সুন্দরবনকে বাঁচানোর, দেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার এই মিশনে ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছে হাজারো তরুণ। 'ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো' প্রবাদটাকে বাস্তবে পরিণত করছে তারা...

বঙ্গোপসাগর বা ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া বড় বড় ঘুর্ণিঝড়গুলো যখন আশংকা অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতি না করেই পেরিয়ে যায় উপকূল, তখন পত্রপত্রিকায় আমরা দেখি সুন্দরবনের স্তুতি, 'আবারও বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে দিলো সুন্দরবন' শিরোনামের মুখরোচক আর্টিকেল। ফেসবুক ভেসে যায় থ্যাংকিউ সুন্দরবন হ্যাশট্যাগের বন্যায়, সুন্দরবন না থাকলে কি হতো, এমন আহাজারি বছরে ওই এক দুইবারই চোখে পড়ে। অথচ বছরের পর বছর ধরে সুন্দরবনকে যে একটু একটু করে নিঃশেষ করে ফেলা হচ্ছে, সেটা নিয়ে অন্য সময় তেমন কাউকে উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায় না!

সব আশা যখন ফুরিয়ে যায়, পিছিয়ে যেতে যেতে যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখনই নাকি তারুণ্যের শক্তি জেগে ওঠে। সুন্দরবনের বেলাতেও সেরকম কিছু ঘটবে কিনা, সেটা সময় বলে দেবে। তবে ভালো কিছু হবার একটা আশা জেগেছে। প্রোজেক্ট অক্সিজেন নামের একটা বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর মাধ্যমে সুন্দরবনের সবচেয়ে ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকাটায় ৪৯ হাজার গাছ রোপন করবে কিছু তরুণ। স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকীটা এই ৪৯ হাজার গাছ লাগিয়েই পালন করবে এই স্বেচ্ছাসেবকরা।

এই তরুণরা কারো আশা বা ভরসায় বসে থাকতে রাজী নয়। সুন্দবনের জন্য সরকার কিছু করবে, বা পরিবেশবাদীরা কোন উদ্যোগ নেবে- এই প্রত্যাশা তারা করেনি। নিজেরাই নেমে পড়েছে মাঠে, কাঁধে তুলে নিয়েছে দায়িত্ব। তারা জানে, দেশটা তাদের, এই বন রক্ষার, এখানকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্বও তাদের। সেকারণেই খুলনা জেলার আম্ফান দূর্গত কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে এই বিপুল পরিমাণ গাছের চারা রোপন করবে তারা। সবগুলো চারা লাগানো হবে মাত্র ৪৯ মিনিটে, এটাও স্বাধীনতার ৪৯ বছর পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শিরীষ, লম্বু, পেয়ারা, কদবেল, ছবেদা, তেঁতুল, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, আমলকি ও তাল- এই দশটি জাতের গাছের চারা লাগানো হবে। উদ্যোগটা নেয়া হয়েছে 'বন্ধু ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ', 'গিভ বাংলাদেশ' এবং 'আমরাই বাংলাদেশ' এর তরফ থেকে। বাংলাদেশ বাঁচানোর, দেশের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার এই মিশনে ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছে হাজারো তরুণ। 'ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো' বলে একটা প্রবাদ আছে বাংলায়, এই মানুষগুলো আক্ষরিক অর্থেই এই প্রবাদকে বাস্তবে পরিণত করছে।

বলিউডের রঙ দে বাসন্তী সিনেমাটা দেখেছেন? সেখানে একটা সংলাপ ছিল- কোন দেশ পারফেক্ট হয় না, সেটাকে পারফেক্ট বানাতে হয়। দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের কিছু কর্তব্য আছে, সেগুলো পালন করতে হয় যথাযথভাবে। সরকার করবে বা অমুক প্রতিষ্ঠান করবে- এই আশায় বসে থাকলে দেশ বা সমাজ কখনও পারফেক্ট হবে না। এই স্বেচ্ছাসেবকেরা সেই পারফেকশনের মিশনেই নেমেছে। একেকটা দুর্যোগের পরে ত্রাণ বিতরণের দরকার যাতে না পড়ে, সেটাই তাদের উদ্দেশ্য, যেন ক্ষয়ক্ষতির আগেই দুর্যোগকে মোকাবেলা করা যায়। এই তরুণদের নায়ক না বললে আর কাকে বলবেন?

এই মিছিলে যুক্ত হতে পারেন আপনিও, হয়তো সশরীরে থাকা সম্ভব হবে না, কিন্ত গাছের চারা দান করে গাছ লাগানোর এই মহৎ কাজে নিজেকে শামিল করতে কোন বাধা নেই। ৪৯০০০ গাছের চারা সংগ্রহ করাটাও একটা চ্যালেঞ্জ, তাই প্রোজেক্ট অক্সিজেনের পক্ষ থেকেই সাহায্য আহবান করা হয়েছে। ওপরে যে নির্দিষ্ট প্রজাতির চারাগুল্প্র কথা বলা হয়েছে, চাইলে যে কেউ তাদেরকে গাছের চারা দান করতে পারেন। কেউ যদি তার পরিবর্তে আর্থিক সাহায্য করতে চান, সেটাও সম্ভব। একেকটা চারার ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ত্রিশ টাকা করে। আপনার পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচ জন? ইচ্ছে করলেই আপনি সবার নামে একটা করে চারা গাছ রোপন করতে পারেন সেখানে, ১৫০ টাকা মিশন অক্সিজেনের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে।

চারা বা টাকার অংকটা বড় কথা নয়, আসল কথা হচ্ছে, এই মিশনে যোগ দেয়ার সদিচ্ছাটা। আপনার লাগানো বা দান করা একেকটা গাছ ছায়া সুশীতল বৃক্ষ হয়ে উঠবে, উপকূলের মানুষকে রক্ষা করবে ঘূর্ণিঝড়ের আগ্রাসী তাণ্ডব থেকে, রক্ষা পাবে মানুষের জান-মাল- এই চমৎকার অনুভূতিটাকে সঙ্গী করার জন্যে হলেও যোগ দিতে পারেন এই মিছিলে। দেশের জন্য, পরিবেশের জন্য এটুকু অবদান প্রত্যেক নাগরিকের রাখা উচিত।

প্রোজেক্ট অক্সিজেনের ফেসবুক ইভেন্ট লিংক- Project Oxygen 

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা-

Bkash (Merchant)- 01731514453

Bkash (Personal)- 01779394909

Rocket (Personal)- 017045747663

Nagad (Personal)- 01819230486

Bank Detail-

BANDHU Foundation of Bangladesh 

A/C No- 06933000780

Bank Asia, Satmasjid Road Branch

Paypal- www.paypal.me/paywaheed


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা