আপনি বুকে হাত দিয়ে বলেন তো মা যদি ট্রাউজার-গেঞ্জি পরে ছেলের সাথে ক্রিকেট খেলতো তখন ছবিটা কী আপনাদের সবার ভালো লাগতো ? নাকি একই ছবিতে কমেন্ট বক্স তখন গালিতে ভরে উঠতো!

মা ছেলের ক্রিকেট খেলার দৃশ্য দেখে মুগ্ধ না হবার উপায় নেই। অসাধারণ ছবি। এখানে কোন পোশাকে তারা আছেন, সেটাকে ছাড়িয়ে গেছে সাবলীল ক্রিক্রেট, মা ছেলের ভালোবাসা। আমার কিন্তু বেশ লেগেছে। এমনকি বোরকা না হয়ে মায়ের পরনে ক্রিকেটের ট্রাউজার-গেঞ্জি কিংবা শাড়ি হলেও আমার ভালো লাগতো। কিন্তু আপনি বুকে হাত দিয়ে বলেন তো মা যদি ট্রাউজার-গেঞ্জি পরে ছেলের সাথে ক্রিকেট খেলতো তখন ছবিটা কি আপনাদের সবার ভালো লাগতো ? নাকি একই ছবিতে কমেন্ট বক্স তখন গালিতে ভরে উঠতো!

সমস্যাটা ঠিক এখানেই। কিছু মানুষ যেমন বোরকা পরা এই ছবিটা নিতে পারেনি, আবার এই দেশেরই আরেকদল মানুষ ট্রাউজার-শার্ট কিংবা শাড়ি পরা ছবিতে অশ্লীততা খুঁজে পাবে। আমার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ হলো, যারা শার্ট-প্যান্ট বা শাড়ি পরা মায়ের ছবিটা নিতে পারবেন না, তাদের বড় অংশই হয়তো বোরকা পরার ছবিটাতে বেশি মুগ্ধ হচ্ছেন। আবার যারা বোরকার পরার ছবিটা নিতে পারছেন না, তারা হয়তো শাড়ি হলে মেনে নিতেন। সমস্যা দুদলেরই।

যারা মনে করেন পোশাক শুধুই পোষাক, আসলে সেটা তো নয়। পোশাক একটা দেশের সংস্কৃতি-জীবনযাপনের অংশ। শুধু পোশাকের সঙ্গে ধর্মের আমি কােন সম্পর্ক দেখি না। বিশেষত ইসলাম ধর্মের কোন পোশাক নেই। ইসলাম নারীদের পর্দা করার কথা বলেছে, ছেলেদের গা ঢাকার কথা বলেছে। কিন্তু আমরা আরবদের পোশাককে অনেক সময়ই ইসলামের পোশাক বানিয়ে ফেলি।

মা-ছেলের ক্রিকেট খেলার দৃশ্য মুগ্ধকর, পোশাক নয়

আপনারা যারা মনে করেন আরবদের জোব্বা পরাটা ইসলাম, তাদের মনে করিয়ে দেই, আরবের ভিন্নর্ধমীরাও একই পোশাক পরতো। কাজেই আপনি যদি আজ বোরকা বা জোব্বা দেখে ভাবেন সেটা ইসলামের পোশাক, সেটা আপনার ভুল ধারণা। আরব আর ইসলাম দুটো এক বিষয় না। প্রত্যেকটা জাতি তার নিজস্ব সংস্কৃতির পোশাক পরে।

তাকিয়ে দেখেন ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মুসলমানরা যে পোশাক পরে, ইউরোপ বা আফ্রিকার মুসলমানরা সেই পোশাক পরে না। আবার আরবের মুসলমানরা যে পোশাক পরে ভারতের মুসলমানরা সেই পোশাক পরে না। পবিত্র কোরান শরীফে মুসলমানদের জন্য কোন পোশাক খুঁজে পাবেন না। কিন্তু তারপরেও আমরা আরবদের পোশাক বানিয়ে ফেলি। সমস্যাটা এখানেই। ধর্ম আর সংস্কৃতি যে আলাদা সেটা আমরা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলি। আর ভুলে যাই সবকিছুর উপরে মানবতা।

মনে রাখবেন, আপনি যে ধর্ম, আদর্শের, সংষ্কৃতি বা যেই অঞ্চলেরই মানুষ হন না কেন, মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের প্রত্যেককে শ্রদ্ধা করতে হবে। সিরিয়ায় একজন শিশু মরলে যেমন মানবতার দায়, আফ্রিকা, ইয়েমেন বা একজন রোহিঙ্গা শিশু মরলেও সমানভাবে মানবতার দায়।

আমাদের মনে রাখতে হবে, এই পৃথিবীতে ধর্ম-জাতীয়তা-সংস্কৃতি-দেশ এসবের পরিচয় উঠে যতোক্ষণ না আমরা মানুষ হতে পারবো, ততোদিন এই পৃথিবীতে শান্তি বা সহিষ্ণুতা কোনটাই আসবে না। আমি সবসময় বলি এই পৃথিবীর সব সংকটের একটাই সমাধান- মানবতা। কাজেই চলুন সবার আগে মানুষ হই। মানবতার গান গাই। দেখবেন পৃথিবীর সুদিন এসেছে।

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন

আরও পড়ুন- ইসলামে পর্দাকে কতটুকু গুরুত্ব দেয়া হয়েছে?


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা