আপনি হয়তো আপনার কোন বন্ধুর কথা ভাবছেন, অনেক দিন তার সাথে যোগাযোগ নেই, সেই মুহুর্তেই হয়তো তার কাছ থেকে ফোন আসলো আপনার কাছে! এমন অদ্ভুত সব ঘটনা কেন ঘটে?

আমাদের সকলেরই এমন কিছু কিছু ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা ঠিক যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, সেগুলোকে আমরা কাকতালীয় বলে চালিয়ে দিতে চাই। যেমন- আপনি হয়তো আপনার কোন বন্ধুর কথা ভাবছেন, অনেক দিন তার সাথে যোগাযোগ নেই, সেই মুহুর্তেই হয়তো তার কাছ থেকে ফোন আসলো আপনার কাছে!

অথবা হঠাৎ কোনো বন্ধুর সাথে রাস্তায় দেখা হয়ে গেল, তার সাথে আড্ডার ছলে এমন কিছু ব্যাপারে কথা হলো যাতে আপনার জীবনই পালটে গেল! অথবা আপনি কোনো একটি প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন, হঠাৎ কোন পত্রিকা বা টিভি শো দেখে আপনার উত্তর পেয়ে গেলেন! 

এসবকেই আমরা বলি কাকতালীয়। কাকতালীয় ঘটনাগুলো মাঝে মাঝে এমনভাবে ঘটে যে এগুলোকে বিশ্বাস করাই কঠিন হয়ে যায়। যেমন ধরুন, হলিউড অভিনেতা এন্থনি হপকিন্সের ঘটনাটা। তাঁর একবার “দ্য গার্ল ফ্রম পেট্রোভকা” নামের একটি বইয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি সিনেমায় অভিনয় করার কথা ছিল। বইটির লেখক জর্জ ফিফার।

তো চরিত্রটি আরো ভালো করে বোঝার স্বার্থে হপকিন্স বইটি পড়ে দেখতে চাইলেন। কিন্তু বিধি বাম, বইয়ের কপি তিনি কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলেন না। না কারো সংগ্রহে, না কোন বইয়ের দোকানে। তিনি ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে পড়ছিলেন বইটি না পেয়ে। যখন তিনি প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছেন, হঠাৎ একদিন সাবওয়েতে অপেক্ষা করার সময় দেখলেন কেউ একজন বইটি বেঞ্চে ফেলে গেছে! 

পরবর্তীতে যখন শুটিং শুরু হচ্ছিল, এয়ারপোর্টে একবার দেখা পেয়ে গেলেন লেখক জর্জ ফিফারের। ফিফার তাকে বললেন, তিনি তার এক বন্ধুকে তার বইটির সবচেয়ে মূল্যবান কপিটি গিফট দিয়েছিলেন, কারণ বইয়ের সাথে তার নোট ছিল। কিন্তু বন্ধু সেই বই কোন এক সাবওয়ের বেঞ্চে ফেলে এসেছে। পাঠক বুঝতে পারছেন তো বইয়ের সেই কোন কপির গল্প! 

এই ঘটনাগুলোকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? কিছু গবেষক এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যেমন- বিশ্ববিখ্যাত মনোবিদ কার্ল গুস্তাভ ইয়ুংয়ের মতে, 'পৃথিবীর সব ঘটনা, সব মানুষ, সব কিছু পরস্পরের সাথে সংযুক্ত'। এই ধারণার নাম “সিনক্রোনাইসিটি”, যা আমাদের জগতের সবচেয়ে বড় রহস্যের একটি। 

ইয়ুংয়ের মতে, প্রতিটি ব্যক্তি ও তার পরিবেশের মধ্যে খুবই ঘনিষ্ঠ সংযোগ থাকে। ব্যক্তির চারপাশের সময়, স্থান, ব্যক্তির সচেতন ও অসচেতন মন সবকিছু পরস্পরের সাথে যুক্ত। একটি নির্দিষ্ট সময়ে, একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংযোগগুলো অনেক সময় শক্তিশালী আকর্ষণ তৈরি করে। ফলে এমন কিছু ঘটে যাকে আমরা বলি মিরাকল বা এক্সিডেন্ট! 

এই সংযোগ ও এর সাথে সম্পর্কযুক্ত মানুষগুলো আপনার যত কাছাকাছি থাকবে, তত বেশি ছোট ছোট জিনিসের প্রতি আপনার মনোযোগ আকর্ষিত হবে। আপনার ইচ্ছা বা কল্পনা এইসব বস্তুকে আপনার দিকে আকর্ষণ করবে। ফলে আপনি মনেপ্রাণে যা চাচ্ছিলেন, তা আপনার সামনে হাজির হবে! 

যদিও এই ব্যাপারটায় শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব না। তারপরও আমরা জানি আমাদের সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া কিছুটা রহস্যময়, কাজেই চারপাশের পরিবেশের প্রতি আমাদের আরো মনোযোগী হওয়া উচিত; যাতে আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সিগন্যাল মিস না হয়ে যায়! আমরা যে সমস্যার সমাধান খুঁজছি, তার সমাধান হয়তো কোন সূক্ষ্ম ইঙ্গিত আকারে আমাদের সামনেই আছে। গৌতম বুদ্ধ অবশ্য বলেছিলেন,

তোমরা তোমাদের হৃদয়ের অভিপ্রায়কেই সামনে দেখো!

(ব্রাইটসাইড অবলম্বনে)

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা