'ইনসেপশন' মুভির যথার্থ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অনেক বড় মুভিবোদ্ধারাও অনেকবার অনেকভাবে হিমশিম খেয়েছেন। কিন্তু এখানে সিনেমাটির সব অমীমাংসিত প্রশ্নের সমাধান দেওয়া হয়েছে। মিলিয়ে দেখুন না!

রায়হান খান:

ক্রিস্টোফার নোলানের মুভিগুলোর মধ্যে একটা ভিন্নধর্মী চমক থাকে, তা মোটামুটি সকল সিনেমাপ্রেমীই জানেন। তার মুভিগুলোর ধাঁচই এমন যে এগুলো একবার নয়, একের অধিকবার দেখা অবশ্যই জরুরি হয়ে পড়ে। ইনসেপশন ঠিক তেমনই একটি অসাধারণ মুভি। যার যথার্থ ব্যাখ্যা দিতে অনেক বড় মুভিবোদ্ধারাও অনেকবার অনেকভাবে হিমশিম খেয়ে গিয়েছেন। একজন মুভি ফ্যান হিসেবে এ মুভিটি নিয়ে সামান্য ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে যারা এ মুভির কিছু ঘটনা বুঝতে অক্ষম হয়েছেন, তাদেরকে আমি কিছুটা ধারণা দিতে চাই। তবে মানুষ মাত্রই ভুল করে, তাই ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি।

সারসংক্ষেপ

ডম কভ একজন স্বপ্নের সওদাগর, যিনি বিভিন্ন মানুষের স্বপ্নের মধ্যে ঢুকে গিয়ে বিভিন্নরকম মারপ্যাঁচের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে আসতে পারেন। স্বপ্ন এবং বাস্তবের পার্থক্যের জন্য তিনি ব্যবহার করেন একটি লাটিম, যার নাম "টোটেম"। তার পার্টনার আর্থার এবং তার কাছে এ টোটেমটি থাকে, যা তারা সর্বদা পকেটে পুরে রাখেন। তবে তার মৃত স্ত্রী ম্যাল তার স্বপ্নে সর্বদা বাধা হয়ে আসেন। কেননা তার সাথে কবের কিছু স্মৃতি থাকে, যেগুলো কবকে স্বপ্নের মাঝেও তাড়া করে বেড়ায়। আর ফলস্বরূপ তিনি তাকে নিয়ে বিপাকে পড়েন, কারণ ম্যাল একটা না একটা ঝামেলা পাকাবেনই তার স্বপ্নে এসে! 

একারণে স্ত্রীকে তিনি মনের ভুলে খুন করে ফেলেন, যার দায়ে তিনি এয়ারপোর্টে ধরা খাবেন; এই ভয়ে তিনি আমেরিকাতে তার সন্তানদ্বয়ের কাছে ফিরেও যেতে পারছেন না। সাইতো নামের এক ব্যবসায়ী তাকে প্রতিশ্রুতি দেন যে যদি তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী মরিশ ফিশালের পুত্র রবার্ট ফিশালের স্বপ্নে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে আনতে পারেন, তবে তাকে পাসপোর্ট ক্লিয়ার করে আমেরিকাতে তার সন্তানদের নিকট ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন তিনি। 

কবের দায়িত্বটা ছিল তথ্য চুরি ছাড়াও নতুন তথ্য প্রতিস্থাপন করা। কারণ সাইতো চান ফিশাল যাতে নিজের বাবার কোম্পানি বন্ধ করে নিজ থেকে কিছু করেন। পরবর্তীতে রবার্ট ফিশাল যে প্লেনে করে লস অ্যাঞ্জেলেস যাচ্ছিলেন, সেখানে কব ঢুকে পড়েন তার দলবল নিয়ে যেখানে তার স্বপ্নে ঢুকে পড়েন তারা (সাইতোসহ)। স্বপ্নের মধ্যে স্বপ্ন দেখে তিন-তিনটি স্বপ্নের এক পর্যায়ে সাইতো মারা যান। আর তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কথা থাকে স্বপ্নে কেউ মারা পড়লে তিনি লিম্বোতে চলে গিয়ে স্বপ্নে আটকা পড়বেন এবং আর ফিরে আসতে পারবেন না। আর সাইতো লিম্বোতে চলে যান। অন্যদিকে কব আবারো নিজের স্ত্রীকে দেখতে থাকেন এবং পরে জানতে পারেন কেন ম্যাল সুইসাইড করেছিলেন এবং তার জন্য আসলেই অনেকাংশে তিনিই দায়ী। 

রবার্ট ফিশারের স্বপ্নে আসলে তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে না। তবে তারা যে সেফ ভল্টে তথ্যটি ছিল তার নম্বর জোগাড় করতে সক্ষম হোন। আর তথ্য চুরি ছাড়াও তারা যেন নতুন তথ্য প্রতিস্থাপন করতে পারে, তাই স্বপ্নে সাজানো হয় যে, তার বাবা তাকে বলছে "তুমি নিজের মতো হতে পারলে না"। সাইতো তো এটাই চান, ফিশাল যাতে নিজের বাবার কোম্পানি বন্ধ করেন। সব ধামাকা শেষে সকলের ঘুম ভাঙে এবং কব তার সন্তানদের নিকট ফিরে যান। কিন্তু শেষের ঘটনাটি আদৌ স্বপ্ন নাকি সত্যি ছিল তা জানার জন্য কব যখন টোটেমটি ঘুড়ান সে ঘূর্ণন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই মুভিটির সমাপ্তি হয়ে যায়।

প্রশ্নোত্তর পর্ব

মুভি সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সকলের মাথায়ই টোটেমের মতো ঘুরছে। সেগুলো হলো, 

-স্বপ্নে কিছু চুরি করা/নতুন তথ্য প্রতিস্থাপন কি সম্ভব? 

উঃ- অবশ্যই সম্ভব। একজন মানুষ যখন স্বপ্ন দেখে তখন সে বুঝতে পারে না, সে যা দেখছে করছে তা কি বাস্তব নাকি স্বপ্ন! তাই যদি স্বপ্নে কেউ এসে তাকে কিছু বোঝানো শুরু করে, তখন সে সব সত্যি মানতে শুরু করে এবং তাকে বিশ্বাস করে ফেলে। এখন যাকে বিশ্বাস করা যায় তাকে অনেক কিছুই বলা যায়। সেটা ব্যাংক ভোল্টের নম্বর হোক, আর ফেসবুকের পাসওয়ার্ড। 

-আর্কিটেকচার কী? 

উঃ- ইন্সেপশন মুভিতে আর্কিটেকচার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সবার প্রিয় লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও আকা কব। যার কাজ হলো, স্বপ্নের নকশা করা স্বপ্নের রাস্তা গোছানো। স্বপ্ন ঠিকঠাকভাবে কাজ করছে কিনা তা নজরদারি করা। সন্দেহজনক কিছু টের পেলে স্বপ্ন থেকে "কিক" ব্যবহার করে বের হয়ে আসা। 

-কিক কী? 

উঃ- আমরা অনেকেই স্বপ্নে পাহাড় থেকে, ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা যাই। আর মরার পর পরই আমাদের ঘুম ভাঙে। আমরা অনেকক্ষন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ভাবি "কীরে ভাই, বেঁচে আছি তাইলে"! এই মৃত্যুর মাধ্যমে স্বপ্ন থেকে বের হয়ে আসাটাই হল কিক। যা মুভির মধ্যে শুরু থেকেই দেখানো হয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করার জন্য একটি স্বপ্ন যথেষ্ট নয়। যার কারণে কেমিস্টের মাধ্যমে তারা এক স্বপ্ন থেকে আরেক স্বপ্নে প্রবেশ করে। আরেক স্বপ্ন থেকে অন্য স্বপ্নে। 

-তবে কেমিস্ট কী? 

উঃ- এক স্বপ্ন থেকে অন্য স্বপ্নে প্রবেশ করলেই প্রথম স্বপ্ন থেকে দ্বিতীয় স্বপ্নের দ্রুততা বৃদ্ধি পায়, তৃতীয় স্বপ্নে প্রবেশে আরো বেশি। অর্থাৎ প্রথম স্বপ্নে যে সময়ে একটা ডিম ভাজা যাবে, দ্বিতীয় স্বপ্ন ততক্ষণে অম্লেট খেয়ে পেট সাফ হয়ে যাবে, আর তৃতীয় স্বপ্নে পেট সাফ হয়ে আরো দুবার ওম্লেট খাওয়া যাবে! অনেকটা ইন্টারস্টেলারের এক গ্রহের ২ ঘন্টার সমান পৃথিবীর ২৩ বছরের মতোই ব্যপারটি। কেমিস্টের কাজই হলো, স্বপ্নের স্তরগুলিতে পৌঁছানোর জন্য যে লিকুইড দরকার, সেটা তৈরি করা, যেটা ব্রিফকেসের মধ্যে থাকে। স্বপ্নের ঘুমন্ত মানুষগুলোকে কখন কীভাবে কিক দিতে হবে সে সময়ে কিক দেওয়ার ব্যবস্থা করা। কেমিস্টের কাজটি খুবই জটিল, কারণ সময়ের অংক কষে কখন কিক দেওয়া হবে আর কার ঘুমের গভীরতা কতটুকু হবে, তা ঠিক করা অত্যন্ত জটিল।

-কবের স্ত্রীর সমস্যা কি? তার সাথে কি ঘটেছিলো? 

উঃ- প্রায় শুরু থেকেই আমরা দেখতে পাই, কবের স্বপ্নের মধ্যে কোনো না কোনোভাবে আচমকা ম্যাল এসে উপস্থিত, আর তার ইনসেপশন মিশনের মাঝে পাকান গণ্ডগোল! এর কারণটা কী? এখানে আসলে তেমন প্যাচ নেই, তবুও সাধারণ বিষয়গুলোই আমাদের অনেকের প্যাঁচানো লাগে। তাই এর ব্যাখ্যায় যাওয়া যাক। ম্যাল এবং কব স্বামী-স্ত্রী, যাদের দুটি ফুটফুটে সন্তানও রয়েছে। কিন্তু তারা একদিন সিদ্ধান্ত নেন তারা একের পর এক লেয়ার পাড় করে লিম্বোতে চলে যাবেন যেখানে শুধু তারা দুজনে মিলে এক স্বপ্নের রাজ্য গড়বেন, যেখানে তাদের ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই রইবে না। যেই ভাবা সেই কাজ। তারা হারিয়ে যান লিম্বোতে। 

-লিম্বো (Limbo) কী? 

উঃ- লিম্বো হল স্বপ্নের সবচেয়ে গভীরতম অংশ। অর্থাৎ লেয়ারের পর লেয়ার পার করতে করতে এমন স্থানে পৌঁছে যাওয়া যেখানে গিয়ে বাস্তবতা আর স্বপ্নের পার্থক্য ভুলে যায় সবাই। সিনেমার এক পর্যায়ে যেখানে সাইতো এবং এরপরই কব চলে যান। তো তারা লিম্বোতে পৌছে যাওয়ার পর ম্যাল তার টোটেম টি ভল্টের মধ্যে রেখে দেন। 

-টোটেম কী? 

উঃ- এতবার যার নাম নেওয়া হলো তার সম্বন্ধে জানিয়ে দেওয়াই লাগে এবার। টোটেম হলো এমন এক ঘূর্ণন বস্তু যা দেখতে অনেকটা লাটিমের মতো। এই টোটেম দ্বারা স্বপ্ন এবং বাস্তবের পার্থক্য বিবেচনা করা হয়। যদি আমরা বাস্তবজগতে থাকি, তখন টোটেমটি ঘুরানোর পর কিছু সময় পর পড়ে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে। আর স্বপ্নের মধ্যে টোটেমটি ঘুরানোর পর তা অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ঘুরতেই থাকবে। এভাবেই আমাদের স্বপ্নচোরেরা তাদের স্বপ্ন এবং বাস্তবতার পার্থক্য করেন এ মুভিতে। 

ম্যাল টোটেমটি ভল্টের মধ্যে থামিয়ে রেখে দেন। এবং ধীরে ধীরে বিশ্বাস করতে থাকেন, এটাই বাস্তবতা বা রিয়েলিটি, যেখানে তারা বসবাস করছেন। কেননা কব তার ব্রেনের মধ্যেও নতুন কিছু প্রতিস্থাপন করেন, যেটা উপরে সাইতো করার জন্য কবকে অফার দেন। আর কব ম্যালের ব্রেনের ভেতরে নতুন রিয়েলিটির বীজ বুনে দেওয়ার দরুন ম্যাল স্বপ্ন আর রিয়েলিটির পার্থক্য সম্পূর্ণ ভুলে যায়। কব একপর্যায়ে এরকম জনশূন্য স্বপ্নের দুনিয়া থেকে বের হয়ে আসার জন্য ম্যালকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। 

কিন্তু ম্যাল রিয়েলিটি আর ড্রিমের পার্থক্য ভুলে যাওয়ার দরূন কিছুই বুঝতে চাননি এবং অনেক হতাশ হয়ে যান। পরবর্তীতে কব চুপিসারে গিয়ে ম্যালের ভল্ট খুলে সেখানে টোটেমটি ঘুরিয়ে দিয়ে আসেন। আর শেষমেশ ম্যালকে বুঝিয়ে তারা একত্রে আত্মহত্যা করেন এবং একের পর এক কিকের সাহায্যে ড্রিম থেকে বেরিয়ে আসেন।  তারা রিয়েলিটিতে ফিরে আসলেও ওই যে ম্যালের সোজা বাংলায় ব্রেই ওয়াশড হয়ে যাওয়ায় তিনি তখনো বিশ্বাস করতে পারেননি যে তারা রিয়েলিটিতে ফিরে এসেছেন। কোনোভাবেই তিনি মানতে পারছিলেন না। তাই তাদের বিবাহবার্ষিকীর দিন ম্যাল তাদের হোটেল রুমের জানালা থেকে লাফ দিয়ে ড্রিম থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়ে সত্যি সত্যিই মারা যান।

আত্মহত্যা হলেও এর জন্য দায়ী ছিলেন কব। কবকে দায়ীও করে যান তার স্ত্রী ম্যাল। তিনি মৃত্যুর পূর্বে একটি নোট লিখে যান যে তার স্বামী তাকে হত্যা করেছেন আসলে ম্যাল চেয়েছিলেন কবও যেন পুলিশের ভয়ে আত্মহত্যা করেন, আর রিয়েলিটিতে ফিরে যান যেখানে তারা ছিলেনই রিয়েলিটিতে। যার কারণে পুলিশ তার পিছনে লেগেই ছিল। আর তিনি তাদের থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে ঘুরছিলেন আর পাসপোর্ট ক্লিয়ার না হওয়ার কারণে নিজের সন্তানদের কাছেও যেতে পারছিলেন না। আর তার মৃত্যুর কারণে কবের মস্তিষ্কে তার একটা স্মৃতি রয়ে যায় যার কারণে কবের স্বপ্নে বারবার ম্যাল এসে হাজির হয়ে ঝামেলা পাকিয়ে দিয়ে চলে যান। 

তাই পরবর্তীতে যখন সাইতো তাকে আবার ড্রিম স্টিলের অফার দেন তখন তিনি ড্রিমের আর্কিটেকচার হিসেবে দায়িত্ব দেন এরিয়াডন নামের এক আর্কিটেকচারকে, কারণ কবের আর্কিটেক্টিংয়ে ম্যাল কোনো না কোনোভাবে এসে পড়েনই! যেকোনো ড্রিমের নকশা, মেজ, রাস্তা, ঘটনা দুইভাবে করা যায়। ১। স্মৃতির মাধ্যমে ২। সৃজনশীলতার মাধ্যমে স্মৃতির স্বপ্নে অতীতের যেকোনো ঘটনা থাকবে। যেখানে রাস্তাগুলো থাকবে, পরিচিত মানুষগুলোও থাকবে চেনা। অন্যদিকে সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে আর্কিটেক্ট নিজের মতো নতুন রাস্তা নকশা সব তৈরী করবে, আর তার ইম্যাজিনারি বা কল্পনা থেকে আশেপাশের মানুষ গুলো তৈরী হবে। 

কবের স্বপ্ন পরিকল্পনায় নতুনত্ব থাকলেও স্ত্রী হত্যার স্মৃতিটা ভয়াবহভাবে আটকে যায়। তাই এরিয়াডনের আর্কিটেক্টিংয়ের মাধ্যমে তিনস্তরের স্বপ্ন দেখে তারা এবার ইনসেপশনের মিশনে নামে। যদিও এক পর্যায়ে কবের স্ত্রী ম্যালের আগমন ঘটেই, কবের মেমোরি অনেক শক্তিশালী হওয়ার কারণে। এবং সাইতো এক পর্যায়ে কিকের বাইরে মারা পড়েন এবং লিম্বোতে চলে যান। 

-কিকেও তো তারা মারা যায়, কিন্তু কিকের মাধ্যমে তারা লিম্বোতে পৌঁছায় না?  

উঃ- এর কারণ প্রতিটি স্বপ্নের যখন নকশা করে ঘটনা-রাস্তা সব সাজানো হয় তখন সেখানে এও ঠিক করা হয় কখন কিভাবে কোথায় কিক দিয়ে স্বপ্ন থেকে বের হয়ে আসা যাবে। সাইতো যে গুলির মাধ্যমে স্বপ্নে মারা যান সেটি ছিল তাদের পরিকল্পনার বাইরে যার দরুন সাইতো মরে গিয়ে রিয়েলিটিতে নয়, লিম্বোতে চলে যান। তাদের ইনসেপশনের প্ল্যানিং প্লটিং এর অবসান ঘটলেও কব সাইতোকে খুজতে লিম্বোতে চলে যান। 

-কব এবং এরিয়াডন কিভাবে বুঝতে পারে রিয়েলিটি আর ড্রিমের পার্থক্য? 

উঃ- ইনসেপশন নিয়ে অনেক বড় বড় বিশ্লেষকদের যুক্তি পড়লেও এ ব্যাপারটি তারা প্রায় সবাই-ই এড়িয়ে গিয়েছেন।  

আসলে তারা দুজনই ড্রিমের আর্কিটেক্ট, যার কারণে তারা ড্রিমের নকশা করে এরপর কি ঘটবে, এরপর কী আছে-না আছে, সবই জানে। তাই তারা আর্কিটেক্ট হওয়ার দরুন লিম্বোতে গেলে বুঝতে পারে এবং লিম্বো থেকে কিকের সাথে টাইমিং মিলিয়ে আত্মহত্যা করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। সেজন্যই কব ম্যালকে নিয়ে বের হয়ে এসেছিলেন এবং পরবর্তীতে সাইতোকে নিয়েও। 

-Self Defense কি ও কেনো? 

উঃ- স্বপ্ন চোরদের কাছ থেকে রক্ষা পাওয়ার একটা সেল্ফ ডিফেন্স থাকে মুভিতে। এই ডিফেন্সকে দেখা যায় প্রথমবার সাইতোর তথ্য চুরি করার সময়, যারা বিদ্রোহ করে তারাই ডিফেন্স। আর ফিশালের মাথায় নতুন আইডিয়া প্রতিস্থাপন করতে যাওয়ার সময়ও অনেক হামলাকারী আসে। এরা মুলত শিকারির ডিফেন্স। তারা আসলে স্বপ্নে তথ্য চুরি হওয়া থেকে বা নতুন বীজ বোণা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। এজন্যই ফিশেলের স্বপ্নে দেখা যায় এ ডিফেন্ডারগণ কব এবং তার দলবলকে বাধা দেন।

ক্লাইম্যাক্স

মুভির সবচাইতে জটিল দিক বোধহয় ছিল এ মুভির এন্ডিংয়ে, যেখানে প্রায় অনেক কিছুই অগোছালো ছিল। যেমন কবকে সমুদ্রের পাড়ে দেখা যায়, সাইতোকে বৃদ্ধ দেখা যায়, তারা আবার লিম্বো থেকে ফিরে যায় নাকি আসলেই যায় না ইত্যাদি। 
১। কব সমুদ্রের পাড়ে ছিলেন কারণ, প্রথম লেয়ারে যখন ইউসুফ তাদের গাড়ি নিয়ে পানিতে পড়ে যায় তখন তারা সবাই বের হয়ে আসলেও কব কিন্তু পানিতেই থাকেন যার কারণে তিনি লিম্বোতে সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে (সময়টা আনুমানিক নির্দিষ্ট না) এমন স্থানে পৌছে যান যেখান থেকে তাকে সাইতোর লোকজন উঠিয়ে নিয়ে তাকে সাইতোর সামনে হাজির করেন। 

২। সাইতো থুড়থুড়ে বুড়ো ছিলেন কারণ তিনি কবের আগে এসে লিম্বোতে পৌছান তিনি। অর্থাৎ বেশি সময় ধরে থাকার কারণে বৃদ্ধে পরিণত হোন। আর লিম্বোতে তিনি নিজের রাজ্য তৈরী করেন কল্পনা দ্বারা যেখানে তার কর্মকর্তাদের দেখা যায় যারা তার ইম্যাজিনেশন ব্যতীত কিছুই ছিলেন না।

৩।সাইতো প্রথমে জানতেন না তিনি স্বপ্নে আছেন। কিন্তু কবকে দেখে তার সব মনে পড়ে যায় এবং তিনি বুঝতে পারেন এতদিন তিনি স্বপ্নে ছিলেন। তিনি বুঝতে পারেন তিনি রিয়েলিটিতে নেই। কিন্তু লিম্বোতে শুধু আত্মহত্যা করলেই বেরিয়ে আসা যায় না। কিকের টাইমিং অনুযায়ী নিজেদের বের করে আনতে হয়, যা শুধু মাত্র আর্কিটেকচার ছাড়া আর কেউ জানেন না। তাই কব আসেন তাকে বের করে আনতে এবং কব সত্যিই এবং শেষের দৃশ্যটা কি স্বপ্ন ছিল নাকি বাস্তব? 

এ প্রশ্নের আসলে কোনো উত্তর নেই। আর ক্রিস্টোফার নোলান তার এন্ডিং টা রেখেছিলেনই এমনভাবে, যাতে সবাই এ নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকে। অর্থাৎ পয়েন্ট ড্রিম বা রিয়েলিটি নয়, পয়েন্ট কব তার সন্তানদ্বয়ের নিকট পৌঁছে গিয়েছেন। সেটা বাস্তব হোক আর মিথ্যা। তবে যুক্তিখণ্ডন করতে গেলে খুব সহজেই বলা যায় তিনি রিয়েলিটিতে তার সন্তানদের নিকট ফিরে গিয়েছিলেন, কেননা স্বপ্নের মধ্যে তার সন্তানদের চেহারা দেখানো হয় না, যার কারণে ঠিক যখনই তাদের সন্তানদের চেহারা দেখানো হয়, তখনই বোঝা যায় তিনি রিয়েলিটিতে গিয়েছেন অবশেষে। 

২:২০:৫২ তে টোটেমটি ঘুরতে থাকলেও ২:২০:৫৪ তে টোটেমটি একদিকে হেলে পড়ে আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে টোটেম পড়ে যাওয়ার একটা শব্দ শোনা যায়। অর্থাৎ ক্লিয়ারলি বোঝা যায় তিনি রিয়েলিটিতে ফিরে গিয়েছিলেন!


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা