ম্যালোরি বলে গিয়েছিলেন এবার যদি এভারেস্টে উঠতে পারেন, তবে বউয়ের একটা ছবি চূড়ায় রেখে আসবেন! এডভান্স বেজক্যাম্প থেকে যা কিছু নিয়ে গিয়েছিলেন সবই পাওয়া গেছে। পাওয়া যায়নি শুধু তার বউয়ের ছবিটা! ওটা ম্যালোরি কোথায় রেখে এসেছেন?

রকিব শাওন

এভারেস্টকে বলা হয় পৃথিবীর তৃতীয় মেরু। এডমন্ড হিলারি এবং তেনজিং নোরগে- এই দুজন প্রথম এভারেস্টে উঠেছিলেন। কিন্তু সাদা চামড়ার হিলারির নামের সাথে পরে 'স্যার' যোগ হলেও নেপালী তেনজিং এই উপাধি পাননি। এই হলো চামড়াপ্রথা! যাই হোক, হিলারীদের আরো ২৯ বছর আগেই একজন এভারেস্টে উঠেছেন বলে ধারণা করা হয়। ওটা জর্জ ম্যালোরি! আর ব্যাপারটা পুরোটাই রহস্য আর রোমাঞ্চে ঘেরা। 

ম্যালোরি প্রথম এভারেস্টে গিয়েছিলেন ১৯২১ সালে। দেখেশুনে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছেন। পরের বছর আবারও গিয়েছেন। এবারও ম্যালোরি খুব কাছ থেকে ফিরলেন, অল্পের জন্য বেঁচে। তবে প্রাণ হারালেন ৭ জন শেরপা। ম্যালোরি ভেঙ্গে পড়লেন। সবাই ধরে নিয়েছে এই লোক আর পর্বতে যাবে না। কিন্তু পর্বতের নেশা যে তাঁর রক্তে! অমোঘ টান। নিজেকে নিবৃত্ত করা মুশকিল।

ততদিনে তার বয়স ৩৫, আর ঘরে তিনটি ছেলেমেয়ে। বউ তাকে কিছুতেই আর পর্বতে যেতে দিবে না। পরে ম্যালোরি বলে গিয়েছিলেন এবার যদি এভারেস্টে উঠতে পারেন, তবে বউয়ের একটা ছবি চূড়ায় রেখে আসবেন! যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'এত ঝড় ঝাপটা মৃত্যুঝুঁকির পরও তুমি কেন এভারেস্টের চূড়ায় যেতে চাও?' পর্বতারোহনের ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত উত্তরটা দিয়েছিলো ম্যালোরি, যেটি এখন কিংবদন্তি। তাঁর উত্তর ছিল, 'Because it is there!' 

জর্জ ম্যালোরির স্ত্রী রুথ ম্যালোরি

১৯২৪ সালের ৮ জুন ভোরে এডভান্স বেজ ক্যাম্প থেকে ম্যালোরি আর তার সঙ্গী আরভিন চূড়ার দিকে রওনা করেছিলেন। বেজক্যাম্প থেকে তাঁর সঙ্গীরা দূরবীনের মাধ্যমে উনাদেরকে দুপুরের দিকে চূড়ার খুব কাছে দেখতে পেয়েছিলেন। ওটাই শেষ দেখা। তখন বাকি ছিল দুই-আড়াইশ ফিট। দলের অন্যদের ধারণা ২৮৮০০ ফিট উঠতে পারলে বাকি দুই আড়াইশ ফিটও উঠতে পারার কথা। কারণ ম্যালোরির তখনও শক্তি ছিল, সিলিন্ডারে গ্যাসও ছিল পর্যাপ্ত। এরপর ম্যালোরি শেষ পর্যন্ত এভারেস্টে উঠতে পেরেছেন কিনা এটা নিয়ে বহু তর্ক বিতর্ক রহস্যমোড়ানো আলোচনা হয়েছে। 

সেই অভিযানের ৭৫ বছর পর ১৯৯৯ সালে তাদের খোঁজে এভারেস্ট চূড়ার কাছে এক অভিযান চালিয়েছিল ন্যাশনাল জিওগ্রাফি। সঙ্গীর দেহ খুঁজে না পেলেও ম্যালোরির দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল চূড়া থেকে একটু নিচে। ধারণা করা হয় উঠার পথে হয় তারা মারা গিয়েছে, অথবা নামার সময়। কিন্তু নিশ্চিত করে কিছুই বলা সম্ভব না।

১৯৯৯ সালে পাওয়া জর্জ ম্যালোরির দেহাবশেষ

পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে ম্যালোরির একটা পায়ে মারাত্মক যখম ছিল। আর শরীর ছিল দড়ি দিয়ে প্যাঁচানো। অর্থাৎ দুজন দড়ির দুই মাথায় বাঁধা ছিলেন। যেকোন একজন বিপদে পড়াতে অন্যজনও বিপদে পড়েছিলেন। হাত পা ভেঙ্গেছে, প্রাণ দিতে হয়েছে। 

বিশ্বাস করা যায় ম্যালোরি প্রথম এভারেস্টে উঠেছেন। কিন্তু প্রমাণ করা যায় না। ম্যালোরির সাথে তার ব্যাগ পাওয়া গিয়েছিল। পকেটে পাওয়া গিয়েছিল স্লাইড গগলস চাকু। গগলস চোখে না থেকে পকেটে থাকা প্রমাণ করে তখন রাত নেমে গিয়েছিলো। এডভান্স বেজক্যাম্প থেকে যা কিছু নিয়ে গিয়েছিলেন সবই পাওয়া গেছে। পাওয়া যায়নি শুধু তার বউয়ের ছবিটা! ওটা ম্যালোরি কোথায় রেখে এসেছেন?

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা