টেকি দুনিয়ার টুকিটাকি

ফলো আপ: সেই তরুণ এবার ল্যাপটপ উপহার পেলেন

কয়েকদিন আগের ঘটনা। মাত্রই একটা নতুন ল্যাপটপ কিনেছিলেন সন্তোষ বড়ুয়া। তারপরই ধরা পড়লো মায়ের ক্যান্সার। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্যে প্রয়োজন অনেকগুলো টাকা। তাই সন্তোষ যে দোকান থেকে ল্যাপটপ কিনেছিলেন, সে শপের ফেসবুক গ্রুপে তার সদ্য কেনা আসুস ল্যাপটপ বিক্রির পোস্ট দিয়েছিলেন। আর তারপরেই ঘটে মানবিক এক ঘটনা। স্টারটেক শপ থেকে জানানো হয় ল্যাপটপ তাদের দোকানে নিয়ে গেলে পুরো অর্থই ফেরত দেয়া হবে। শুধু তা-ই নয়, আসুস ও স্টারটেক প্রয়োজনে আরো সাহায্য করার প্রতিশ্রুতিও দেয়। এই ঘটনা নিয়ে এগিয়ে চলো'তে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। বিস্তারিত- একটি ল্যাপটপ, ফেসবুক স্ট্যাটাস এবং মানবিকতার গল্প… যাহোক, এই ঘটনার আপডেট বলি এখন। ল্যাপটপের পুরো অর্থ ফেরত তো পেয়েছিলেনই, বিক্রি করতে গিয়ে কোনো অর্থ গচ্ছা দিতে হয়নি সন্তোষকে। এবার তিনি পেলেন আরো বড় সারপ্রাইজ। এবার সেই ল্যাপটপটাই উপহার পেলেন সন্তোষ৷ ফেসবুকে তিনি আপডেট জানিয়ে লিখেছেন একটি পোস্ট৷ "মায়ের ক্যান্সার এর রিপোর্ট আসা মাত্রই আমার মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়ে, কি করবো না করবো আমি বুঝে উঠতে পারি না টাকার দরকার তাই সিন্ধান্ত নেই আমার ১০ দিন আগেই কেনা ল্যাপটপটি বিক্রি করে দিবো যেহেতু আমি স্টার টেক থেকে আমার ল্যাপটপটি কেনা তাই আমি এই গ্রুপে ল্যাপটপ বিক্রির পোষ্টটি দেই। আমি কখনো ভাবিনি যে স্টার টেক আমাকে এই ভাবে একটি সাপোর্ট দিবে। আমি একদিন পরেই আমার ল্যাপটপের ফুল রিফান্ড নিয়ে আসি। ল্যাপটপটি দিয়ে আসার পর আমার খুব খারাপ লেগেছিল খুব শখ করে আর টাকা জমিয়ে এই ল্যাপটপটি কিনেছিলাম। একদিকে মায়ের অসুস্থতা অন্য দিকে ল্যাপটপটি দিয়ে আসা সব মিলিয়ে মনটাকে কোন ভাবেই শক্ত করতে পারছিলাম না। এরপর আমাকে আবার স্টার টেক থেকে কল করা হয়। আমি সেখানে যাই, আমি সেখানে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি, আমি কখনো চিন্তাই করি নি এমন একটি গিফট আমার জন্য এখানে অপেক্ষা করছে। স্টার টেক ও আসুস আমাকে আমার সেই শখের ল্যাপটপটি গিফট করছে। আজকে আমাকে স্টার টেক এর ডিরেক্টর, আসুস বাংলাদেশ এর চ্যানেল পার্টনার, ও গ্লোবাল ব্র্যান্ড এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার উপস্থিত থেকে আমাকে আমার সেই ল্যাপটপটি দিয়েছে, আমার মায়ের জন্য তারা দোয়া করেছে।" এই সাপোর্টটুকু এক ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের সন্তানের জন্য অনেক বড় পাওয়া। কেউ যদি ভাবে, তারা সাহায্য করছে নিজেদের প্রচারণার জন্যে, ভাবতেই পারে। কিন্তু আমি ছেলেটির জায়গায় নিজেকে দাঁড় করালাম। যে পৃথিবীতে আমরা এখন বাস করি, এখানে কেউ কারো পাশে দাঁড়াতেও দ্বিধায় ভোগে। সামান্য সমর্থনও আশা করা দুরাশা হয়ে যায় অনেক সময়৷ সেই জায়গা থেকে এই ঘটনা অনুপ্রেরণার সন্তোষের জন্যে নিশ্চয়ই, সাহস পাবেন এই দুঃসময়ে এরকম সমর্থনের জন্যে। তিনি দোয়া চেয়েছেন, বলেন- "মা কে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আজকে পাসপোর্ট এর জন্যে আবেদন করা হয়েছে। আপনারা আমার মায়ের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন। যারা প্রতিনিয়ত আমার মায়ের খবর নিচ্ছেন সবাইকে পাশে থাকার জন্যে অশেষ ধন্যবাদ।"

  • ট্যাগ