ক্লিকবেট হেডলাইন দিলে পাবলিক খবরের ভেতরে হুড়মুড় করে ঢুকবে- এটা জানা কথা। পাবলিককে ‘খাওয়ানোর’ এই নেশা থেকে আমাদের মিডিয়া হাউজগুলো বের হতে পারলো কই?

সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুকের নিউজফিডে ঢুকতে না ঢুকতেই শুনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি বলেছেন, করোনার কারণে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকবে! ফেসবুকে হাহাকার পড়ে গেছে, অনেকে আবার সেসব খবর শেয়ার দিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, হাট-বাজার বা পাবলিক গ্যাদারিং বন্ধ না করে সুধু স্কুল-কলেজ বন্ধ রেখে কতটা লাভ হবে। শিরোনাম দেখে খবরের ভেতরে ঢুকে একপ্রস্থ ধাক্কা খেতে হলো।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, “স্কুল এখন আমরা খুলব না। স্কুল কেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটাও খুলব না। সেটা আমরা কখন খুলব? অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্কুল কলেজ সবই বন্ধ থাকবে, যদি না করোনাভাইরাস তখনও অব্যাহত থাকে। যখন এটা থামবে আমরা তখনই খুলব। বেশি সমাগম যেন না হয়।”

অথচ নিউজ পোর্টালের শিরোনাম আর টিভি চ্যানেলের ব্রেকিং নিউজের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, কোন যদি-কিন্ত-তবে ছাড়াই বুঝি স্কুল-কলেজ না খোলার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী! হিটখোর মিডিয়া তো ক্লিকবেট ছাড়া কিছু বোঝে না, করোনার এই ক্রান্তিকালেও তাদের ভণ্ডামি করে, হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের নজরে পড়তে হবে। তাই ‘পরিস্থিতি না বদলালে’ শব্দ তিনটা বাদ দিয়ে তারা শুধু সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখাটাকে শিরোনামে রেখে খবর বানিয়ে ফেললো।

কেউ স্রোতে গা ভাসিয়েছে, কেউ আবার দায়িত্বশীল আচরণ করেছে

ক্লিকবেট হেডলাইন দিলে পাবলিক খবরের ভেতরে হুড়মুড় করে ঢুকবে—এটা জানা কথা। পাবলিককে ‘খাওয়ানোর’ এই নেশা বড় নেশা। সেখান থেকে আমাদের মিডিয়া হাউজগুলো বের হতে পারলো কই? ভুঁইফোঁড়, নাম পরিচয়বিহীন অনলাইন পোর্টালগুলো এই কাজ করলে একটা কথা ছিল, করেছে নামজাদা সগব অনলাইন মিডিয়া, বিখ্যাত সব টিভি চ্যানেল, নিউজ চ্যানেল। প্রথম আলো, বিবিসি বাংলা এবং বিডিনিউজ২৪ ডটকম ছাড়া মোটামুটি সবাই এই নোংরা স্রোতে গা ভাসিয়েছে।

এমন নয় যে এই মিডিয়াগুলো না বুঝে করেছে কাজটা। তার সব জেনে, বুঝে, এটার ফলাফল জেনেই করেছে। সাংবাদিকতা খুব দায়িত্বশীল একটা পেশা, এখানে ঠাট্টা ফাজলামিটা খাটে না। তার ওপরে বিশ্ব যখন করোনার থাবায় বিপর্যস্ত, অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে হুড়মুড় করে, তখন শুধু মানুষকে আকর্ষণ করার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে এভাবে বিকৃত করে শিরোনামে উপস্থাপন করাটা শুধু অন্যায় নয়, মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। সেটা করতে তাদের কুণ্ঠাবোধ হয়নি একটুও।

একটা মিডিয়া হাউজ বা টিভি চ্যানেলের কর্তাব্যক্তি হয়েও যে সাংবাদিকতার নীতি-নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো যায়, সেটা আজকের ঘটনাতেই প্রমাণ হয়ে গেল। যেখানে সত্যির চেয়ে দর্শকের মনোরঞ্জন করাটা বড় হয়ে যায়, যেখানে দর্শককে মিথ্যা আর বানোয়াট খবরের প্রলোভন দেখিয়ে টেনে আনা হয়- সেটা আর যাই হোক, সৎ সাংবাদিকতার চর্চাকেন্দ্র হতে পারে না…


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা