টেকি দুনিয়ার টুকিটাকি

আগন্তুক: বাংলাদেশের পটভূমিতে নির্মিত হচ্ছে কম্পিউটার গেম!

কম্পিউটারে গেমস খেলেছে, অথচ গ্র‍্যান্ড থেফট অটো বা জিটিএ ভাইস সিটি গেমটির নাম শোনেনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। ওপেন ওয়ার্ল্ড গেমগুলোর মধ্যে বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় গেমের মধ্যে এটি একটি। কৈশরে কতশত ঘন্টা কাটিয়েছি একেকটা মিশন কমপ্লিট করার নেশায়, ইচ্ছেমতো মানুষ মেরেছি, ভাইস সিটির বাংলা ভার্সনে ঢাকাইয়া বা নোয়াখালীর উচ্চারণে সংলাপ শুনে হেসে গড়িয়ে পড়েছি। 

ঠিক জিটিএ ভাইস সিটির আদলেই এবার তৈরি করা হয়েছে সম্পূর্ণ বাংলাদেশী একটি গেম, সেটির নাম রাখা হয়েছে আগন্তুক। গত পনেরোই নভেম্বর ভারতে এই গেমটির ট্রেলার প্রকাশ করা হয়েছে, এবং সেই ট্রেলারটি মোটামুটি চমকে ওঠার মতোই। ঢাকার পটভূমিতে নির্মিত এই গেমটির গ্রাফিক্স চমৎকার, রাস্তায় দেখা মিলছে রিকশার, শ্যাওলা ধরা ভাঙাচোরা দেয়াল আর রাস্তাঘাট যেন ঢাকার প্রতিনিধিত্ব করছে শতভাগ। 

বিদেশী কোন শহর আর চরিত্রের ওপর শুধু বাংলা ভাষাটা জোর করে চাপিয়ে দেয়া কোন ব্যাপার নয় এটা, বাংলাদেশের রাজধানীকে পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলার জন্যেই যেন আগন্তুকের আগমন! জায়গার নামগুলো একটু অন্যভাবে লেখা, কিন্ত বুঝে নিতে সমস্যা হয় না মোটেও। সদরঘাটে ভেড়ানো ঢাকা টু চাঁদপুরের লঞ্চ, বুড়িগঙ্গা নদী- সবকিছুই আমাদের অতি পরিচিত। 

আড়াল থেকে একটা ভরাট কণ্ঠস্বর বলে চলেছে- 'এই ছোট শহরে যদি হ্যাডম পাইতে হয়, সবাই চিনবে-জানবে এরকম একখান কাম কামাইবার চাইলে দুইটাই পথ। হয় খায়া না খায়া সাধনা আর পরিশ্রম কইরা নাম কামানি, আর নাইলে বড় নামের হ্যাডমওয়ালা কাউরে মাইরা ফালানি...' সংলাপের সঙ্গে সঙ্গে পর্দায় ভেসে উঠছে রোজকার ঢাকা শহরের চালচিত্র, গুলির শব্দে পাখির উড়ে যাওয়া, গুলিবিদ্ধ দেহের পতন- দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ব্যাপারগুলো। 

'আগন্তুক' গেমটির ডেভেলপ করেছে M7 Productions এবং Attrito। এই গেমের পুরোটা জুড়েই আছে ঢাকা শহর, প্রত্যেকটি জায়গায় থাকবে সংশ্লিষ্ট বৈচিত্র। এত বড় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী গেম বাংলাদেশের গেম ডেভেলপিং ইন্ডাস্ট্রি আগে কখনও তৈরি করেনি, এত বড় পরিসরে কোন চেষ্টাও করা হয়নি। গেমটির প্রত্যেকটি মিশনে থাকবে ধারাবাহিক কাহিনী। কন্সোল গেমারদের জন্যে চিন্তার কোন কারণ নেই, কারণ গেমটি একাধারে পিসি এবং প্লে-স্টেশন ৪ এর জন্য রিলিজ হবে।

'আগন্তুক' গেমটি তৈরি হয়েছে ইউনিটি ইঞ্জিন দিয়ে এবং প্রায় ১ বছর সময় লেগেছে এ পর্যায়ে আসতে। গ্রাফিক্সের খুঁটিনাটি কাজগুলো এরইমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। আগন্তুক গেমে রিকশা, সিএনজি সহ এমন অনেক কিছু আছে, যা শুধুই আমাদের দেশের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সেরা ওপেন ওয়ার্ল্ড গেমস গুলোর গ্রাফিক্স থেকে খুব বেশী পিছিয়ে নেই গেমটি। আগন্তুকেত ডেভেলপমেন্ট এখনও চলমান, অর্থাৎ এখনও বিভিন্ন অংশে উন্নতি চলমান তাই সিস্টেম রিকোয়ারমেন্ট প্রকাশ করা হয় নি।

এমন চমৎকার একটা জিনিস আসতে চলেছে, পুরো একটা কম্পিউটার গেম রিলিজ পাবে বাংলা ভাষায়, বাংলা পটভূমিতে, অথচ সেটা নিয়ে খুব একটা আলোচনা নেই কোথাও। মিডিয়াগুলোকেও এগিয়ে এসে সাপোর্ট দিতে দেখা যাচ্ছে না এখনও। পঁয়ত্রিশ জনের একটা টিম নিরলস খেটে চলেছে আগন্তুককে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্যে, একটু প্রচারণা আর ধন্যবাদ তো তাদের পাওনা। সেটা দিতে আমরা এত কার্পণ্য করলে ভবিষ্যতে এমন দুর্দান্ত কিছু করার আগে যে কেউই দশবার ভাববে...