মিনারেল ওয়াটারের ব্যবসা দিয়ে শুরু করেছিলেন যাত্রা৷ সেটা দিয়েই আজ তিনি চায়নার প্রথম, এশিয়ার দ্বিতীয় এবং বিশ্বের সতেরোতম ধনী ব্যক্তি, পেছনে ফেলেছেন আলিবাবার জ্যাক মাকে!

চীনের ধনী বলতে আমরা আলীবাবার জ্যাক মা'কেই চিনি হয়তো অনেকে। কিন্তু একজন বোতলজাত পানির ব্যবসায়ী যে টেক জায়ান্ট আলীবাবার প্রতিষ্ঠাতা'কে এক হাত দেখিয়ে দেবে, সেটা কেই বা কবে ভেবেছিলো! সেই ভদ্রলোকের নাম জং শানশান। কামান দাগানোর মত বিদঘুটে নাম আপনার মনে হতেই পারে। কিন্তু এই ভদ্রলোক অর্থবিত্তের দিক দিয়ে শুধু জ্যাক মা'কেই টেক্কা দিয়েছেন, তা না। তিনি এখন এশিয়ারও দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী। যথারীতি এক নাম্বারে থাকা মুকেশ আম্বানির পরেই আছেন তিনি।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পরে অনেকের ব্যবসাতেই মন্দা দেখা দিলেও শানশানের ব্যবসায় কোনো আঁচড় তো পড়েইনি বরং ২০২০ সালে জং এর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে ৫১৯০ কোটি ডলার!  অ্যামাজনের জেফ বেজোস ও টেসলার এলন মাস্ক বাদে এবছর আর কারো সম্পত্তি এত বেশি পরিমাণে বাড়েনি। জানা যায়, ১৯৯৬ সালে চীনের ঝেঝিয়াং প্রদেশে জং গড়ে তুলেছিলেন ‘নংফু স্প্রিং’ নামের বোতলজাত পানির কোম্পানি। সেই কোম্পানিটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে যায়, সেটিই এখন তাকে দেখাচ্ছে লাভের মুখ। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। এ বছরের এপ্রিল মাস নাগাদ তিনি একটি চাইনিজ ভ্যাকসিন উৎপাদক কোম্পানির মালিকানাও কিনে নিয়েছিলেন। সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা থেকে তিনি বুঝেছিলেন, মহামারীর সময়ে ভ্যাক্সিনের মালিকানা কিনলে লাভ আসতে পারে। তিনি লাভের মুখ দেখেছেন এখান থেকেও। দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে করোনার টিকা বানানোর কাজও করে যাচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান।

অধ্যবসায় তাকে পরিণত করেছে চীনের শীর্ষ ধনীতে!   

'নংফু স্প্রিং' এর পানির বোতল দখল করে নিয়েছে প্রায় পুরো চীনকেই। এছাড়াও এই 'নংফু স্প্রিং' কোম্পানি চা, জুস ও ভিটামিন সিরাপও বানিয়েছে। এ কোম্পানির প্রত্যেকটা পণ্যই ব্যবসাসফল হয়েছে। এবং এ কথা বলতে মোটেও দ্বিধা নেই, 'নংফু স্প্রিং'ই জং শানশানের তুরুপের তাস, যেটি তাকে আজকের এ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে!

চীনের 'লোন উলফ' জং শানশান হয়তো বেশিদিন এই 'শীর্ষ ধনী'র শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারবে না। কারণ জ্যাক মা খুব বেশিদিন পিছিয়ে থাকবেন, এরকম না। এমনিতেও গত ছয় বছর ধরে জ্যাক মা চীনের শীর্ষ ধনী। তবে সাময়িক সময়ের জন্যে হলেও জং শানশানের এ উত্থান একটিই বার্তা দেয়, চাইলে খুব অল্প কিছু থেকেও বড় হওয়া সম্ভব। স্রেফ সাদা পানি বিক্রি করেও টেক জায়ান্ট আলীবাবার মালিককে হারিয়ে দেয়া, মোট সম্পদের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারে নিয়ে আসা এবং বিশ্বের মধ্যে সতেরোতম এবং গোটা চীনে এক নম্বর ধনী হওয়া সম্ভব!

এটাই তো অনুপ্রেরণার বিষয়! জং শানশান ঠিক এখানেই অদ্বিতীয়।

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা