আজ একজন সৈন্যকে বলুন, আমি এখন তোমার রাইফেলটা আমার বাসায় নিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো। তুমি খালি হাতে যুদ্ধ করো যাও, শেষ করে এসে আপডেট দিও! পারবেন, সেই সৈন্যকে যুদ্ধে পাঠাতে?

গুরুত্বপূর্ন কয়েকটা পয়েন্ট ক্লিয়ার করার জন্যে এই লেখা।

১. টেস্ট করার সুবিধা দেয়া না হলে হাসপাতালগুলো কোভিড-১৯ আক্রান্ত হবার উপসর্গ মিলে যায়, এমন কোন রোগী রাখতে ভাল বোধ করবে না এটাই স্বাভাবিক। আর টেস্ট করার যাবতীয় অথরিটি আইইডিসিয়ার এর কাছেই পুঞ্জীভূত। আমি একটা রোগীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষাই করতে পারবো না, অথচ সেই রোগী নিয়ে আমার আরো কয়েক ডজন বা কয়েকশ বা কয়েক হাজার রোগীকে বিপদে ফেলবো? সাথে কয়েক ডজন বা কয়েকশ এমপ্লয়িকেও? সাধারন গণিত এটা, এক বনাম একশ এর মতো। চোখ বেঁধে দেয়া মানুষকে আপনি তলোয়ার যুদ্ধে আমন্ত্রণ জানালে সে কি খেলবে? নাকি খেলা থেকে নাম প্রত্যাহার করবে?

২. খুব চেষ্টা করা হচ্ছে একটা কথা বাজারে চালু করার, ছড়িয়ে দেবার। তা হলো, "এখন তো পিপিই সংকট নেই, এখন কেন ডাক্তাররা রোগীর গায়ে হাত দিতে চান না?" খুব চালাকি করে বলা একটা কথা। শুরুতেই আইডিয়েল পিপিইগুলো দখল হয়ে যাবার পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে আস্তে আস্তে ডাক্তার-নার্সদের পিপিই দেয়া শুরু হয়। কি পরিমাণ জানেন? জানার চেষ্টা করেছেন? একেকটা হেলথ কমপ্লেক্সে চার/পাঁচ/আট/দশ পিস করে! ডাক্তার আছে পাচ-সাত বা দশজন, নার্স আছে দশ-বারো জন, সাথে সাপোর্টিং স্টাফ আরো কিছু। সেখানে গোটা দশেক ওয়ান টাইম ইউজ পিপিই দিয়ে নাম ফুরানোর মানে কি?

একেকটা মেডিকেল কলেজে একেক শিফটেই ডাক্তার-নার্স থাকেন সত্তুর আশি জন। তিন বেলায় দুই-তিনশ এর মত। সেখানে গিয়েছে একশ পিস, দেড়শ পিস মাত্র! একবা দুই দিনের খোরাক! মানে, দুই দিনের চাল কিনে দিয়ে বৌকে জানিয়ে দিলেন, এখন থেকে সারা মাস যেন রোজ তিন বেলা পোলাও-মাংস রাধতে আর বলে দিতে না হয়।

৩. প্রাইভেট চেম্বার কোন জরুরী চিকিৎসা সেবার জায়গা নয়। সকল উন্নত দেশেই এখন চেম্বার/বহির্বিভাগ বন্ধ করা হয়েছে বা হচ্ছে। আউটব্রেকের প্রোটোকলই এটা, জরুরী সার্ভিস ছাড়া বাকি সব গ্যাদারিং বন্ধ থাকবে। কাজেই "খুলনায় এখন কসাইরা আর চেম্বার করছে না", "অমুক কার্ডিওলজিস্টের চেম্বারে লেখা রোগী দেখা বন্ধ, দেখুন কেমন অমানুষ এরা" টাইপের ছ্যাচড়ামি বন্ধ করুন! একেকজন সিনিয়র চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হওয়া মানে বিশাল লস! তারা বয়স্ক, হাই রিস্ক গ্রুপে পড়েন। আজ দেশের সিনিয়র কয়েকজন কার্ডিওলজিস্ট, কয়েকজন নিউরোলজিস্ট, কয়েকজন অনকোলজিস্ট আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে জাতির কি পরিমান ক্ষতি হবে? দেশে আছেনই তারা কয়জন? করোনার এই কয়েক মাসের পরে দেশে কি আর ডাক্তার লাগবে না? চেম্বারে নন-আর্জেন্ট চিকিৎসার জন্য বয়স্ক ডাক্তারদেরকে মৃত্যুঝুঁকি নিতে চাপ দেয়াটা কোন মনুষ্যত্বের পর্যায়ে পরে?

সবচেয়ে বড় কথা, ডেংগুর সময়ে দেশের চৌদ্দজন ডাক্তার মারা গিয়েছিলেন। সরকার, রাষ্ট্র, জাতি তাদের জন্য কয় মিলিসেকেন্ড বা কয়টা বর্ণ খরচ করেছে, তাদের পরিবারের কয় পয়সার খোঁজ নিয়েছে তা হাড়ে হাড়ে মনে আছে। সেই সমাজ বা রাষ্ট্রের আবারও এসে সিনিয়র বয়স্ক ডাক্তারদের মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে নন-আর্জেন্ট সেবা চাইবার আগে লজ্জাই হওয়া উচিত। সিনিয়র ডাক্তারদের চেম্বার বন্ধ দেখে মাতম? দেশে শতকরা বিরানব্বই ভাগ জুনিয়র ডাক্তারই তো চাকরির জন্য কাজ করছে। তাদের তো চেম্বার নেই! এই সাধারণ ৯২% বনাম ৮% এর হিসাব বোঝেন না আপনারা? না জেনে অপদার্থের মত নেগেটিভিটি ছড়ানো বন্ধ করুন!

৪. বিভিন্ন উৎস থেকে প্রতিশ্রুত পিপিই কয়েকদিনের মধ্যে পাওয়া যাবে, এখনো কিন্তু পাওয়া যায় নি! কাজেই ওয়ালটনের পাঁচ হাজার, বেক্সিমকোর দশ হাজার- এরকম বেসরকারিভাবে কনট্রিবিউটেড পিপিই এখনো ডিস্ট্রিবিউশনেই আছে। সেগুলো হাতে পেলে স্বাস্থ্যকর্মীরা সাহসিকভাবে সেবা দিতে পারবে। কিন্তু সেগুলো কার পেটে যাবে তাও দেখবার বিষয় বটে!

৫. পিপিই দখল হবার ব্যাপারটা দেখেই জনগনের চিরদিনের মত বোঝা এবং সেটা আজীবন মনে রাখা উচিত, ডাক্তার মানেই চিকিৎসা ব্যাবস্থা না। যে দেশের ডাক্তাররা নিজেদের প্রান বাচানোর উপকরনই পাবার সক্ষমতা রাখে না তারা স্বাস্থ্যব্যাবস্থার কতটুকু নিয়ন্ত্রন করে? তারা চাইলে নিজেদের চেষ্টায় কতটুকু উন্নত করতে পারবে সেবা? নিজেরাই ধুঁকছে! আজ একজন সৈন্যকে বলুন, আমি এখন তোমার রাইফেলটা আমার বাসায় নিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো। তুমি খালি হাতে যুদ্ধ করো যাও, শেষ করে এসে আপডেট দিও! পারবেন, সেই সৈন্যকে যুদ্ধে পাঠাতে?

মনে রাখুন আজকের এই শিক্ষা। অতীতে, ভবিষ্যতে চিকিৎসকের উপর দায় যা পড়েছে আর পড়বে, সেগুলো আসলেই কতটা চিকিৎসকদের হাতে ছিলো বা থাকবে সেটা পুনরায় বিবেচনা করবেন।

৬. ভেন্টিলেটর শব্দটাও উচ্চারণ করতে পারেন না আমাদের কর্তারা। "ভেন্ট্রিলেটর" বলছেন তারা বারে বারে। যাই হোক, ভেন্টিলেটর চালানোর মত কতজন নার্স আছে আপনাদের হাতে? কর্তারা পুকুর কাটা শিখতে বিদেশ গেলেও মানুষের জীবন বাচানোর ট্রেনিং এর কোন ব্যবস্থা রাখেন নাই। কাজেই আজ ওয়ালটন ভেন্টিলেটর উৎপাদন করতে শুরুও যদি করে, এক সপ্তাহে দু-হাজার বানিয়েও দেয়, এক সপ্তাহে ছয় হাজার ভেন্টিলেটর অপারেট করা নার্স কিভাবে বানাবেন? ****** দাঁড়ান দাঁড়ান, ভাবছেন দুই হাজার থেকে ছয় হাজারে লাফ দিয়েছি ভুল করে? না রে ভাই! রোগীকে তো আর এক শিফট লাইফ সাপোর্টে দিয়ে বাকি দুই শিফট "একটু ম্যানেজ করে নেন আংকেল" বললে হবে না! হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা আট ঘন্টার অফিস না, সপ্তাহে দুই দিন বন্ধও না! সপ্তাহে ৩৬৫ দিন চব্বিশ ঘন্টা কাজ চালাতে অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে চার গুণ কর্মী লাগে।

আপনারা যখন বিদেশ গিয়ে পুকুর কাটতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন যে বাজেট স্বল্পতায় হাসপাতালে পাঁচ ডাক্তারের কাজ এক ডাক্তার করেছে, পাঁচ নার্সের কাজ এক নার্স করেছে, এভাবে নিজের জীবন ত্যানা করার পরও মাঝে মাঝে একটা দুইটা রোগী মারা গেলে জনতার গালি আর আপনাদের শাসানি-ধমক খেয়ে কাঁদলেও পরের দিন আবার মুখ গুঁজে পাঁচজনের কাজ একলা করতে এসেছে, তাদের বঞ্চনার দায় হয়তো এবারই জাতিকে চুকাতে হবে। বড় কঠিন মূল্য দিয়ে, আফসোস।

কাজেই এখনো সময় আছে একটা বা দুইটা সপ্তাহ। জরুরী ভিত্তিতে বহির্বিভাগ বা রুটিন বিভাগগুলো বন্ধ করে সেখানকার ডাক্তার-নার্সদের করোনার চিকিৎসা আর আইসিইউ এর রোগী ম্যানেজ করার ট্রেনিং দিন। দুই সপ্তাহের ক্র‍্যাশ কোর্সে হয়তো তারা সবাইকে বাচাতে পারবেন না, কিন্তু মেশিন চালানোর কাজটুকু অন্তত শিখুক! যেন অন্তত মৃতপ্রায় লোকটার কাছে তাকে চুপ করে দাঁড়িয়ে কাদতে না হয়, কিছুটা সাহায্য করে যেতে পারে।

৭. শুধু ভেন্টিলেটর দিয়ে আইসিইউ চলে না। নেগেটিভ প্রেশার রুম লাগে, নাহলে প্রতি সপ্তাহেই আইসিইউর সমস্ত কর্মীদের আর অন্যান্য রোগীদের কোয়ারেন্টিনে পাঠাতে হবে, দুদিন পরে আর কোন স্বাস্থ্যকর্মী থাকবে না। শুধুমাত্র একটা দশ বেডের আইসিইউতেই পিপিই লাগবে সপ্তাহে দুইশোটার মত। সেখানে সারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একশ-দেড়শ? এই প্রস্তুতি দিয়ে মরতে পাঠাবেন শুধু শুধু স্বাস্থ্যকর্মীদের। N95 মাস্ক লাগবে দেশে অন্তত পাঁচ লাখ। হ্যাঁ, পাচ লাখ। শুধুমাত্র প্রথম এক মাসেই। পরেরটা পরের হিসাব।

৮. ভেন্টিলেটরে রাখা রোগীদের জন্যে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অনেক, অনেক, অনেক ওষুধের দরকার। কৃত্রিমভাবে শ্বাস দেয়ার জন্যে তাকে আগে সম্পূর্ণভাবে মেডিকেলি ইনডিউসড কোমাতে পাঠাতে হবে। অর্থাৎ তাকে গভীর অচেতনতায় পাঠিয়ে আপনাকে তার শরীরের সম্পূর্ন কনট্রোল নিয়ে নিতে হবে। এর জন্যে তাকে অচেতনতার, গভীর ঘুমের, শরীরকে নিস্তেজ করার এবং মাংশপেশীকে সম্পূর্ণ শিথিল করার, ব্লাড প্রেশার, হার্ট রেট নিয়ন্ত্রণ করার ওষুধগুলো প্রচুর পরিমানে লাগবে। সরকারের এ ব্যাপারে প্রস্তুতি কতটুকু জানি না। এখনই অতি-উৎপাদনের মাধ্যমে এই ওষুধগুলোর সংকট কাটিয়ে রাখতে হবে। কারণ খোদ আমেরিকা পর্যন্ত এখন এসব অতি-বিশেষায়িত ওষুধগুলোর সংকটে পরে আর্তনাদ করছে!

৯. আউটব্রেক এবং ম্যাসাকার হবার পরে অবস্থা আরও খারাপও হতে পারে। যদিও ভাবতে পারেন, ওর চেয়ে খারাপ আর কি হবে? মনে রাখবেন, ম্যাসাকার শয়ে শয়ে মানুষ মারা গেলে হয়, হাজারেও হয়। আবার লাখেও হয়! কাজেই সবচেয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে এই দু সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন যেভাবে হোক সফল করা। মেরে, পিটিয়ে, গরম পানি ছিটিয়ে, সেদ্ধ করে বা কাবাব বানিয়ে- যেভাবে হোক মানুষকে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। এই লেভেলের ভিরুলেন্ট ভাইরাসের আউটব্রেক কয়েক হাজার মানুষে ছড়িয়ে গেলে সেটা কয়েক লাখে যাবেই। পৃথিবীর কোন সরকার বা বাহিনী নেই যে থামাতে পারবে। তাই কয়েক হাজারে যেতে দেয়া যাবে না কিছুতেই, কয়েক ডজন বা কয়েকশতেই থামাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সর্বশক্তি দিয়ে সন্দেহভাজন রোগী খোঁজা আর দিনরাত টেস্ট করা। যত বেশি টেস্ট করা হবে তত বেশি মানুষকে আইসোলেশনে নিয়ে বাকিদের নিরাপদে রাখা যাবে। বেশি রোগী পাওয়া গেলে তা ডিসক্রেডিটের ব্যাপার, এরকমটা সরকার কেন মনে করছে জানি না। যত বেশি আইডেন্টিফিকেশন, তত বেশি যোগ্যতার পরিচয় দেয়া হবে আসলে। মাথামোটা কিছু মানুষ সর্বোচ্চ পর্যায়ের লেম্যানদের এসব মেডিকেল ব্যাপারগুলো চরমভাবে ভুল বুঝিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

আপাতত এগুলো মাথায় এলো। সময়ের অভাব এবং সুচিন্তার পরিবেশের অভাবে অনেক কিছুই বাদ পড়লো। মনে রাখবেন, আমরা কিন্তু বাসায় বসে অলস সময় পার করছি না, যেমনটা "ওমুক ভারোত্তোলক রান্না করে সময় পার করছেন" টাইপের নিউজ পত্রিকায় ফলাও করে নিউজ হচ্ছে! আমাদের বেলায় ফলাও করে চিল্লাচ্ছে যখন আমরা কোন এক জায়গায় ব্যর্থ হচ্ছি, নিজেদের দোষে না হলেও।

খুব দ্রুততার সাথে এগুলোর জন্য প্রস্তুতি না নেয়া হলে সর্বনাশ সামাল দেবার উপায় থাকবে না। পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ যতটা খারাপ হতে পারে তার পুরোটাই যদি শেষ পর্যন্ত দেখতে হয়, তাহলে প্রতিদিন পাঁচ-দশ হাজার মানুষ মারা যাওয়া খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতে পারে। আবারও বলছি, এটা সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপের দিকে গেলে কি হবে সেটা বলছি। এর চেয়ে ভালো হতেই পারে, তবে প্রস্তুতি নিতে হবে খারাপটার জন্যেই।

এদেশে সবকিছুর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। তাহলে বাকিদের বেতন না দিয়ে, পদমর্যাদা না দিয়ে ফ্রি খাটালেও তো হয়! পিপিইর জন্য খোদ উনাকে বলতে হলো। দুদিন পরে সব হাসপাতাল টেস্টের জন্য উন্মুক্ত করার কথা উনিই বলবেন। তার আগ পর্যন্ত ডাক্তাররা গালি খাবে আরকি! এর পরে আবার ডাক্তাররা ফেসবুকে চিল্লাচিল্লি শুরু করবে ভেন্টিলেটর নাই, পাচ-সাতদিন চিল্লানোর পর কেউ কিছু করবে না, প্রধানমন্ত্রীকেই নোটিশে আসার পরে ঘোষনা দিয়ে হবে কিছু একটা। আরো কদিন পরে এই ডাক্তাররাই আবার চিল্লাবে, আমার কাজ করার যন্ত্র নাই, প্রেশার মাপার মেশিন নাই, ঘুম পাড়ানোর ওষুধ নাই, মাংশপেশী শিথিল করার ইনজেকশন নাই! ওষুধের অভাবে রোগীকে ঘুম পাড়াতে না পারায় সে গলায় শ্বাস নেয়ার টিউব নিয়ে কাশতে কাশতে ভেন্টিলেটর ভেংগে ফেলেছে!

মন্ত্রী ক্যামেরায় এসে বলবেন "পর্যাপ্ত ঘুমের ওষুধ রয়েছে"। বিরক্ত হয়ে তাকে চুপ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দেবেন পাচদিনের মধ্যে দুই লাখ ভায়াল সিডেটিভ বানানোর। সেগুলো বানিয়ে ডাক্তারের হাতে দেবার আগেই ফেসবুকে মাতম উঠবে, "এখন তো আর ওষুধের অভাব নাই। তবু ডাক্তাররা ইচ্ছা করে রোগী বাচাচ্ছে না!"। ভাবটা যেন, ঘোষনা দেবার সাথে সাথে ডাক্তারের হাতে ওষুধ পৌছে গেছে! মিথ্যা বলার জন্য কারোর চাকরি যায় না বলে এদেশটা একটা মিথ্যার ক্ষেত আর মিথ্যাবাদীর খোয়ারে পরিণত হয়েছে।

আসন্ন বিপর্যয়ে সবাই নিরাপদ থাকুন এই প্রার্থনা করি। এদেশ ধ্বংসস্তুপের নিচে থেকে মাথাচাড়া দেয়া দেশ, একটা বিশাল ফিনিক্স পাখি! শুধু চাই, ফিনিক্স পাখিটা যেন এবার পুড়ে ছাই-ই না হোক!


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা