ছবি কথা বলে

বিবর্ণ এই নাগরিক শহরে আমি প্রেম নিয়ে এসেছিলাম..

আফরিন আঁখি: বিবর্ণ এই নাগরিক শহরে আমি প্রেম নিয়ে এসেছিলাম। শুনেছিলাম এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একটা প্রেমিক যুগল কখনও সখনও হারিয়ে যেত 'নিখোঁজ হওয়া' টাকে জরুরি খবরের তালিকায় ফেলে। প্রেমিকার গায়ের নীল শাড়ির ভাজের কথা ভেবে কখনও গেয়ে ফেলেছিলেন 'আবছা নীল তোমায় লাগে ভালো।' কিংবা 'মেঘ বলেছে যাবো যাবো' গাইতে গাইতেও হয়তোবা ভেবেছিলেন হারিয়ে ফেলা প্রেমিকার কথা। ভালোবাসলে বুঝি সব গোলমাল পাকিয়ে ফেলে প্রেমিক-প্রেমিকারা?

কি জানি! হয়তোবা এই অসম্ভব জট পাকানো মস্তিষ্কে ব্যর্থ প্রণয়ের কথা ভাবা বন্ধ করতেই প্রশ্ন ফেঁদে বসেছিলেন 'ফুলগুলো সব লাল না হয়ে নীল হলো ক্যান?' প্রেমিকাকে বোধহয় তিনি মন্দ বাসতেন না। তাই বোধহয় অপূর্ণতার ক্ষিধায় কিংবা অভিযোগ, অনুযোগ,আক্ষেপ সব কিছুর উর্ধ্বে গিয়ে কেবল গেয়েছিলেন, 'তোমার দেয়া আমার কোনো নাম ছিল না,নাম ছিল না।' সত্যিই কি ছিলো না?

আচ্ছা! তাদের গত হয়ে যাওয়া বর্ষাগুলোর কথা গুলো ভেবে কখনও চোখ ফেটে কান্না আসে? একা একা বসে রঙিন স্বপ্ন বুনতে পারে? এই বিবর্ণ নাগরিক শহরে বসে কখনও সখনও ভালোবেসেছিলে ওপারের দেবীকে অর্ণব দা? কখনও তোমার গাওয়া গানের মতোই মনে হয়েছিলো সত্যিই 'এই শহর আমার?' খুব জানতে ইচ্ছে করে,জানো! আমাদের মতো হাজার হাজার প্রেমিক/অ-প্রেমিক,প্রেমিকা/অ-প্রেমিকার কাছে তোমাদের প্রেম ছিলো অসাধারণ,অন্যরকম,অসম্ভব সুন্দর একটা সৃষ্টি। সেই প্রেম আর যাই হোক, বাঁচে। সহস্রবছর...

এই প্রেমের বর্ষা কখনও গত হয়না। তোমার /তোমাদের সৃষ্টিগুলোকে আমাদের মতো মরে যাওয়া প্রেমিকারা লালন করে বেঁচে থাকার ভান করে চলেছি সহস্র বর্ষা ধরে, তাই তোমাদের সৃষ্টিকে আরেকটা বার সৃষ্টি করে বাঁচলাম অর্ণব দা! এই পাগলের ভালোবাসাটুকু নিও! নেবে অর্ণব দা? পুরোনো কোনো এক বর্ষা মনে করে ফুলের লাল নীল রঙের ব্যাবচ্ছেদ করতে করতে একবার কেঁদো মন খুলে, খুউউউউববব কেঁদো, হ্যাঁ? এই বিবর্ণ নাগরিক শহরের প্রেমিক-প্রেমিকা,অ-প্রেমিক,অ-প্রেমিকা সবাই তোমাকে ভালোবাসে, তোমাদের ভালোবাসে।

ছবি কৃতজ্ঞতা- লেখিকা