কোথায় ইনফেকশন হইসে? গালে আর ঘাড়ের মধ্যে। আপনি কি এতক্ষণ ইনফেকশন সারাচ্ছিলেন? মাথা নিচু করে ছেলেটা বললো, জ্বি ভাই। বলেই আমাকে দশ টাকা দিয়ে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি উঠে চলে গেল...

ক্যাম্পাস শ্যাডোর চিপা। সন্ধ্যার পর দুইজন অন্ধকারে বসে আছে। হঠাৎ করে দেখলে অবশ্য একজন মনে হয়। সাপের মতো জড়িয়ে বসে আছে দেখে দুইজন মিলেমিশে একজন হয়ে গেছে। ঘটনা কী? তারা কী করছে? কাছে গিয়ে বললাম, ভাইয়ের কি শরীর খারাপ? ছেলেটা বলে, না ভাই আমার শরীর ঠিকই আছে। ওর (মেয়েটার) শরীরটা একটু অসুস্থ।  

মনটা খারাপ হয়ে গেল। এই জায়গায় সন্ধ্যার পর এরকম অসুস্থ রোগী প্রায়ই দেখি। তারা বোধহয় গরীব, তাই এখানে এসে নিজেদের চিকিৎসা করে। আমি মানবতার খাতিরে ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করলাম- কী হইসে উনার? ভাবলাম, যদি তাদের কোনো সাহায্যে কাজে লাগতে পারি। সে বললো, তেমন কিছু না ভাই৷ ওর একটু ইনফেকশন হইসে। এইজন্যে আর কি.. কোথায় ইনফেকশন হইসে? গালে আর ঘাড়ের মধ্যে।  আপনি কি এতক্ষণ ইনফেকশন সারাচ্ছিলেন? মাথা নিচু করে ছেলেটা বললো, জ্বি ভাই। বলেই আমাকে দশ টাকা দিয়ে সেখান থেকে তাড়াতাড়ি উঠে চলে গেল।  

দশ টাকা কেন দিলো বুঝলাম না৷ ভয় পাইসে কেন? এত মহৎ মনের একটা ছেলে। কি সহজ সরল। নামটাও সুন্দর, শুভ... যাইহোক, পরদিন সন্ধ্যায় কলাভবনের এইদিকে দেখি সেইম কাহিনী। সামনে গিয়ে উঁকি দিয়ে দেখলাম, কালকের ছেলেটাই, মানে শুভ। কিন্তু আজকে তার সাথে অন্য মেয়ে। মেয়েটার গাল লাল হয়ে আছে। আমি খু খু করে কাশি দিয়ে শুভর দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। আমার দিকে তাকিয়ে শুভ কেমন ভ্যাবলার মতো চাহনি দিলো।

ছেলেটার প্রতি আমার মুগ্ধতা বাড়ছে। কি সুন্দর ফ্রিল্যান্সিং করে এই বয়সে জীবন গড়েছে। আজকেও বোধহয় ইনফেকশন সারাচ্ছিলো। কত করে পায় এরকম ইনফেকশন সারাতে কে জানে! শুভ উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে বললো, ভাই একটু শুনেন সাইডে আসেন। আমি বললাম, আরেহ নাহ সাইডে আসতে হবে না। টাকা দিতে হবে না আজকে। চালিয়ে যান। আপনার ভিজিটিং কার্ড আছে নাকি? ছেলেটা বুঝতে পারলো না বোধহয়। 

আমি বললাম, আপনার নাম্বারটা দেন। যোগাযোগ করব পরে। সে নাম্বার দিলো।  নাম্বারটা পেয়ে খুশি হলাম। আমার পরিচিত একটা মেয়ে আছে, জান্নাত নাম। সে প্রায়ই আমার কাছে বিভিন্ন পরামর্শ চায়। দুইদিন আগে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ঢাকা শহরে ভাল চর্মরোগ বিশেষজ্ঞর খোঁজ বের করে দিতে পারব কিনা। তার ধারণা তার গালের চামড়ায় ইনফেকশন হয়েছে। আমি মেয়েটাকে নক দিয়ে বললাম, শুনো, শহরের সেরা ইনফেকশন বিশেষজ্ঞ খুঁজে পেয়েছি। কালকে ক্যাম্পাস শ্যাডোতে চলে এসো সন্ধ্যায়। সিরিয়াল দিয়ে রেখেছি৷ আর এইদিকে শুভর নাম্বারে ফোন দিলাম। তাকে পরিচয় দিতেই সে গদগদ। বললো, ভাই বলেন কী করতে পারি.. 

- ইনফেকশন সারাতে হবে।  
- সর‍্যি? 
- মানে, আমার একটা রোগী আছে। ওরও ইনফেকশন আছে। একটু দেখে টেখে ইনফেকশন সারিয়ে দিবেন। আপনাকে পনেরো টাকা দিব। মেয়েটার কাছ থেকে কোনো টাকা রাখবেন না, ওকে?  
- ভাই কি মজা করতেসেন?  
- না, বিষয়টা গুরুতর। মেয়েটা অনেকদিন ধরে ইনফেকশনে ভুগছে। আপনি যেভাবে ফ্রিল্যান্সিং করে ইনফেকশন সারাচ্ছেন, আমি আপনার কথা বলেছি তাকে। সে রাজি।  
- সত্যি রাজি? 
- হ্যাঁ, কাল সন্ধ্যায়... 

জান্নাত বললো, কোথায় যাব? 
- চিপায়।  
- ওখানে কেন? আর এই ছোকরা কে? এই আপনার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ? ঘটনা কী বলেন তো ক্লিয়ার করে।  আমি ক্লিয়ার করে বলার আগেই দেখতে পেলাম, শুভ ছেলেটা দৌড় দিয়ে পালিয়ে গেল৷ কি আজব ছেলে! অবশ্য ফ্রিল্যান্সারদের মন বোঝা দায়। মেয়েটাকে হয়ত পছন্দ হয়নি তাই দৌড়ে পালিয়েছে। মেয়েটাতো খারাপ না দেখতে।

ভাগ্যিস, শুভ কিভাবে ইনফেকশন সারায় আগেই দেখে নিয়েছিলাম ক্লোজ এঙ্গেলে। মেয়েটাকে কথা যেহেতু দিয়েছি, এখন আমাকেই দায়িত্ব নিতে হবে। কিছু করার নেই। নো রিস্ক নো গেইন। মেয়েটা বললো, ঘটনা কী বলেন তো। ও পালালো কেনো! আর ইনফেকশন সারানোর কথা বলে আমি বাসা থেকে এসেছি। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি বললাম, ওই ছেলেটা খুব ভাল ইনফেকশন সারায়। তোমাকে দেখে হয়ত লজ্জা পেয়েছে। খুব ভাল ছেলে, ভাল কাজ জানে। সমস্যা নেই, আমিও শিখে নিয়েছি। আমিও পারব।  জান্নাত বললো, মানে কী! কিভাবে? বললাম, আগে চলো বসি ওখানে।  

মেয়ের নাম জান্নাত। কিন্তু তার ইনফেকশন সারাতে গিয়ে আমার জীবন হয়ে গেল জাহান্নাম। আমি যখনই শুভর স্টাইলে সাপের মতো তাকে জড়িয়ে ধরতে গেলাম, তখন মেয়েটা আচমকা চিৎকার করে লোক জমা করলো। আমি খেলাম গণপিটুনি। মারবি মার ভাল কথা, কিছু ইডিয়ট খামচি মেরে অবস্থা কাহিল করে দিয়েছে। গালের খামচির দাগে ভরে গেছে। নখ কাটে নাই কতদিন ইডিয়টগুলা কে জানে। মনে হচ্ছে, গালে ইনফেকশন হয়ে গেছে.. 

নিজের গালের ইনফেকশন তো নিজে সারানো যায় না। তাই, তিনদিন পর শুভকে ফোন দিলাম। শুভকে কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম, ভাই শুভ আপনি একটু আসবেন? বিশ টাকা দিবো। 
- কেন ভাই, কী হইসে? 
- ইনফেকশন।  
- কার?  
- আমার.. 
শুভ খুব গম্ভীর গলায় বললো, ভাই আমার আজকে একটা পাইলসের রোগী দেখতে হবে...

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা