বলা হয়, জীবন যখন লেবুর মতো টক হয়ে যাবে, বুদ্ধি করে সেটাকে লেবুর শরবতে পরিণত করতে পারলেই কেল্লা ফতে! এসব কথা তো বলতে আর শুনতে মজাই লাগে, কিন্ত বাস্তবতা অনেক কঠিন...

আমি ইরফান...

আজ আমি আপনাদের সাথে আছি, আবার নেইও। আংরেজী মিডিয়াম নামের এই সিনেমাটা আমার জন্যে খুব স্পেশাল। বিশ্বাস করুন, আমাদের খুব ইচ্ছে ছিল, এই সিনেমাটা আমরা যতোটা যত্ন করে বানিয়েছি, ঠিক ততোটাই যত্নের সাথে এটার প্রচারণা চালাই। কিন্ত আমার শরীরের ভেতরে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথি বসে আছে, তাদের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে, দেখা যাক কে কাকে কনভিন্স করতে পারে। ফলাফল যা-ই হোক, আপনাদের জানানো হবে।

বলা হয়, জীবন যখন লেবুর মতো টক হয়ে যাবে, বুদ্ধি করে সেটাকে লেবুর শরবতে পরিণত করতে পারলেই কেল্লা ফতে! এসব কথা তো বলতে আর শুনতে মজাই লাগে, কিন্ত বাস্তবতা অনেক কঠিন। কিন্ত আসল ব্যাপার হচ্ছে, পজিটিভ থাকা ছাড়া আপনার হাতে আর কোন অপশনও নেই।

এই সিনেমাটা আপনাকে লেমোনেডের স্বাদ দেবে কিনা আমরা জানিনা, কিন্ত বাজী ধরে বলতে পারি, ভীষণ পজিটিভ ভাবনা থেকেই সিনেমাটা আমরা বানিয়েছি। আংরেজী মিডিয়াম আপনাকে হাসাবে, শেখাবে, কাঁদাবে, তারপর আবার হয়তো শেখাবে। সিনেমাটা উপভোগ করুন, সদয় হোন একে অন্যের প্রতি। আর হ্যাঁ, অপেক্ষা করুন, আমার জন্যে...

কথাগুলো প্রয়াত অভিনেতা ইরফান খানের। তার নামের শেষে এতো তাড়াতাড়ি এই বিশেষণ জুড়ে দিতে হবে সেটা ঘুনাক্ষরেও ভাবিনি কখনও। মরণ-ব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লম্বা একটা লড়াই শেষে যিনি ক্যামেরার সামনে ফিরেছিলেন আবার, অদম্য শক্তিতে নিজেকে ঠিক রেখে শেষ করেছেন আংরেজী মিডিয়াম সিনেমার শুটিং। সেই সিনেমা রিলিজের ঠিক আগে ভক্তদের এমন বার্তাই দিয়েছিলেন ইরফান।

একাদশে বৃহস্পতি গনগন করার কথা ছিল তার। কিন্ত হুট করেই হলো ছন্দপতন, হাই-গ্রেড নিউরো-এন্ডোক্রাইন ক্যানসার নামের এক জটিল রোগে আক্রান্ত হলেন ইরফান খান, চিকিৎসার জন্যে উড়ে গেলেন বিলেতে।

লম্বা সময় ধরে চিকিৎসার মধ্যে ছিলেন ইরফান। সেই অসুখের সাথে লড়াই করেছেন টানা দুই বছর। একটা পর্যায়ে হতাশ হয়ে জানিয়েছিলেন, লড়াই করার শক্তি ফুরিয়ে আসছে তার। ইরফানকে আর কখনও ক্যামেরার সামনে দেখা যাবে কিনা, সেটা নিয়েই শঙ্কা জেগেছিল ভক্তদের মধ্যে।

শারীরিক অবস্থা একটু স্বাভাবিক হতেই ইরফান ছুট লাগিয়েছেন। দাঁড়িয়েছেন ক্যামেরার সামনে। তিনি যেন জলের মাছ, অভিনয়টা তার কাছে পানির মতো, সেটা না থাকলে তার দম বন্ধ হয়ে আসারই তো কথা। তাইতো ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। ক্যান্সারকে হারিয়ে ক্যামেরার সামনে ফেরার যে অবিশ্বাস্য গল্পটা ইরফান লিখেছেন, সেটা অসম্পূর্ণই রয়ে গেলো। 

In the end, the whole life becomes an act of letting go. But what hurts the most is not taking a moment to say goodbye.

শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা