বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে ধনী ব্যক্তি, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোস ব্যক্তিজীবনে 'দুই পিৎজা নীতি' মেনে চলেন। কী সেই অমূল্য নীতি?

আপনি হয়ত কোন গোষ্ঠী বা দলের নেতা, কিংবা একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কোন একটি নতুন কাজে হাত দিতে যাচ্ছেন আপনি। কিন্তু যেকোন কাজের আগেই প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও দিক-নির্দেশনা। তাহলে এখন কী করণীয় আপনার? দলের সবাইকে নিয়ে মিটিং ডাকবেন, ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপ-আলোচনা করবেন? 

বাংলায় একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে যে, 'লাখ কথার আগে বিয়ে পাকা হয় না', যা মূলত যেকোন কাজের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। ধারণা করা হয়ে থাকে, দলগত কোন কাজ শুরুর আগে দলের সবাই মিলে যত বেশি সংস্লিষ্ট বিষয়ের ওপর আলোচনা করবে ও নিজেদের মতামত তুলে ধরবে, প্রাণবন্ত তর্ক-বিতর্ক করবে, ওই কাজে সফলতার সম্ভাবনাও তত বেশি বেড়ে যাবে। মূলত এই ধারণা থেকেই শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতিদিন গড়ে ১১ মিলিয়ন ঘন্টা মিটিং করা হয়ে থাকে।

তবে সবক্ষেত্রেই যে যত বেশি কথা, তত বেশি সফলতা- তা কিন্তু সত্য নয়। আমরা যদি এই মুহূর্তে ১২৩.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোসের দিকে তাকাই, তিনি নিজেই কিন্তু 'কথা কম, কাজ বেশি' নীতিতে বিশ্বাসী। শুধু তাই'ই নয়, বলা চলে মিটিং যেন তার দুই চোখের বিষ। বিনা প্রয়োজনে কখনও কোন মিটিংয়ে যান না তিনি। পরিবারকে সময় দেবেন বলে সকালবেলাও কোন মিটিং রাখেন না। এরচেয়েও বেশি অবাক করা তথ্য হলো, সবমিলিয়ে গোটা বছরজুড়েই তিনি মিটিং করেন মাত্র ছয় ঘন্টার মত। 

আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস

কারণ তার দর্শন হলো, স্রেফ কথা বলে কোন সমস্যার সমাধান করা যায় না, নতুন কিছু উদ্ভাবনও করা যায় না। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো কঠোর পরিশ্রম ও অব্যহতভাবে কাজ করে চলা, আর সেটাতেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বেজোস শুধু মিটিংকেই ঘৃণা করেন না, পাশাপাশি 'অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট' প্রবাদেও পূর্ণ আস্থা আছে তার। এজন্য তিনি 'দুই পিৎজা নীতি' অনুসরণ করেন। খুবই মজার একটি তত্ত্ব এটি।

এর মানে কিন্তু এই নয় যে পিৎজা খেতে খেতে মিটিং করেন তিনি। এই তত্ত্বের অর্থ হলো, একটি মিটিংয়ে সর্বোচ্চ সেই সংখ্যক মানুষই কেবল উপস্থিত থাকতে পারবে, মাত্র দুইটি পিৎজা দিয়ে যাদের সকলের উদরপূর্তি সম্ভব। লোকসংখ্যা এরচেয়ে কম হলে তো আরও ভালো, কিন্তু এরচেয়ে বেশি যদি হয় তাহলে কিছুতেই ওই মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন না তিনি।

অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, বেজোস যেসব মিটিংয়ে থাকেন, তাতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কখনোই ছয় থেকে আটের বেশি হয় না। এবং ধারণা করা যায়, এত কম সংখ্যক মানুষ নিয়ে মিটিং করেন বলেই বেজোস খুব অল্প সময়ের মধ্যে মিটিংগুলো সম্পন্ন করতে পারেন, এবং এর মাধ্যমে সম্ভাব্য সেরা সিদ্ধান্তটিই গ্রহণ করতে পারেন। 

তাহলে পাঠক, এখন সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার নিজস্ব। আপনি কি কোন কাজ শুরুর আগে অনেক বেশি মানুষ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা মিটিং করায় ব্যয় করবেন, নাকি বেজোসের মত গুটিকতক মানুষ নিয়ে স্বল্প সময়ের মিটিংয়ে সর্বাধিক কার্যকরী সিদ্ধান্তটি নেবেন।

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা