পরিশোধ করতে হতো না।

কিন্ত নতুন নিয়ম চালু হলে ভুটান যেতে অন্য দেশগুলোর মতোই উপমহাদেশের এই তিন দেশের পর্যটকদেরও ভিসা ফি’সহ আগেই আবেদন করতে হবে। পাশাপাশি, উন্নয়ন ফি’র জন্য প্রতিদিন গুনতে হবে ৫০০ ভারতীয় রুপী বা ৬০০ টাকা করে। অর্থাৎ প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ বা ভারতের পর্যটকেরা ভূটান ভ্রমণের সময় যে বাড়তি সুবিধাটুকু পেতো, সেটা নতুন আইন কার্যকর করার পর থেকে আর পাওয়া যাবে না। 

অনেকেই বলতে পারেন, এসব ফি বাড়ানো হলে ভূটান নিজেদের পর্যটন ব্যবসার পায়েই কুড়াল মারবে, বাংলাদেশী এবং ভারতীয় পর্যটকেরা আর ভূটানে ঘুরতে যাবে না। ভূটানের ইচ্ছেটাও সেরকমই। পর্যটকদের বাঁধভাঙা স্রোত নিয়ন্ত্রণ করার জন্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে তাদের সরকার। বাংলাদেশ এবং ভারতীয় অনেক পর্যটকই ভূটানে বেড়াতে গিয়ে সেখানকার আইন এবং ধর্মীর রীতিনীতিকে অশ্রদ্ধা করেন বলে প্রায়শই অভিযোগ ওঠে। একারণে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটক সংখ্যা কমিয়ে সেটিকে সহনশীল মাত্রায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে ভুটান।

এছাড়াও গত কয়েক বছরে এই অঞ্চলের ভুটান ভ্রমণকারীর সংখ্যা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এত বেশি পর্যটকদের পর্যাপ্ত খাদ্য ও আবাসনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে ভূটানকে, কারণ এমনিতেই ভূটান অনেক কিছুর ওপরে নির্ভরশীল। তাছাড়া পর্যটকের চাপের কারণে একটা অসম প্রতিযোগীতার সৃষ্টি হয়েছে আবাসন এবং পর্যটন ব্যবসায়। ফলে ভূটানের ক্ষুদ্র একটা অংশ বাংলাদেশী বা ভারতীয় পর্যটকদের দ্বারা লাভবান হলেও, সরকার কোন লাভ করতে পারছে না। পুরো সিস্টেমটাকে সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যেই ভারত এবং বাংলাদেশী পর্যটকদের বিশেষ সুবিধাটা কেড়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

আগামী মাসে ভূটানের পার্লামেন্টে এই প্রস্তাবটি ওঠার কথা রয়েছে। আইন পাশ হয়ে গেলে হয়তো ২০২০ সাল থেকে ভূটান ভ্রমণটাও মধ্যবিত্ত বাংলাদেশী পর্যটকদের জন্যে একপ্রকার বিলাসিতারই নামান্তর হয়ে যাবে। কারণ ভূটান সরকারের তরফ থেকেই জানানো হয়েছে, পাঁচজনের একটি পরিবারের চার-পাঁচদিনের ভ্রমণের জন্যে আগে যে বাজেট রাখা হতো, সেটা এখন ২০-২২ হাজার টাকা বেড়ে যাবে।