খেলা ও ধুলা

অশ্বিন, কী দরকার ছিল মুশফিক হবার?

ইউটিউবে খুব বিখ্যাত একটা সিরিজ আছে, 'নেভার সেলিব্রেট টু আর্লি' নামে। চূড়ান্ত বিজয়ের আগেই উদযাপন করে ধরা খেয়েছেন- এমন ক্রীড়াবিদদের ভিডিও ফুটেজগুলো নিয়েই বানানো হয়েছে সেগুলো। দশটা ভিডিও দেখলে আটটাতেই মুশফিকুর রহিমের ভিডিও ক্লিপটা থাকবেই। ভারতের বিপক্ষে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে ৩ বলে দুই রানের সমীকরণটা মিটে যাওয়ার আগেই উদযাপনে মেতে উঠেছিলেন মুশফিক, শেষমেশ ম্যাচটা জেতাতে পারেননি তিনি, এক রানে হেরেছিল বাংলাদেশ, মুশফিক নিজে আউট হয়েই ডেকে এনেছিলেন বিপদটা।

তবে আজকের পর থেকে সেখানে রবিচন্দন অশ্বিনের নামটাই দেখা যাবে, তালিকায় থাকবে তার উদযাপনের ভিডিওটাও। জাতীয় দলের বাইরে থাকা অশ্বিন এই মূহুর্তে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে খেলছেন তামিলনাড়ুর হয়ে। টি-২০ এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ছিল গতকাল। সেখানেই মুশফিক কান্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন অশ্বিন, তার জের ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতে ট্রোলের শিকারও হতে হচ্ছে ভারতীয় এই স্পিনারকে।

আগে ব্যাটিং করে বিশ ওভারে স্কোরবোর্ডে ১৮০ রান জড়ো করেছিল কর্ণাটক। জবাব দিতে নেমে উনিশ ওভারে তামিলনাড়ুর সংগ্রহ ছিল ১৬৮ রান। ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে প্রয়োজন তেরো রান, উইকেটে তখন অশ্বিন। ব্যাটসম্যান হিসেবে তার সুনাম মন্দ নয়, অলরাউন্ডার হিসেবেই ধরা হয় তাকে। ব্যাট হাতে দারুণ কিছু ইনিংসও আছে তার, একারণেই এমন পরিস্থিতিতে দলকে উদ্ধার করবেন অশ্বিন, এরকম আশা তো ছিলোই।

কর্ণাটকের বোলার কৃষ্ণাপ্পা গৌতমের শেষ ওভারের প্রথম দুই বলেই দুটো বাউন্ডারি হাঁকালেন অশ্বিন, সমীকরণটা নেমে এলো চার বলে পাঁচ রানের। এরমধ্যে দ্বিতীয় চারটা হলো ক্যাচ মিস করে! ম্যাচ পকেটে চলে এসেছে ভেবে অশ্বিনও হাতের মুষ্ঠি উঁচিয়ে একপ্রস্থ উদযাপন করে ফেললেন। কিন্ত গল্পের অনেকটাই তখনও বাকি ছিল। টুইস্টটা যে আসেনি তখনও!

২০১৬ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটাতেও দুটো চার মেরে বাংলাদেশকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন মুশফিক, বোলার হার্দিক পান্ডিয়া হতভম্ভ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্ত উইকেটের পেছনে একজন মহেন্দ্র সিং ধোনি ছিলেন, তার ক্ষুরধার মস্তিস্কের জোরেই সেই ম্যাচটাতে উতরে গিয়েছিল ভারত। কৃষ্ণেন্দুর জন্যে ধোনি ছিলেন না গতকাল, কর্নাটকের এই বোলার নিজের নার্ভটা ধরে রাখলেন নিজেই। আস্থা হারালেন না, জায়গামতো বল ফেলার প্রতীজ্ঞা নিয়ে দৌড়ে এলেন আবারও।

তৃতীয় বলে কোন রান এলো না, চতুর্থ বলে এক রানের জন্যে ছুটলেন অশ্বিন, প্রান্ত বদল হলো। স্ট্রাইকে এলেন সেট ব্যাটসম্যান বিজয় শঙ্কর, তার নামের পাশে তখন ৪৪ রান। কিন্ত কৃষ্ণেন্দুর দুর্দান্ত বোলিঙে ক্যাচ তুললেন বিজয়, অশ্বিন ছুটে এলেন স্ট্রাইকিং এন্ডে। শেষ বলে আবারও মুখোমুখি দুজনে, জয়ের জন্যে তামিলনাড়ুর প্রয়োজন এক বলে চার রান। কিন্ত শেষ বলটা থেকে অশ্বিন নিতে পারলেন মাত্র এক রান। ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো তার উদযাপন, উল্লাসে ভাসলেন কর্ণাটকের খেলোয়াড়েরা, তাদের মধ্যমণি ছিলেন স্নায়ুচাপ সামলে শেষ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করা কৃষ্ণেন্দু।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, মুশফিকের সেই বোকামীর পরে তাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি মজা করেছিল ভারতীয় মিডিয়া। তারাই এখন অশ্বিনের ঘটনার পরে অশ্বিনের পাশে দাঁড়িয়ে স্বান্তনা দিচ্ছে। ভারতীয় মিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, এটা আবেগের বহিঃপ্রকাশ! অন্য দলের ক্রিকেটার হলে বোকামি, আর নিজেদের হলে আবেগ- এমন অদ্ভুত হিপোক্রেসির মানে কি, সেটা ইন্ডিয়ান মিডিয়াই ভালো বলতে পারবে। তবে একটা জিনিস তো নিশ্চিত- আগেভাগে উদযাপন জিনিসটা কখনোই ভালো নয়, সেটা মুশফিক করুন কিংবা অশ্বিন!