সারাদেশে এমন বহু দেলোয়ার আছে যারা বঙ্গবন্ধুর নামকে অপমান করছে, আওয়ামী লীগ বা জয় বাংলা শব্দগুলোকে পচিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আফসোস উন্নয়নের বুলি আওড়ানো নীতিনির্ধারকেরা সেই গন্ধ টের পায় না...

আমি জানিনা নোয়াখালীর বর্বরদের সেই ভিডিওটা আপনারা দেখেছেন কিনা। গোটা বাংলাদেশই তো আজ এখলাসপুর। নিপীড়কেরা এখানে এভাবেই বিকৃত উল্লাসে মাতে, আর আর আমাদের রাষ্ট্র প্রশাসন সবাই ঘুমিয়ে থাকে। আচ্ছা আপনি কতগুলো ঘটনায় তো চোখ বন্ধ করে থাকবেন? কতগুলোর ক্রসফায়ার চাইবেন? আসুন, কয়েকটা পরিসংখ্যান দেই। 

গত ৯ মাসে ৯৭৫ জন নারী ধর্ষণের মতো বর্বরতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬২৭ জনই আবার শিশু। কি ভয়াবহ সব ঘটনা! এই দেশের কন্যা সন্তানের বাবা মায়েরা কতটা দুশ্চিন্তা নিয়ে দিনযাপন করে সেটাই শুধু ভাবছি।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, গত নয় মাসে ৯৭৫ জন ধর্ষণের শিকার যার মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৮ জন নারী। এছাড়া ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৩ নারী। আর আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন। এছাড়াও গত ৯ মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৬১ নারী। যৌন হয়রানরি কারণে ১২ নারী আত্মহত্যা করেছেন। আর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩ নারী এবং ৯ পুরুষ নিহত হয়েছেন।

এমন কোন দিন নাই যে দিন ধর্ষণের খবর শুনি না। ফলে একজন পুরুষ হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে রোজ আমাকে লজ্জা নিয়ে বাঁচতে হয়। শুধু কি ধর্ষণ? যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপসহ নারী নির্যাতনের ঘটনা তো লেগেই আছে।

গত ৯ মাসে পারিবারিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার শিকার হয়েছেন ২৭৯ নারী এবং আত্মহত্যা করেছেন ৭৪ নারী। যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ১৬৮ নারী।যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৬৬ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ১৭ জন নারী।

আরও শুনবেন? শিশু নির্যাতন ও হত্যার গত ৯ মাসের পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ সময়কালে ১০৭৮ শিশু শারীরিক নির্যাতনসহ নানা সহিংসতার শিকার। এর মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছে ৪৪৫ শিশু। এছাড়া ৬২৭ শিশু ধর্ষণ ও ২০টি বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে।

এই দেশের বীর পুরুষদের বলছি একবার ভাবুন। নয় মাসের শিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধা- কেউ কিন্তু নিরাপদ নয় দেশে। ফার্মগেট থেকে শাহবাগ বলেন কিংবা যে কোন রাস্তা। এদেশের একটা মেয়ের পক্ষেও স্বস্তিতে হেঁটে যাওয়া সম্ভব না।

একবার ভাবুন আপনি একটি কন্যা সন্তানের বাবা-মা। তাদের মনের অবস্থাটা বুঝুন। আমি জানি না পুরুষগুলো কি করে ধর্ষণ করে। নিজের মা বোন কিংবা নিজের কন্যা সন্তান কারো কথা কি মনে হয় না? চলুন আমরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ করি। 

সারাদেশে এমন বহু দেলোয়ার আছে যারা আওয়ামী লীগ, জয় বাংলা, নৌকা বা ভোট শব্দগুলোকে পচিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আফসোস উন্নয়নের বুলি আওড়ানো নীতিনির্ধারকেরা সেই গন্ধ টের পায় না। গত ১২ বছর ধরে দেশে যত অপকর্ম হচ্ছে তার অধিকাংশই ক্ষমতাসীনদের স্লোগানে হচ্ছে। আপনাদের দোহাই লাগে এদের থামান।

রাষ্ট্রকে বলবো ধর্ষণের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া হোক। ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি হোক মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পুলিশ প্রশাসন বিচার বিভাগ গণমাধ্যমসহ প্রত্যেককে বলবো চলুন আমরা একটা ধর্ষণ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি। যতদিন সেটা না পারবো ততদিন এই রাষ্ট্র বিচারব্যবস্থা প্রশাসন পুলিশ আমরা সবাই ব্যর্থ হিসেবে বেঁচে থাকব। চলুন এই ব্যর্থতার গ্লানি থেকে আমরা বের হই। দেশটাকে বসবাসযোগ্য করি।

রাষ্ট্র ও নীতিনির্ধারকদেরকে বলবো, এতোটুকুও যদি বোধ থাকে তাহলে কঠোর হোন।‌ শক্ত হাতে এদের দমন করুন, বিচার করূন যে কোনো মূল্যে। নয়তো নিপীড়িত এসব নারী-শিশুদের অভিশাপেই ধ্বংস হয়ে যাব আমরা। ধ্বংস হয়ে যাবে এই বাংলাদেশ!

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা