সকল ক্ষেত্রে মাঠের খেলা বিবেচনা করেই শেষ সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। তার মানে এই না যে, তারিকের মতো প্রোফাইলের খেলোয়াড়দের লীগে এসে খেলে প্রমাণ করতে হবে...

যারা মাঠে বা মাঠের বাইরে ফুটবল চালান, তাদের কিছু তাত্ত্বিক জ্ঞান থাকা ভালো, যা অবশ্যই মাঠের ফুটবলকে সমন্বয় করেই বলতে যাচ্ছি আমি। এতে করে অযথা সিস্টেম লস হবে না। আমি যদি ইউরোপিয়ান লীগগুলোর সাথে বাংলাদেশের লীগের তুলনা করি, তাহলে ইংল্যান্ড/স্পেন/জার্মানির ৫ম টায়ার লীগের সমমানের হচ্ছে আমাদের লীগ। ওদিকে ইতালির ক্ষেত্রে তা হবে ৪র্থ টায়ার।

আমাদের ২-১ জন করে ডিফেন্ডার এবং ডিফেন্সিভ/সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ইংল্যান্ডের ৪র্থ টায়ারে খেলবার যোগ্যতা রাখে। ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার হিসেবে একমাত্র ইমন বাবুর সুযোগ আছে কিন্তু তার ডিফেন্সিভ কোয়ালিটি নিয়ে শঙ্কা আছে। এটাকিং জোনের খেলোয়াড়দের জন্য তা হবে খুবই কঠিন কারণ আপফ্রন্টে খেলা যে পরিমাণ ক্লিনিক্যাল হওয়া দরকার সেরকম এবিলিটির কেউ নেই আমাদের আক্রমণভাগে।

তবে হয়তো, ব্রাদার্স ইউনিয়নের আক্রমণভাগের মান্নাফ রাব্বি ইংল্যান্ডের ৪র্থ টায়ারে সুযোগ পেতেও পারে যদি তার ফিজিক্যাল ক্যাপাবিলিটি একটু কন্সিডার করে সেখানকার ক্লাব। ওদিকে স্পেনের ৪র্থ টায়ারে খেলা তার পক্ষে বেশ সম্ভব বলে মনে করি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই প্লেয়ারটা ২০১৫ থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের জাতীয় দলে ডাক পেলো না! সবই বাবু-রূপুদের কাজ-কারবার।

এখন উক্ত ৪টি দেশ থেকে নিচে ধাপে ধাপে বিবেচনা করে ইউয়েফা'র লীগ র‍্যাংকিং অনুসারে ইউরোপের অন্যান্য দেশের লীগের সাথে আমাদের লীগের তুলনা করা সম্ভব। এবং এই তুলনা সরল না বরং খানিক জটিল, পরে হয়তো আলোচনা করবো। এখন এই কথাগুলো কেন বলছি? কারণ হচ্ছে কাজী তারিকের ইস্যুটি।

ফিনল্যান্ডের অ১৯ জাতীয় দল পর্যন্ত প্রতিটি বয়সভিত্তিক দলে খেলেছে সে। প্রায় দুই মৌসুম ছিল ফিনল্যান্ডের টপ টায়ারে। এটাকার হিসেবে একজন তরুণ ফুটবলারের ব্রেক থ্রু পাওয়া আর ডিফেন্ডার হিসেবে ব্রেক থ্রু পাবার ভেতর পার্থক্য আছে। একজন তরুণ ডিফেন্ডার এর জন্য সিনিয়র দলে ব্রেক থ্রু পাওয়া এত সহজ না। মূলত একজন রাইট ব্যাক, তারিক তার ক্লাবের হয়ে মৌসুমের প্রায় অর্ধেক ম্যাচ খেলতে সক্ষম হয়েছিল।

প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে খেলে ইউরোপা লীগে। তার প্রতিটি সুযোগ ছিল ফিনল্যান্ডের অ২১ ও অলিম্পিক দল হয়ে সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ করে নেবার। সুযোগ ছিল ইউরোপের তুলনামূলক ভালো লীগে ট্রাই আউট করবার। এখন কারা কথা রটালো, বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলতে চাইলে নাকি আগে আমাদের লীগে খেলে প্রমাণ করতে হবে। পিতৃভূমিকে প্রতিনিধিত্ব করতে অত্যন্ত প্যাশনেট তারিক এসে পড়লো আমাদের এখানে।

এখন এখানে আসবার প্রসেস হিসেবে এবং তারপর এসে এখানকার আবহাওয়া, মাঠ, খাওয়া দাওয়া, সংস্কৃতি, দলের সাথে মানিয়ে নেয়া (তারিক তখন প্রি সিজন মোডে ছিল যেখানে বসুন্ধরার বাকি খেলোয়াড়েরা অলরেডি ম্যাচ ফিট হয়ে ওঠে) ইত্যাদি এবং অতঃপর করোনা। তার জীবন থেকে মূল্যবান প্রায় ২টি বছর হারিয়ে গেছে। না, চিন্তা করবার কিছু নেই। তারিক যে কোন সময় জাতীয় দলে তার নিজের মত করে জায়গা করে নিবে। কিন্তু তার সেই ২ মৌসুম নষ্ট হবার কোন দরকার ছিল না।

এখন এই দুর্দশা কাটানো যেত যদি আমাদের ফুটবল কর্তাদের মাথায় একটু ঘিলু থাকতো। সাথে কিছু দর্শকরা যারা বুঝে না বুঝে মন্তব্য করে বসে যে, 'তারিক এখনও নিজেকে প্রমাণ করতে পারে নাই লীগে!'। ওদিকে অস্কার ব্রুজনের মত হারামি যে কাজটা করেছিল গত মার্চে কুমিল্লাতে মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচে, তাতে যে কোন তরুণ খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার রীতিমত সংকটে পড়ে যেতে পারে। চোরটা নিজের অক্ষমতা ঢাকতে বলি দেয় নিজ দলের খেলোয়াড়দের। ফিনল্যান্ড অ১৯ দলের কাছে চোখ বন্ধ করে হারবে আমাদের জাতীয় দল। তারিকের মত খেলোয়াড়দের একটা প্রিভিলেজ তথা অধিকার আছে। তাদের ট্রায়াল দিতে হলে তথা প্রমাণ করতে হলে সরাসরি জাতীয় দলের ট্রায়ালে আসবে। যেমনটা জামাল ভূইয়া করেছিল।

জামাল ভূইয়ার ব্যাপারে বলি। তার শুরুর দিনগুলো এখানে কেমন ছিল? কী এমন আহামরি খেলোয়াড় সে? আসলেই তো, খুব আলাদা করে কি মাঠে চেনা যায় তাকে? কিন্তু আমি বলি ইউরোপিয়ান ফুটবল থেকে আসা খেলোয়াড়দের ব্যাপারটা কী।

তাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ফুটবল বেসিক এবং ফিটনেসের ব্যাপারে সচেতনতা। অনেক বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও ব্যবধান তারা বেশ কিছুটা কমিয়ে আনতে পারে এজন্য। তাই তুমুল চাপের মুখেও সহজে ঘাবড়ে যায় না, টেম্প্রামেন্ট ধরে রাখতে পারে বিশেষত ৬০ মিনিটের পর। আমাদের অন্যান্য খেলোয়াড়দের টেম্প্রামেন্ট কিন্তু প্রচুর ওঠা-নামা করে ম্যাচ বাই ম্যাচ। এক ম্যাচে ফাটিয়ে দেয় তো পরের ম্যাচে আশ্চর্যজনকভাবে নিষ্প্রভ। অন্য দিকে সবচেয়ে খারাপ দিনেও জামাল ভূইয়া একটা এভারেজ পারফরম্যান্স দিবেই।

উপর্যুক্ত গুণগুলোর সাথে নো ননসেন্স হওয়াটাও অবদান রাখছে। আরও একটি ব্যাপার হচ্ছে, একই ম্যাচে কোন ভুল করে ফেললে দ্বিতীয়বার তা প্রায় ঘটবেই না। কাতারের বিপক্ষে গত এশিয়ান গেমসে তার ঐতিহাসিক গোলটি দেখুন। বল পাবার আগে পজিশনিং তারপর উইথ দ্য বল মুভমেন্ট, আশে পাশের খেলোয়াড়দের ব্যাপারে এওয়ারনেস, শ্যুট করতে স্পেস ও পজিশন করে নেয়া এবং অবশেষে ১৮ গজ থেকে গ্রাউন্ড প্লেসিং এ ফিনিশিং। একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ম্যাচিওরিটি দেখুন ম্যাচের শেষের দিকে এরকম ক্রাশিং মোমেন্টগুলোতে প্রতিপক্ষ ডি বক্সের কাছে, একেবারে স্ট্রাইকারসুলভ আচরণ। এর কারণ হচ্ছে তার বেসিক ফুটবল জ্ঞান। আমাদের আক্রমণভাগের লোকালি গ্রোউন খেলোয়াড়রা বছরের পর বছর খেলেও এরকম ফিনিশিং দিতে পারে না।

এশিয়াতে ফিলিপিনস, কিরগিজিস্তান, আফগানিস্তান ইত্যাদি দেশ এখন তাদের প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে। ২০১১ সালে ফিলিপিনসে তখন কিছু রেনডম ফরেইন বেজড ফুটবলার নিয়ে আমাদের ৩-০ তে হারিয়ে দেয় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাইপর্বে। তাদের ছিল মাস্ট উইন ম্যাচ, আমাদের দরকার ছিল স্রেফ ড্র। আর এখন তো ফিলিপিনস আর কিরগিকিস্তান রীতিমত জায়ান্ট কিলারে পরিণত হয়েছে এশিয়ান ফুটবলে।

জাতীয় দলে সুযোগ পেতে কঠোর পরিশ্রম করছেন তারিক কাজী

এখন জামালের খেলা আরও চোখে পড়ে। কীভাবে, কেন বলছি।

আগে ডিফেন্সিভ সক্ষমতা ভালো থাকলেও আক্রমণে জামাল এর অবদান থাকতো প্রায় শূন্যের কোঠায়, কিছু ডেড বল এ ডেলিভারি করবার চেষ্টা করতো কিন্তু মোটেও মান ছিল না। মাঝে একটা সময়ের ভেতর তার পারফরম্যান্স আসলেই অনেক নেমে গিয়েছিল। দারুণ সমালোচনা ওঠে চারিদিকে। সাথে জনি ও ফাহাদ ডিফেন্সিভ মিড হিসেবে খুবই ভালো করছিল কিন্তু তা স্বত্বেও জামালকে আমি সমর্থন দিয়ে গিয়েছিলাম স্রোতের বিপরীতে। কারণ জামালের মূল্য আমি বুঝি এবং জানতাম যে এটা স্রেফ সময়ের ব্যাপার।

পরে অত্যন্ত আনন্দ ও আশ্চর্যের সাথে খেয়াল করি বক্স টু বক্স মিডফিল্ডার হিসেবে জামালের উপস্থিতি। ডিফেন্সিভ ডিউটিতে শার্পনেস তো বেড়েছেই, সাথে আক্রমণে তার কোয়ালিটি, স্কিল ও ওয়ার্ক রেট সাথে ডেড বল সিচ্যুয়েশনে ডেলিভারি দেখে চমকে উঠি। এটা যদি কেউ বলতে চায় যে, স্রেফ জেমি ডে চাওয়াতে জামালের এই ট্রান্সফরমেশন তাহলে সে ভুল। কারণ অতীতে জামাল কখনই আক্রমণে ভালো ছিল না। খারাপ সময়টাতে সে নিশ্চিতভাবে আলাদাভাবে কাজ করেছে, রক্ষণাত্মকভাবে চিন্তা না করে উল্টো আগের দুর্বল জায়গাগুলো নিয়েও কাজ করেছে।

আগে থেকে ফুটবল বেসিক ছিল, স্রেফ পুনরোদ্ধার করে নিয়েছে পরিশ্রম করে। ফিটনেস যেন বয়সের সাথে সাথে আরও ধারালো হচ্ছে তার। ভূটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচগুলো ছিল যেন ট্রেইলার, পরে কাতার (ম্যান অফ দ্য ম্যাচ) ও ভারতের বিপক্ষে রীতিমত ঘোড়া ছুটিয়েছিল।

তাত্ত্বিক জ্ঞানের কথা বলছিলাম সাথে ইউরোপের বিভিন্ন লীগের সাথে সরলরেখায় আমাদের লীগ মেলাবার জটিলতা বলছিলাম। একদম স্পষ্ট ব্যাপারগুলোতে তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাধারণ ও ব্যবহারিক প্রয়োগ প্রয়োজন। এবং সকল ক্ষেত্রে মাঠের খেলা বিবেচনা করেই শেষ সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। তার মানে এই না যে, তারিকের মত প্রোফাইলের খেলোয়াড়দের লীগে এসে খেলে প্রমাণ করতে হবে।

আসবে সরাসরি জাতীয় দলের ট্রায়ালে। মাঠের খেলা বিবেচনার একটা উদাহরণ দেই। জোসেফ রহমান ২০১৫ সালের মাঝামাঝি আসলো সুইডিশ ৬ষ্ঠ টায়ার থেকে। জাতীয় দলের ট্রায়ালেই এসেছিল প্রথমে। মামুনুল মিডিয়াতে বললো, সে নাকি জামাল ভূইয়ার থেকেও ভালো খেলোয়াড়। কথাটা আমি মোটেও পাত্তা দেই নাই। সময় গড়িয়ে যায়। জোসেফ শেখ জামাল থেকে ব্রাদার্সে যায় আর বেঞ্চড হয়ে থাকে।

২০১৭ সালের শেষের দিকে সাইপ্রিয়ট কোচ আসে ব্রাদার্সে, নাম নিকোলাস ভিটোরোভিচ। সে আসলে মৌসুমের শুরুতে খেলোয়াড় হিসেবে এসেছিল, লীগের প্রথম হাফ শেষে রেলিগেশন জোনে থাকা দলটির দায়িত্ব ছেড়ে তৎকালীন কোচ চলে যাবার পর নাটকীয়ভাবে কোচিং এর দায়িত্ব পায় নিকোলাস। সে এসেই সুযোগ দিল জোসেফ কে আর জোসেফের খেলা দেখে আমি পুরাই হা। এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার যেখানে কিনা জাতীয় দলের একাদশে খেলার যোগ্যতা রাখে সেখানে কিনা মধ্যম মানের ক্লাবেই জায়গা হচ্ছিল না ২টা বছর ধরে। আমার তো পুরাই মাথা খারাপ হয়ে যায়। কি ধরণের সিন্ডিকেট চললে এরকম অবিচার হতে পারে।

একই ঘটনা ২০১১ সালে ইতালির ৩য় টায়ার থেকে আসা ইসমাইল জনি নামের এক মিডফিল্ডারের। তার টাচ দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম জাতীয় দলে খেলবার যোগ্যতা রাখে সে চোখ বন্ধ করে। আর সে কিনা বিফল একটা ঘরোয়া মৌসুম শেষে ইতালিতে ফিরে যায়। এভাবে আর কত দিন? ঘরোয়া লীগে খেলে প্রমাণ করতে হবে এরকম বেইজলেস কোন ডকুমেন্ট ছাড়া কথাবার্তা পরিহার করতে হবে। এসব বলা মানে ফুটবলের সিন্ডিকেটগুলোকে লাই দেয়া। জোসেফের উচিত ছিল জামালের মত ইউরোপে ক্লাব ক্যারিয়ার রেখে শুধু জাতীয় দলের ট্রায়ালে লেগে থাকা। জামাল কিন্তু ২য় বারে সফল হয়েছিল ট্রায়ালে।

বসুন্ধরা থেকে হারনান বারকোস গিয়েছে ইতালির ৪র্থ টায়ারে। তার এখনও সিরি বি তে খেলবার যোগ্যতা আছে একদম অবধারিতভাবে। কিন্তু বয়স বেশি, করোনা কাল সাথে বাংলাদেশের লীগে এসে নিজের প্রোফাইল অনেক নামিয়ে ফেলাতে এই অবস্থা।

তারিকের কথা বলছিলাম। গত মার্চে কি দেখলাম তাকে আর এখন কি। ফিজিক্যাল প্রেজেন্স রীতিমত ঈর্ষণীয়। যেন বাংলাদেশের আডামা ট্রায়োরে। গত ৬টা মাস ফিনল্যান্ডে নিজের সাবেক ক্লাবের সাথে ট্রেনিং করেছে সাথে আলাদাভাবে জিম। একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের জন্য এরকম কোন কম্পিটিটিভ খেলা ছাড়া দিনের পর দিন শুধু অনুশীলন করে যাওয়া অত্যন্ত এবং অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে খেলবার স্পৃহাটা দেখুন তার। ইউরোপীয় ঘরানায় বড় হবার মানসিক দৃঢ়তা দেখুন। তার পাশে রায়হান হাসানকে চিন্তা করলেই তো হাসি পায় আমার যে কিনা রূপুর এক্সক্লুসিভ আশীর্বাদে জাতীয় দলে পুনর্জীবন পেয়েছে।

এখানে আমি আমাদের লোকাল গ্রোউন ফুটবলারদের খাটো করছি না লেখাটিতে। জামালের চেয়ে আজও খুব ভালো সব ফুটবলার আছে আমাদের। কিন্তু বেসিক ফুটবলের অভাব, ফিটনেস ইস্যু, আমাদের ফুটবলের মাঠ সমস্যার সাথে ওভারল স্ট্রাকচারের অভাব ইত্যাদি তাদের কে সব সময় পিছিয়ে রেখেছে।

তাহলে গোলকিপার সোহেলের কথা শুনুন। সে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে কিপিং করবার সক্ষমতা রাখতো। জ্বি হ্যাঁ, আবার পড়ুন এবং আমি বলছি 'রাখতো'। আমি মোটেও আবোল তাবোল বকছি না। আমিনুল ও বিপ্লব, এই দুই গ্রেটের তুলনায় তার শারীরিকতা ঈর্ষণীয় এবং সে হিসেবে বারের যে কোন দিকে তার ওভারল রিচ ক্যাপাসিটি। তার গ্রিপ বিশ্বমানের, এত লম্বা হওয়া স্বত্বেও গ্রাউন্ডারে রিফ্লেক্স ডিলাইটফুল, ওয়ান টু ওয়ানে মুখোমুখি হবার টাইমিং ও ট্যাকনিক অনবদ্য।

হ্যাঁ, পজিশনিং পুরোপুরি সন্তোষজনক না সব সময় তবে তার ক্ষেত্রে কাজ করে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব ছিল। কিন্তু এক, বলের ফ্লাইট বোঝবার অক্ষমতা এবং তা থেকে সময়ের সাথে উদ্ভূত ম্যাচ টেম্প্রামেন্টের ঘাটতি তাকে আজ জাতীয় দলের জন্য একেবারেই আনফিট করে দিয়েছে। এখনও সময় আছে তার কাজ করে ফিরে আসার। সোহেলকে দেখলেই হতাশায় মুষড়ে যাই, জাতীয় দলের ভোগান্তি ও তার নষ্ট হবার কথা ভেবে। আবাহনীর কিপিং কোচ আতিক কী করলো এতগুলো বছর?

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা