করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তারা, কিন্তু হেরে যাননি। বুকে সাহস নিয়ে লড়েছেন, ভুগেছেন। তবু শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে তাদেরই। করোনার বিপক্ষে যুদ্ধজয়ের এই গল্পগুলো হয়তো আপনাদের সাহস যোগাবে। তাই আমাদের নিয়মিত আয়োজন- সেপনিল প্রেজেন্টস করোনাজয়ী'র গল্প।

সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করেই চলাফেরা করেছিলেন তিনি, বাসা থেকে বের হয়েছিলেন শুধু অফিসে যাওয়ার জন্য। তবুও করোনার আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান হিমু। বাসায় অসুস্থ বাবা-মা, স্ত্রী গর্ভবতী, পৌনে তিন বছর বয়সের বাচ্চা- সবকিছু সামলে করোনার সঙ্গে তার লড়াইটা ছিল ভীষণ কঠিণ। সেই যুদ্ধে জয়ী হয়ে তিনি ফিরে এসেছেন পরিবারের মাঝে, শুরু করেছেন স্বাভাবিক জীবন। নিজের করোনাজয়ের গল্পটাই আজ শোনাচ্ছেন আতিকুর রহমান হিমু।

আতিকুর রহমান হিমু: সরকার যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিলো তার আগে থেকেই ঘরে ছিলাম, ইনফ্যাক্ট ২০ মার্চ, ২০২০ থেকেই ছিলাম ঘরে। মার্চের ১২ তারিখ থেকে বাইরে যাওয়া বন্ধ ছিলো, শুধু অফিস বাদে। অফিসে যাতায়াতের সময় হেটেই যাতায়াত করেছি। সরাসরি বাসা থেকে অফিস, অফিস থেকে বাসা। অরিজিনাল কেএন৯৫ মাস্ক, চোখে চশমা পরে অফিসে যেতাম, সাথে স্প্রে করা যায় ৮০% এলকোহলযুক্ত একটা হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকতো সবসময়। অফিস থেকে বাসায় এসে সোজা বাথরুমে ঢুকে গরম পানি দিয়ে গোসল করতাম এবং কাপড় চোপড় সব ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলতাম। এতোসব বলা এটা বুঝাতে যে আমার প্রস্তুতি বা সতর্কতায় কোন ঘাটতি ছিলনা। যাই হোক এবার আসল ঘটনায় আসি।

সাথে রাখুন সেপনিল হ্যান্ড স্যানিটাইজার

উপসর্গ- এপ্রিলের ২৫ বা ২৬ তারিখে গলায় খুবই মৃদু খুশখুশে ভাব, যা সব সময় থাকতো না। এপ্রিলের ২৮ তারিখ সন্ধ্যায় ইফতার করি, ইফতারের পরপরই পেটে অস্বস্তি অনুভব করছিলাম এবং হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই পাতলা পায়খানা হয়। পরপর দুইবার টয়লেটে যাবার পর পাতলা পায়খানা চলে যায়, কিন্তু পেটের নিচের অংশে অস্বস্তির ভাব ছিলো। যেহেতু আমি নিয়মিত অফিসের কাজে বাইরে যাচ্ছিলাম তাই আমি নিজেকে মোটামুটি করোনায় আক্রান্ত ধরে নিয়ে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেললাম, এবং অন্য একটা ঘরে চলে গেলাম তৎক্ষণাৎ। মানে নিজেকে পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদা করে ফেললাম মুহূর্তের সিদ্ধান্তেই। 

করোনা পরীক্ষা- এপ্রিলের ২৯ তারিখ ভোরবেলা গেলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এর ফিভার ক্লিনিকে, সেখানে দুটি লাইন ছিলো। একটা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর একটি সাধারনের জন্য। সরকারি কর্মকর্তাদের লাইনে সকাল সাতটায় দাড়ালাম। অনেক অপেক্ষা, আর তিনটা (প্রথমে রাস্তায় ভেতরে ঢোকার লাইন, পরে আউটডোর টিকেট কেটে ডাক্তার দেখানোর সিরিয়াল, সবশেষে স্যাম্পল দেয়ার সিরিয়াল) লাইন শেষে আমার স্যাম্পল দিয়ে আসলাম। বাইরে বের হয়ে দেখি ঘড়িতে দুপুর ১২.২০ বেজে গেছে।

সেদিন সন্ধ্যাবেলাতেই বিএসএমএমইউ এর ফিভার ক্লিনিক থেকে আমাকে করোনা পজেটিভ এই এসএমএস দিয়েছে। ওয়াইফকে আগেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলেছিলাম। তারপরও রেজাল্ট পাবার পরে বাসায় একটা ইমোশনাল ব্রেক ডাউন হলো। বলে রাখি, বাসায় আমার বাবা, মা আছেন যাদের বেশ কিছু কো-মরবিড ইস্যু আছে যা করোনার ক্ষেত্রে রেড ফ্ল্যাগড। এছড়া ওয়াইফও প্রেগন্যান্ট, সাথে দুই বছর আট মাসের বাচ্চা। সবমিলিয়ে বেশ জটিল একটা অবস্থা ছিলো।

যুদ্ধ হলো শুরু

রেজাল্ট আসার পরে সবার আগে ব্যবহারের টয়লেট আলাদা করে ফেললাম, নিজের খাবার দাবার আর আনুষাঙ্গিক তৈজসপত্র আলাদা করে ফেললাম। এবার শুরু হয়ে গেলো পুরোপরি কঠোর আইসলেশন। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস বাসায় ছিলোনা, অনলাইনে আনিয়ে নিলাম। একটা ওয়াটার হিটার, অক্সিমিটার, নেবুলাইজার মেশিন এর সাথে ঔষধ, প্রেসার মাপার ডিজিটাল মেশিন, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঔষধ পত্র। ঔষধ পত্র বাড়ির সবার জন্যেই আনালাম, অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। একটা ছোট্ট নোটঃ ডাক্তারের পরামর্শের জন্য জাতীয় তথ্য বাতায়নগুলো খুব উপকারী বা হেল্পফুল না।

করোনাকাল যেমন কেটেছে

প্রথম কয়েকদিন পেটের সমস্যাটা ভুগিয়েছে। খুশখুশে কাশি ছিল। পরিচিত ডাক্তারদের সাথে যোগাযোগ রেখেছি। দিনে কমপক্ষে চারবার ৬-১০ মিনিট বড় বালতিতে চার লিটারের কাছকাছি ফুটন্ত গরম পানি নিয়ে ভাপ নিতাম। সাথে গরম পানিতে গোসল শুরু করলাম। গরম বা ঈষৎউষ্ণ পানি ছাড়া রুম তাপমাত্রার পানি পান করাও বাদ দিয়ে দিলাম। গরম ভাপটা খুব উপকারে আসা শুরু করলো। বিশেষ করে শ্বাস নেয়ায় সমস্যা মোটামুটি কমে গেলো। একবেলা করে নেবুলাইজার নিচ্ছিলাম। যদিও খুব কাজে দিচ্ছিলো মনে হয়নি তাই দুই দিন নিয়ে বাদ দিয়েছি। যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে আগে থেকে তাদের জন্য নেবুলাইজার খুব কার্যকরী জিনিস। মন চাঙ্গা রাখতে বন্ধুদের সাথে ফোনে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অডিও ও ভিডিও মাধ্যমে কথা বলা শুরু করেছি।

হালকা বুক ব্যথা ছিলো, ইতোমধ্যে বুক ব্যাথা স্টার্নাম রিজিওন ছেড়ে ডানে-বামে ঘোরাঘুরি শুরু করেছে। অর্থাৎ বুকের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাথা হচ্ছিলো, হালকা শ্বাসকষ্ট থাকলেও অতো পাত্তা দেইনি। অক্সিমিটার অর্ডার করলেও তখনো হাতে এসে পৌছায়নি। উপসর্গ অনেক কমে গিয়েছিলো। এর সাথে রুটিন পানির ভাপ, ঔষধ গ্রহণ অব্যাহত ছিলো। অক্সিমিটার হাতে আসায় অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল দেখা শুরু করলাম প্রতি আধা ঘন্টায়। লেভেল আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো ছিলো। ভালো মানে ৯৭%-৯৯% এর মধ্যে ছিলো।

তবে ভুগিয়েছে প্যানিক অ্যাটাক। পুরনো ব্যাকপেইন ফিরে এসেছিল, সবমিলিয়ে আক্রান্ত হবার পর সপ্তম দিনে গিয়ে প্রচন্ড মানসিক চাপের সম্মুখীন হলাম। হার্টরেট বেড়ে গেল পরদিন। নবম দিনে লুজ মোশন বন্ধ হয়ে গেলেও, শ্বাসকষ্ট আর বুকে ব্যথা ছিল। ইফতারের পর ভয়ানক খারাপ লাগতে শুরু করলো। বুকে চাপ দিতে লাগলো, শ্বাস নিতে কষ্ট হতে শুরু করলো, হাত পা সব অসাড় হয়ে যেতে শুরু করলো। বুক ধড়ফড় করতে শুরু করলো আর সাথে ঘামতে শুরু করলাম এবং শরীর ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগলো। এই সময়ে আমি একটা শিক্ষা পেয়েছি, একটা শিক্ষা পেলাম, বিপদে সঠিক সোর্স থেকে হেল্প না পেলে সে হেল্প বিপদ আরও বাড়াতে পারে। এই সংকটে একটা জিনিস নিশ্চিত করলাম ইমার্জেন্সী হলে কিভাবে কোথায় যাবো। কারণ আগে থেকে ঠিক না করা থাকলে, রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতেই জীবনাবসানের ঘটনাও কম না।

সস্ত্রীক আতিকুর রহমান হিমু

দশম দিনে ইমার্জেন্সি সিচুয়েশনের কথা ভেবে অনলাইনে একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার (সেটআপ সহ) এক মাসের জন্য ভাড়া নিলাম। সেদিনও প্যানিক অ্যাটাকের ওয়েভ এসেছে একের পর এক, তবে মানসিক প্রস্তুতি থাকায় ধাক্কাগুলো সামলাতে পেরেছিলাম। পরের দুইদিনে শরীর এবং মনের অবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে এলো। ১৪তম দিনে বাসায় এসে স্যাম্পল কালেক্ট করে, এরকম একটা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্যাম্পল জমা দিলাম, যদিও পুরো প্রোসেসটাতে অনেক যন্ত্রণা সইতে হয়েছে তাদের অব্যবস্থাপনার কারনে। তাদের রিপোর্টে করোনা নেগেটিভ এসেছে।

এরপর বিএসএমএমইউ এবং সলিমুল্লাহ মেডিকেলে দুইবার পরীক্ষা করিয়েও রেজাল্ট নেগেটিভ পেয়েছি। আইসোলেশনে যাওয়ার ২৩ দিন পর বের হলাম ঘর থেকে। রিকভার করছি খুব আস্তে আস্তে, শরীরে প্রচন্ড দুর্বলতা। মে মাসের উনিশ তারিখে তৃতীয় স্যাম্পলের নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে, তবুও সাবধানতার জন্য বাড়তি দুইদিন আইসোলেশনে ছিলাম। একুশ তারিখে নিজেকে করোনামুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে আইসোলেশন ভেঙেছি।

জরুরী জিনিস যা সংগ্রহে রাখতে হবে

আইসোলেশানে থাকার সময় কয়েকটি জিনিস অতীব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বাসায় না থাকলে সংগ্রহ করে রাখতে পারেন, সেগুলো হচ্ছে- পালস অক্সিমিটার, ব্লাড প্রেশার মনিটর, ব্লাড সুগার মনিটর, নেবুলাইজার। যাদের ডায়াবেটিস নেই তারাও ব্লাড সুগার মনিটর সংগ্রহ করে রাখতে পারেন, উহান ভিত্তিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে অনেকের কোভিড১৯ ইনডিউসড ডায়াবেটিস দেখা দিয়েছে। অবশ্যই একজন ডাক্তারের সাথে আগে থেকেই যোগাযোগ করে রাখবেন, বিপদে আপদে যেকোন সময় যাকে রিচ করতে পারবেন।

কি কি করবেন এবং করবেন না

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কোভিড-১৯ ম্যানেজমেন্টে সব ডাক্তারই মোটামুটি একই ধরণের ঔষধ সাজেস্ট করেন। যেহেতু স্পেসিফিক কোন ঔষধ নেই, কোভিড১৯ ম্যানেজমেন্টে তাই দৈনন্দিন জীবনাচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাভাবিক সুষম খাবার, কমপক্ষে ১০০-১৫০ গ্রাম প্রাণীজ আমিষ রাখার চেষ্টা করতে হবে, মাছ খাওয়া বেটার। প্রচুর পানি পান করতে হবে, সাথে ভিটামিন সি যুক্ত ফল ও ফলের রস খেতে হবে। দৈনিক ৪-৫ বার গরম পানির ভাপ নিতে হবে কমপক্ষে ৬-৮ মিনিট করে। ডাক্তারদের ভাষ্যমতে গরম পানির ভাপ শরীরের ভেতরের ভাইরাস পুরোপুরি না মারতে পারলেও শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখে এবং ভাইরাল লোড কমায়।

দৈনিক ৪-৫ বার কমপক্ষে ৫০০ এমএল চা (আদা, লবঙ্গ ও অন্যান্য মশলা সহযোগে) পান করতে হবে। চা বাদেও আদা, লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলা মিশিয়ে গরম পানীয় তৈরী করে পান করতে পারেন। অবশ্যই প্রত্যেকদিন গোসল করবেন, গরম পানি দিয়ে গোসল করা শরীরের জন্য ভালো এবং বেশ আরাম পাওয়া যাবে। অবশ্যই সময় মতো ঘুমাতে হবে। দিনে কমপক্ষে ০৮ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। এতে রিকোভারি সহজ হবে।

তেলে ভাজা খাবারসহ সকল জাংক খাবার পরিহার করতে হবে। ধূমপান অবশ্যই পুরোপুরি বাদ দিতে হবে এ সময়ের জন্য হলেও। ঠান্ডা বা রুম তাপমাত্রার পানিও পান করা যাবে না, পানি কুসুম গরম অবস্থায় পান করা ভালো। বুক ও গলা কোন অবস্থাতেই ঘামতে দেয়া যাবে না, ঘেমে গেলেও সাথে সাথে কাপড় দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।

মানসিক চাপ সামলানো

করোনা শারীরিকভাবে ধাক্কা দেয়, সেই সাথে মানসিক জোরও কমিয়ে ফেলে অনেকটা। আইসোলেশনের সময় একা একা থাকতে এমনিতেই একটা মানসিক চাপ তৈরী হয়। এর মধ্যে রোগের বিভিন্ন উপসর্গ, সেরে উঠা নিয়ে দুশ্চিন্তা, আপনজন কেউ আক্রান্ত হলো কি না, আবার কাউকে দেখতে পারবো কি না, গুরুতর অসুস্থ হবো কি না, অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা কি হবে এইসব বিবিধ বিষয় অবচেতন মনে প্রচন্ড চাপ তৈরী করে।

শুরু থেকেই দুশ্চিন্তায় লাগাম পরানোর কিছু উপায় বলি যা আমি কাজে লাগিয়েছি। পুরনো বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আড্ডা দেয়া, পারলে হাস্যরসাত্নক কনটেন্ট, সিনেমা দেখা, খুব উত্তেজনাপূর্ণ সিনেমা, সিরিজ ইত্যাদি দেখা থেকে বিরত থাকা। এছাড়া করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত যেকোন ইন্টারনেট কন্টেন্ট থেকে দূরে থাকা। যেকোন অসুবিধায় ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন, ইন্টারনেটে ভুলেও সমাধান খুঁজতে যাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

এছাড়া আরও চিন্তা মুক্ত থাকতে বেশি অসুস্থ হলে কোন হাসপাতালে যাবেন সেটা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা, পারলে এ ব্যাপারে হেল্প করতে পারবেন এমন কারও সাথে কথা বলে রাখা, এম্বুলেন্সের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে রাখা, এমন একজন সুহৃদকে ঠিক করে রাখা যাকে রাত বিরাতে ফোন করে সাহায্য চাইতে পারবেন, এবং সে সুহৃদ অবশ্যই নিজ বাসার বাইরে হতে হবে। এইসব ব্যবস্থা আগে থেকে নিশ্চিত করে রাখতে পারলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যাবে।

শেষ কথা

কিছু জিনিস মনে রাখবেন। আপনার সবধরণের উপসর্গই থাকতে পারে, আবার প্রত্যেকের উপসর্গ ভিন্ন ভিন্নও হতে পারে। কোভিড-১৯ এর এক্সপেরিয়েন্স রোলার কোস্টার রাইডের মতো, আপনাকে সব ধরণের খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যেতে হবে। সহজ ইংরেজিতে বললে You’re going to feel all the feelings. ধরেই নিতে হবে অনেক দিন আপনাকে অসুস্থ থাকতে হবে বা সেরে উঠতে সময় লাগবে অনেক। সেটা যে ১৪ দিনেই হবে, এমন কোন নিশ্চয়তা নেই।

আরেকটা জিনিস মেনে নিন, এই বিষয়ে কেউই এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞ নন (এটলিস্ট এখন পর্যন্ত)। আপনি শুধু আপনার কাজ আপনি ঠিকমতো করুন, অর্থাৎ আপনার ডাক্তার আপনাকে যেভাবে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন সেভাবে চলুন। হাতের কাছে যতোসম্ভব প্রয়োজনীয় টুলস রাখুন এবং ব্যবহার করুন। অযাচিত দুশ্চিন্তাকে মনের ভেতর প্রশ্রয় দেবেন না, তাহলে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটাও অনেকটা সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্য...

আরও পড়ুন-


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা