মুমতাজ বেগমও ছিলেন বিবাহিত। কিন্তু তাঁর জামাইয়ের পোড়া কপাল! সম্রাটের কাছে প্রাণ দিতে হয়েছিল তাঁকে। মুমতাজ মহলের স্বামীকে খুন করেছিলেন সম্রাট শাহাজাহান তাকে বিয়ে করার রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য! আরেকটা তথ্য দেওয়া যেতে পারে। মুমতাজের মৃত্যুর পর তাঁর বোনকে বিয়ে করেন শাহাজাহান সম্রাট!

শিরোনাম দেখে চমকে উঠেছেন? হওয়ারই কথা! এতদিন আমরা জেনে এসেছি, তাজমহলকে বলা হয় ভালবাসার নিদর্শন। আমরা এও জেনে এসেছি যে, তাজমহল বানিয়েছেন মুঘল সম্রাট শাহজাহান, যিনি ভালবাসতেন মুমতাজ মহলকে। তাঁর প্রতি উৎসর্গ করে ভালবাসার নিদর্শনস্বরূপ এই তাজমহলটি বানান। মুমতাজ মহলের মৃত্যুর পর দুই যুগ ধরে সময় নিয়ে গড়ে তোলা হয় এই বিশাল তাজমহল। কিন্তু কিছু অদ্ভুত তথ্য এতদিনের এই ভাবনাকে খানিকটা পালটে দিতে পারে-  

১. প্রথম যখন মুমতাজের উপর 'ক্রাশ' খান সম্রাট শাহাজাহান, তখন মেয়েটার বয়স ছিলো ১৪। প্রথম দর্শনের এই প্রেম চলে পাঁচ বছর ধরে। তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকাকালীন সম্রাট অন্যত্র বিয়েও করেন। তবে মুমতাজের বয়স যখন ১৯, তখন তারা বিবাহ করেন। 

২. সম্রাট শাহাজাহান সর্বসাকুল্যে বিয়ে করেছেন ৭টি। মুমতাজ মহল ছিলেন তাঁর চার নাম্বার বউ। (মতান্তরে তিন নাম্বার বউ) 

৩. মুমতাজ বেগমও ছিলেন বিবাহিত। কিন্তু তাঁর জামাইয়ের পোড়া কপাল! সম্রাটের কাছে প্রাণ দিতে হয়েছিল তাঁকে। মুমতাজ মহলের স্বামীকে খুন করেছিলেন সম্রাট শাহাজাহান তাকে বিয়ে করার রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য! 

৪. মুমতাজ মহল ১৪তম সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। 

৫. মুমতাজের মৃত্যুর পর তাঁর বোনকে বিয়ে করে ফেললেন শাহাজাহান সম্রাট ! 

৬. দ্যা টেল অব তাজ নামে ইংরেজিতে একটি নাটক লিখেন দিলীপ হিরো নামে এক লেখক। নাটকটির প্রিমিয়ার হয়েছিলো ইন্ডিয়াতেও। বিবিসিতে এই নাটক সম্পর্কিত একটি আর্টিক্যালে দেখানো হয় মুমতাজ বেগমের মৃত্যুর পেছনে সম্রাট শাহাজাহানের হাত থাকতে পারে!

বেগম মুমতাজ

৭. বিবিসির আর্টিক্যালে বলা হয়, মুমতাজ অসম্ভব ভালো দাবা খেলতে পারতেন। তাঁর রাজনৈতিক জ্ঞানও ছিল সমৃদ্ধ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি সম্রাটকে হার মানিয়ে দিতে পারতেন, বিশেষ করে দাবা খেলায় এবং দূরদর্শী চিন্তায়। অসংখ্য ডকুমেন্টে মুমতাজের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও রাজকার্যে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে।

৮. সমালোচকরা কেউ কেউ বলেন, তাজমহল ভালবাসা থেকে নয়, অনুশোচনা থেকেও বানানো হতে পারে। 

৯. তবে খরচ করতে হয়েছে তাকে প্রচুর। সে আমলে (১৬৩২-১৬৫৩) প্রায় ৩২ মিলিয়ন রুপি ব্যয় হয়েছিলো তাজমহল বানাতে। আজকের দিনে হিসাব করতে গেলে প্রায় ১ হাজার ৬২ কোটি ৮৩ লাখ চার হাজার ৯৮ মার্কিন ডলার (জ্বি, ডলার!) ব্যয় হয়েছে এই তাজমহলের পেছনে।

১০. একটা বানাতেই এত খরচ! তার উপর আরেকটা তাজমহল বানানোরও নাকি চিন্তা ছিলো সম্রাটের। নদীর ওপারে কালো তাজমহল বানানোর কাজ শুরুও করেছিলেন, কিন্তু শেষ করার আগেই তাকে থামতে হয়েছিল। কারণ, তিনি নিজ পুত্র আওরঙ্গজেবের কাছে ক্ষমতাচ্যুত হন। 

১১. ভারতবর্ষে প্রচলিত আছে, সম্রাট শাহাজাহান তাজমহল নির্মানে যে শ্রমিকেরা শরিক হয়েছিলেন তাদের হাতের কবজি কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ, তিনি চাননি পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোনো তাজমহল নির্মাণ হোক! বিশাল এই কর্মজজ্ঞে ২২ হাজার শ্রমিকের সাথে ১ হাজার হাতিও ছিল,যারা মার্বেল পাথর আনয়নের কাজ করতো। তাদের হাত ছিল না দেখে বেঁচে গিয়েছিল হয়তো! 

১২. প্রফেসর পি.এন. অক যিনি 'TajMahal: The True Story' বইয়ের লেখক, তিনি অদ্ভুত কিছু তথ্য দেন। তিনি দাবী করেন যে তাজমহল বেগম মমতাজ মহলের সম্মানে নির্মিত প্রেমের সমাধিস্থল নয়; বরং এটা প্রাচীন দেবতা শিবের মন্দির। তিনি ইতিহাস ঘেঁটে জানতে পারেন, সম্রাট শাহজাহান অন্যায়ভাবে জয়পুরের মহারাজার (জয় সিং) কাছ থেকে এটি দখল করেন। 

১৩. নিউইয়র্কের এক আর্কিওলজিস্ট মারভিন মিলার। যিনি তাজমহলের দেয়ালের নমুনা পরীক্ষা করেছিলেন। তাতে যে কার্বন পাওয়া যায় তা সম্রাট শাহাজাহনের শাসনামলেরও ৩০০ বছরের পুরনো! 

১৪. আশ্চর্যের কথা হচ্ছে, প্রফেসর অক তাজমহলের নাম নিয়েও সন্দেহ পোষণ করেন। কারণ দুটো। এক. সে আমলে কোন মুসলিম দেশে কোন প্রাসাদ/ভবনের নাম “মহল” রাখার প্রচলন ছিল না। দুই. মুমতাজ মহল থেকেই তাজমহল নামটি এসেছে,এমনটা ধারণা সবার। কিন্তু মুমতাজ মহল কখনোই তাঁর আসল নামই ছিল না!  

১৫. তবুও মানুষ জানে, সম্রাট শাহাজাহান বিশাল প্রেমিক পুরুষ। প্রেমের জন্য কী তাঁর নিবেদন, কী তাঁর আত্মত্যাগ! কিন্তু, নিজ কন্যা জাহানারার প্রেমিককে তিনি পছন্দ করতেন না। জাহানারার প্রেমিক লুকিয়ে দেখা করতে এসে একদিন ধরা খান। শাহাজাহান মেয়ের চোখের সামনেই প্রেমিককে তক্তা দিয়ে দেয়ালের সাথে আটকে পেরেক গেঁথে গেঁথে খুন করেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যমুনার তীরে তখন তাজমহলের নির্মাণ কাজ চলছিল পুরোদমে... 

তাজমহল নিয়ে অনেক গুজব, অনেক রহস্যকথাই সাধারণের মধ্যে প্রচলিত। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিতর্কিত গবেষণা করে এই রহস্যকে আরো ঘনীভূতই করেছেন কেবল! এখনো তাজমহল নিয়ে মানুষের আগ্রহের সীমা অসীম। তাই শেষ পর্যন্ত কোন তথ্যটি অকাট্য দলিল হিসেবে গণ্য করা যাবে, তার কোনো সুস্পষ্ট উত্তর নেই বৈকি! 

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা