এই আয়রনিটা দরকার আছে। তাদের এবং তাদের ভক্তদের একটা শিক্ষা হওয়া দরকার আছে। বোঝা দরকার আছে, দুনিয়াটা দুই দিনের।

১। বরিস জনসন প্রথমে চেয়েছিলেন করোনাভাইরাসকে রুখে দেওয়ার চেষ্টা না করে হার্ড (herd) ইমিউনিটি স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করবেন। হার্ড ইমিউনিটি হচ্ছে সেই পদ্ধতি, যেখানে কোনো মহামারীকে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়তে দেওয়া হয়। ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, কেউ একবার আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠলে এরপর সে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয় না, অন্য কাউকেও আক্রান্ত করে না, ফলে পুরো সমাজে ইমিউনিটি ডেভেলপ করে। বরিসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার মতে, যদি ধীরে ধীরে ব্রিটেনের ৬০% মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে দেওয়া হয়, তাহলে তারা সুস্থ হয়ে ওঠার পর পুরো ব্রিটেনে হার্ড ইমিউনিটি ডেভেলপ করবে।

বলাইবাহুল্য এই স্ট্র্যাটেজি নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা হয়। কারণ ৬০% মানুষ আক্রান্তের অর্থ হচ্ছে ২ থেকে ৩ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুকে স্বীকার করে নেওয়া। আজ সেই বরিস জনসন নিজেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

২। মার্কিন সিনেটর র‌্যান্ড পল ছিলেন একমাত্র সিনেটর, যিনি প্রথম দফায় করোনাফাইরাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ৮ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। গত সপ্তায় তিনিও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

৩। ইরাকি আলেম হাদি আল-মোদাররেসি বলেছিলেন, করোনাভাইরাস হচ্ছে চাইনিজদেরকে শায়েস্তা করার জন্য আল্লাহ্‌র পাঠানো গজব। এই বক্তব্যের ১০ দিনের মাথায় তিনি নিজেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।

৪। আমাদের দেশেও একটা বড় অংশের মানুষ করোনাভাইরাসের বিস্তৃতিতে প্রথম দিকে খুব খুশি হয়েছিল। তাদের ভাষ্য ছিল, চাইনিজরা মুসলমানদের উপর নির্যাতন করে, সাপ-ব্যাং খায়, তাই আল্লাহ্‌ তাদের উপর গজব পাঠিয়েছেন। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নাই। বরং ফেসবুকে লেখালেখি করা কিছু "আলেম"কে এটাও বলতে দেখেছি, আমাদের উচিত এতে খুশি হওয়া।

আয়রনি হচ্ছে, বাংলাদেশে টেস্টিং কিট এবং পিপিই সংকটের কারণে যেসব মানুষকে টেস্ট করাই সম্ভব হচ্ছিল না, যেসব মানুষের বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, আল্লাহ এখন সেই সাপ-ব্যাং খাওয়া চাইনিজদের উসিলায়ই তাদের জীবন বাঁচানোর ব্যবস্থা করছেন। সন্দেহ নাই, চাইনিজদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়াতে যারা আনন্দ করছিল, তাদের অনেকেও এখন সেই চাইনিজদের উসিলাতেই চিকিৎসা পাবে।

৫। কারো মৃত্যু কামনা করার পক্ষপাতী না। দশজন বরিস বা ট্রাম্প মারা গেলেও পৃথিবীর বা মুসলমানদের কোনো কল্যাণ আসবে কিনা, সেটা কেউ জানে না। বরং পরিস্থিতি আরো খারাপও হতে পারে। যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা সুস্থ হয়ে উঠুক। সম্ভবত হয়ে উঠবেও। আফটার অল, মৃত্যুহার তো খুব বেশি না।

কিন্তু এরকম বক্তব্য আরো যারা দিয়েছে, দায়িত্বে থেকেও যারা অবহেলা করেছে, ষড়যন্ত্র কপচিয়েছে, নিজেদের কিছু হবে না অহংকার করেছে, তাদের আরো কয়েকজনকে করোনাভাইরাস মাইল্ড আক্রমণ করলে খুশিই হবো।

এই আয়রনিটা দরকার আছে। তাদের এবং তাদের ভক্তদের একটা শিক্ষা হওয়া দরকার আছে। বোঝা দরকার আছে, দুনিয়াটা দুই দিনের।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা