বীরভূমের এক গ্রাম থেকে উঠে এসে নিজের মেধা, যোগ্যতা আর আনুগত্যের মাধ্যমে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। সেই ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ জোগাড় করেছেন, বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফোরামে কথা বলেছেন, বাংলাদেশের সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন মানুষটা...

বীরভূম জেলার মিরিটি নামের ছোট্ট এক গ্রামে তার জন্ম, সেখান থেকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মেধা আর দলের প্রতি আনুগত্যের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে নিজেকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন রাইসিনা হিলে- প্রথম বাঙালি হিসেবে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির আসন অলঙ্কৃত করেছিলেন প্রণব মুখার্জী নামের মানুষটা। করোনার সংক্রমণ, মস্তিস্কের রক্তক্ষরণ আর অস্ত্রোপচারের ত্রিমুখী ধাক্কা সামলাতে না পেরে আজ চিরবিদায় নেয়া প্রণব মুখার্জী নিঃসন্দেহে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সফলতম বাঙালি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলা ও বাঙালীর কণ্ঠস্বর, ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, একাত্তরের উত্তাল সময় থেকে শুরু করে বরাবরই তিনি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এই বাংলার প্রতি তার ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন।  

পরিবারে রাজনৈতিক আবহ ছিল। তবে রাজনীতিতে প্রণবের হাতেখড়ি হয় ঢের দেরিতেই। সিউড়ি বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে পাশ করে ভর্তি হলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখান থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাসে স্নাতক এবং এলএলবি-তে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি। পেস্ট অ্যান্ড টেলিগ্রাফ বিভাগে সাধারণ কেরানি হিসেবে শুরু হয় চাকরিজীবন। কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছেন, তারপর ১৯৬৩ সালে বিদ্যানগর কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে অধ্যাপনা শুরু করলেন। এর আগে একটা বড়সড় কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন। ব্রাহ্মণের সন্তান হয়েও পরিবারের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেছেন অব্রাহ্মণ এক মেয়েকে, নাম তার শুভ্রা দেবী, পৈত্রিক ভিটা ছিল বাংলাদেশের নড়াইলে, সেই সূত্রে প্রণব হয়ে গেলেন বাংলাদেশের জামাইবাবু। 

প্রণবের প্রথম জীবনের রাজনৈতিক গুরু ছিলেন বিদ্যানগর কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হরেন্দ্রনাথ মজুমদার, সেই কলেজেরই শিক্ষক ছিলেন প্রণব। ১৯৬৭ সালের বিধানসভা ভোটে হরেন্দ্রনাথ প্রার্থী হন, আর প্রণব তার হয়ে প্রচারে পথে নামেন। হরেন্দ্রনাথের হয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সব ছক প্রণবই কষেছিলেন সেবার, নিজের কর্মগুণেই খুব দ্রুতই বাংলা কংগ্রেসের প্রধান এবং পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়ের নজরে পড়ে যান প্রণব। ১৯৬৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের নানা প্রান্তে প্রচারের কাজে পাঠানো হয় প্রণবকে। পুরস্কার হিসেবে বাংলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাকে দেয়া হয় রাজ্যসভার সাংসদ পদ। ওই বছর মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বাংলা কংগ্রেস সমর্থিত নির্দলীয় প্রার্থী, জওহরলাল নেহরুর আমলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কে ভি কৃষ্ণমেননের জয়ের পেছনেও বড় ভূমিকা ছিল প্রণবের।

স্ত্রী শুভ্রা দেবীর সঙ্গে প্রণব মুখার্জী

রাজ্যসভায় যাওয়ার পর ইন্দিরা গান্ধীর চোখে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। ইন্দিরা নিজে রাজনীতিতে পোড় খাওয়া মানুষ, বয়সের তুলনায় অনেক বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন, রত্ন চিনতে ভুল করেননি। বাঙালি এই তরুণকে কাজে লাগানো গেলে যে।কংগ্রেস এবং দেশ- দুটোই উপকৃত হবে, সেটা ইন্দিরা বুঝতে পেরেছিলেন। কেন্দ্র সরকারের হয়ে প্রণবের প্রথম বড় অ্যাসাইনমেন্টটাই ছিল বাংলাদেশ নিয়ে। সেটা ১৯৭১ সালের ঘটনা। 

তখনও আমাদের দেশটার জন্ম হয়নি, মুক্তিযুদ্ধ চলছে, প্রাণের তাগিদে কোটি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাদের জন্য সাহায্য সংগ্রহ করেছেন প্রণব। পরিচিত ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে সাহায্য নিয়ে শরণার্থীদের জন্য বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্পে পাঠাতেন। বাংলাদেশকে প্রবাসী সরকারকে ভারত সরকার যাতে সমর্থন দেয়, সেজন্য ১৯৭১ সালের ১৫ জুন ভারতের রাজ্যসভায় সর্বপ্রথম প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন প্রণব মুখার্জীই। ইন্দিরার নির্দেশে প্যারিসে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সভায় যে ভারতীয় প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছিল, ৩৬ বছরের প্রণব সেই দলে ছিলেন। তখনও কিন্ত তিনি সর্বভারতীয় কংগ্রেসে যোগ দেননি, বাংলা কংগ্রেসেই আছেন। 

এরপর বাংলা কংগ্রেস বিলুপ্ত হয়ে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে গেল, প্রণবও কংগ্রেসের সদস্য হলেন। ১৯৭৩ সালে ইন্দিরা তাকে শিল্প প্রতিমন্ত্রী বানালেন। এরপর এলো কংগ্রেসের দুঃসময়, ১৯৭৭ এর নির্বাচনে দলের ভরাডুবু হলো। অনেক ডাকাবুকো রাজনীতিবিদ কংগ্রেস ছাড়লেন, জরুরী অবস্থার দায় চাপানো হলো ইন্দিরার কাঁধে। চাইলেই তখন সুবিধাবাদীদের মতো দল ছাড়তে পারতেন, সেটা না করে তিনি ইন্দিরার পাশে থেকেছেন, তাকে বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়েছেন, প্রমাণ করেছেন নিজের আনুগত্য। 

প্রণব-ইন্দিরা এক ফ্রেমে

১৯৮০-তে যখন বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে কংগ্রেস আবার ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় এলো, তখন মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার পাশাপাশি, রাজ্যসভায় কংগ্রেসের দলনেতার দায়িত্বও তাকে দিয়েছিলেন ইন্দিরা।  মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেবার দেশজুড়ে কংগ্রেসের বিজয়কেতনের মাঝেও বোলপুর থেকে নির্বাচন করে প্রণব কিন্ত হেরে গিয়েছিলেন! কারণ তিনি কখনও জননেতা ছিলেন না, কর্মীদের সঙ্গেও তার সরাসরি সংযোগ ছিল খুব কম। তিনি কাজ করতেন দলের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে, তাই তৃণমূলে তার পরিচিতিও ছিল না সেভাবে। 

১৯৮২ সালে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন। ইন্দিরার আমলে তিনি ছিলেন দেশের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি, ইন্দিরা যখন দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হলেন, তখন অনেকেরই ধারণা ছিল, প্রণব বাবুই হতে চলেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনিও নাকি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী ছিলেন। সেটা আবার ইন্দিরাপুত্র রাজীব গান্ধীর পছন্দ হয়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রণবকে কোণঠাসা করতে শুরু করলেন ধীরে ধীরে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করে পাঠানো হয় তাকে, যেটা তার জন্য খানিকটা অবমাননাকরই ছিল। এর কিছুদিন পরে হাইকমান্ডের নির্দেশ না মানার অজুহাতে কংগ্রেস থেকেই তাকে বহিস্কার করা হলো। যে ইন্দিরা প্রণবকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে, শত বিপদেও যে প্রণব ইন্দিরাকে ছেড়ে যাননি, তারই ছেলে প্রণবকে দল থেকে বের করে দিলেন! 

তবে রাজীব বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রণবের মতো মেধাবী এবং তীক্ষ্মবুদ্ধিসম্পন্ন নেতার দরকার তার পাশে, এটা বোঝার পরে প্রণবের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করেছিলেন তিনি নিজেই। দলে পুরনো প্রভাব ফিরে পেতে শুরু করেছিলেন প্রণব। কিন্তু ১৯৯১ সালের লোকসভা ভোটপর্বের মাঝেই তামিল জঙ্গিদের মানববোমায় নিহত হন রাজীব। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের আমলে ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজে অর্থমন্ত্রী থাকার সময় তরুণ মনমোহন সিংকে রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্ণর বানিয়েছিলেন প্রণব, সেই মনমোহন তখন অর্থমন্ত্রী। দুজনে মিলে ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন এনেছিলেন। মনমোহনকে তো আজও ভারতের ইতিহাসের সফলতম ফিন্যান্স মিনিস্টার ধরা হয়, মনমোহনের এই অর্জন প্রণবের সাহায্য ছাড়া সম্ভব হতো না। 

নরসিমা রাওয়ের সরকারে আবার বাণিজ্যমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তারপর কংগ্রেসের আরেক দফা ভরাডুবি হলো, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সরে গেল দলটা। কয়েক দফায় দলের ভেতরেও গৃহবিবাদ হলো, নির্বাসন কাটিয়ে সোনিয়া গান্ধী নিলেন দলের দায়িত্ব। সাল ২০০৩, পরের বছর লোকসভা নির্বাচন। আবারও ইলেকশনের ক্যাম্পেইন ডিজাইনের ডাক পড়লো প্রণবের, হাসিমুখেই হাজির হলেন তিনি। ২০০৪ এর নির্বাচনে বাম দলগুলোর সঙ্গে কংগ্রেসের সমঝোতার কেন্দ্রে ছিলেন প্রণবই, নইলে কংগ্রেস হয়তো ক্ষমতায় আসতো না। তিনি নিজেও সেবারই প্রথম মুর্শিদাবাদ থেকে লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

প্রণব মুখার্জী

প্রধানমন্ত্রী হলেন মনমোহন সিং, আবারও নাম্বার-২ আসনটা ফিরে পেলেন প্রণব। দুই মেয়াদে প্রতিরক্ষা, অর্থ, পররাষ্ট্র সহ গুরুত্বপূর্ণ সব মন্ত্রণালয় সামলেছেন। আন্না হাজারে থেকে রামদেবকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যত সমস্যায় পড়েছে সরকার, সমাধানের দায়িত্বে ছিলেন প্রণব। এখানে একটা মজার ঘটনা বলে নেয়া যাক। আমির খানের সিনেমা রঙ দে বাসন্তী মুক্তি পেয়েছিল ২০০৬ সালে। সেই সিনেমায় এক দুর্নীতিবাজ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চরিত্র আছে, সিনেমায় তাকে খুন করা হয়। সেন্সরবোর্ড ছাড়পত্র দিলো না সেই দৃশ্যটাকে। প্রণব মুখার্জী তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, আমির খান তাকে স্পেশাল স্ক্রিনিং করে সিনেমাটা দেখাতে চাইলেন। প্রণবও সময় দিলেন, সিনেমা দেখে আপত্তিকর কিছু খুঁজে পেলেন না তিনি। নিজেই সেন্সরবোর্ডকে সুপারিশ করলেন, যাতে সিনেমাটাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়! 

তারপর ২০১২ সাল এলো, রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিলের মেয়াদ শেষ। নতুন রাষ্ট্রপতি পদের জন্য কংগ্রেস থেকে প্রণবের নাম পাঠানো হলো, দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের সক্রিয় রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে বিদায় জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন প্রণব। এই প্রথম কোন বঙ্গসন্তান রাষ্ট্রপতি হয়ে প্রবেশ করলেন দিল্লির রাইসিনা হিলসের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে। স্বাধীনতাপূর্ব ভারতে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বোস, বিমান দুর্ঘটনায় নিখোঁজ না হলে হয়তো জওহরলাল নেহেরুর জায়গায় তিনিই হতেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। সেটা হয়নি, আর তাই বাঙালি হিসেবে প্রণবই সর্বপ্রথম আরোহন করেছেন ভারতের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক আসনে। 

সরকার বদলেছে, মনমোহন গিয়ে মোদি এসেছেন, তবে প্রণব ছিলেন নিজের জায়গায়। প্রতিপক্ষ হলেও বিজেপি নেতারা তাকে সম্মান করতেন, সেই সম্মানের আসনটা নিজের জন্য তৈরি করে নিয়েছিলেন প্রণব। রাজনীতির মাঠে নোংরা কাদা ছুঁড়তে কখনও দেখা যায়নি তাকে, কেউ বলতে পারবে না যে প্রণববাবুর ভদ্রতাটা পোষাকি, উনি ভেতরে এক, বাইরে আরেক। ২০১৭ সালে মেয়াদ শেষ করেই রাষ্ট্রপতি ভবন ছেড়েছেন, রাজনীতির সঙ্গে আরবক দফায় যোগাযোগ করার ইচ্ছে ছিল না, তাই নিজেকে খানিকটা নিভৃতেই আড়াল করে রেখেছিলেন। 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে

গত ৯ আগস্ট রাতে নিজের দিল্লির বাড়িতে শৌচাগারে পড়ে গিয়েছিলেন প্রণব মুখার্জী। পর দিন সকাল থেকে তার স্নায়ুঘটিত সমস্যা দেখা দেয়। বাম হাত প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিল। এরইমধ্যে ধরা পড়ে করোনাও। চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায়, মাথার ভেতর রক্ত জমাট বেঁধে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার উন্নতি হয়নি। ১৩ অগস্ট থেকে তিনি গভীর কোমায় চলে যান। ডাক্তাররা সুসংবাদ দিতে পারছিলেন না, প্রণব মুখার্জীও লড়াইয়ের রসদটুকু হারিয়ে ফেলছিলেন ধীরে ধীরে। আজ তো পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশেই। 

একাত্তরে তিনি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সাধ্যমতো, এরপরেও দেশটার সঙ্গে তার বন্ধুত্ব বজায় ছিল, বাংলাদেশের সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষীদের একজন ছিলেন প্রণব মুখার্জী। নিজের আত্মজীবনীমূলক সিরিজের বই ‘দ্য ড্রামাটিক ডিকেড: দ্য ইন্দিরা গান্ধী ইয়ারস’ এ একটা পুরো অধ্যায় তিনি লিখেছেন ‘মুক্তিযুদ্ধ: দ্য মেকিং অব বাংলাদেশ’ নামে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও তার আন্তরিক সম্পর্ক ছিল বরাবরই। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তার এই অকৃত্রিম বন্ধুকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননায় ভূষিত করেছিল। প্রণবের বিদায়ে তো শুধু ভারতীয় রাজনীতিরই একটা উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলো না, বাংলাদেশও হারালো ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকে...


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা