আজকে যারা এ প্লাস পেয়েছে, আগামী ৬-৭ বছর পর এরাই যারা এ প্লাস পায়নি তাদের চেয়ে কমপক্ষে ৫ গুন বেশি ডিপ্রেশনে ভুগবে। কেন জানেন?

আজকে যে ছেলে ফেল করার লজ্জায় কোনোভাবে টাকা পয়সা জমিয়ে ইউরোপ পাড়ি দিতে পারবে, দশ বছরের মধ্যে সে যে টাকা বৈধভাবে ইনকাম করতে পারবে, এ প্লাস পাওয়া মেধাবী ১০ বছর পর চাকরিতে জয়েন করে এই টাকা ইনকাম করতেই অর্ধ জীবন পার করে ফেলবে। মেধাবী দেশের সবচেয়ে ভালো চাকরিটিও যদি পায় এবং নামকরা ট্যাকনিক্যাল প্রফেশনাল (ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার) না হতে পারে তবে আজকে এ বছর যে ফেল্টুশ ইউরোপ গেছে তার সমান টাকা বৈধভাবে বাকি জীবনেও ইনকাম করতে পারবে না।

টেনেটুনে মেট্রিক পাশ করা অনেক মেয়েই আছে যারা নানাবিধ কোটার জোরে এসএসসি পাশ করেই প্রাইমারি টিচার হিসেবে জয়েন করে ফেলেছে, টেনেছে পড়ালেখায় ইতি। ঐ একই ব্যাচে এ প্লাস পাওয়া মেয়ে ইন্টারেও এ প্লাস পেয়ে মোটামুটি মানের পাবলিকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে বিসিএস-ব্যাংক পর্ব পার হতে না পেরে এক সময় সেই প্রাইমারি টিচার হিসেবেই জয়েন করেছে।

মিঃ হাইজিন- জীবাণুমুক্ত হাতের প্রতিশ্রুতি

মেধায় বিশাল পার্থক্য থাকার পরেও দেখা গেল ডাবল এ প্লাসধারী একই চাকরিতে এসেছে জীবনের বাড়তি ৭-৮ বছর নষ্ট করে। ততদিনে টেনেটুনে পাশ করা মেয়ে সেটেল করে নিয়েছে নিজের জীবন।

বলবেন ইউরোপ কামলা খাটা আর দেশে সম্মানের সাথে সোনালী ব্যাংকের  ক্যাশিয়ার হওয়া সমান হলো? কিংবা যারা আরো দূরে গিয়ে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে তাদের সাথে তো তুলনাই চলে না! হয়তো তাই। তবে সম্মানিত ডাক্তার ইঞ্জিনিয়াররা যে সময়টায় গণরুমে গরুর মতো লাইন ধরে শুয়ে থাকেন, সেই সময় ইউরোপ প্রবাসী ছেলেটা কাজের শেষে অন্তত নিজের গোছানো রুমে শুয়ে ইমোতে ভিডিও কলে কথা বলতে পারে।

ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার-ম্যাজিস্ট্রেটরা যখন হররাতে গেস্টরুমে "বড় ভাইদের" হাতে "হল কী তোর বাপের?" "এক লাথি দিয়া হল থাইকা বাইর কইরা দিমু" নামক আদর সোহাগময় বাণী হজম করেন, ইউরোপ প্রবাসী ছেলে হয়তো সেই রাতে পরিশ্রান্ত শরীরে শান্তিতে ঘুমায়।

বাদ দিলাম, এক সময় একেকজন আবরার না হয়ে না হয় হয়েই গেলেন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার। তারপর তাদের জন্য অপেক্ষা করে পেশেন্ট পার্টির মাইর, নতুবা ১৫ হাজার টাকা খরচে একজন ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ারের মতোই মৃত্যু।

এ+ না পাওয়াদের চেয়ে বেশি হতাশায় ভুগবে জিপিএ ফাইভ প্রাপ্তরাই

ইউরোপ প্রবাসী ছেলেটা কিন্তু এত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে না। এই দেশের হিসেব বড্ড কঠিন। এখানকার সমীকরণ মেলাতে হলে নিউটন-আইনস্টাইনকে আবার জন্মাতে হবে। এখানে কলম নয়, কলম ঝেড়ে ফেলা শক্ত হাত কথা বলে। এখন জিহ্বা বা কন্ঠ নয়, এই বাইরে থাকা মেয়েটার সাদা চামড়া কথা বলে।

সবচেয়ে বড়ো কথা, এখানে নীতি নামের শব্দটাকে আপাদমস্তক ঢেকে রেখেছে  রাজনীতি নামের আবর্জনা। নীতি খোঁজার জন্য যদি কেউ ম্যাগনিফাইং গ্লাস নিয়ে নামে, সেই লোককে খোঁজার জন্য তারচেয়েও বড়ো গ্লাস লাগে।

এ প্লাস ইজ বেটার। বাট দ্য বেস্ট ইজ...জাস্ট লীভ দিস কান্ট্রি। Its leave not live. এখানে স্বপ্ন দেখা ঘোরতর অন্যায়। এ প্লাসধারী প্রত্যেক ছোটো ভাই বোনকে অভিনন্দনপূর্বক এই উপদেশ জানালাম। আজকের শুভ দিনের জন্য কথাগুলো তিতা হয়ে যায়। কিন্তু এখন থেকে ৭-৮ বছর পর যখন সবচেয়ে ভালো এন্টি ডিপ্রেসিড কোনটা- এই লিখে গুগলে সার্চ দিবা, এই লেখা পড়ে থাকলে তখন আমার কথা মনে পড়বে, পড়বেই।

কাউকে হতাশ করা মোটেও আমার উদ্দেশ্য না। আলোর সন্ধানে ছোটার আগে কোথায় কোথায় অন্ধকার আছে সে ব্যাপারে জেনে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কোথায় কতটা অন্ধকার জমানো আছে সেটা পর্যন্ত জানতে দেয় না।

কোনো একজন সাহসী নীতি নির্ধারকের উচিত কোন চাকরিতে কত টাকা ঘুষ লাগে এবং কোন লাইনে সেই টাকা জমা দেয়া যায় এমন একটা বাস্তবভিত্তিক চ্যাপ্টার মাধ্যমিকেই পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলা। এই কাজ করতে পারলে ভদ্রলোক অনেক দোয়া পেতেন।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা