আনুশকা শর্মার প্রতি দিন দিন মুগ্ধতা বেড়েই চলেছে। আমি যদি ভুল না করে থাকি, ইন্ডিয়ান সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী নারী প্রযোজক তিনি। অথচ গত কয়েক বছরে তিনি যেসব কন্টেন্ট প্রোডিউস করে যাচ্ছেন, তা যথেষ্ট তারিফ করার মত।

নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি রিলিজ পাওয়া বুলবুল সিনেমার খুব পছন্দের একটি সংলাপ। পায়ে আংটি পরতে হবে। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বলা হল- পায়ের এই আঙুলে একটি শিরা থাকে। সেটাতে চাপ না পড়লে মেয়েরা "উড়াল" দিতে পারে। এরপরেই বলা হল আসল কথাটি- আসলে এই আংটিটি তোমাকে "নিয়ন্ত্রণ" করার জন্য।

ছোট্ট একটি দৃশ্যের মাধ্যমে সেই সময়কার পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কী চমৎকারভাবেই না তুলে ধরা হল! বুলবুল ভাল লেগেছে। তবে শুরুটা দেখে আরও ভাল কিছু আশা করেছিলাম, ক্লাইমেক্স খুবই প্রেডিক্টেবল হয়ে যাওয়ার কারণে আহামরি কোন কাজ মনে হল না। কিছু জায়গায় লাল রং eye soothing (সঠিক বাংলা শব্দ মাথায় এই মুহুর্তে আসছে না বলে দুঃখিত) লেগেছে, আবার কিছু জায়গায় বাড়াবাড়ি লেগেছে। উদাহরণস্বরূপ- সত্য যখন পাঁচ বছর পর বনের রাস্তা দিয়ে আবার ফিরে আসে রাজবাড়িতে।

সিনেমার শুরুতে যে ইন্ট্রো মিউজিকটা শুনতে পাই, সেটা খুব ভাল লেগেছে। তবে সাউন্ড ডিজাইনার এই চমৎকার মিউজিকটার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করার লোভ সামলাতে পেরেছেন বলে তাকে ধন্যবাদ। সাউন্ড ডিজাইনার হিসেবে ছিলেন আনিশ জন। আমি অনেকদিন থেকে এই মানুষটার কাজ ফলো করছি। খুবই লো প্রোফাইল মেইনটেন করা এই মানুষটা চমৎকার সব সিনেমার সাউন্ডের কাজে জড়িত ছিলেন।

বুলবুল সিনেমার সেই দৃশ্য 

পারি, ট্র‍্যাপড, ঘৌল, কারওয়ান থেকে শুরু করে কলকাতার 'আসা যাওয়ার মাঝে'র মত সিনেমার সাউন্ডের কাজে তিনি ছিলেন। ট্র‍্যাপড এর কাজের জন্য ফিল্মফেয়ার আর আসা যাওয়ার মাঝের জন্য ন্যাশনাল এওয়ার্ড পেয়েছেন। কারওয়ান সিনেমাতে একটি গানও গেয়েছেন তিনি। আরেকটা অবাক করা তথ্য জানাই- বাংলাদেশের একটি সিনেমাতে এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে ছিলেন আনিশ জন। সিনেমার নাম মাটির প্রজার দেশে। 

আনুশকা শর্মার প্রতি দিন দিন মুগ্ধতা বেড়েই চলেছে। আমি যদি ভুল না করে থাকি, ইন্ডিয়ান সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী নারী প্রযোজক তিনি। অথচ গত কয়েক বছরে তিনি যেসব কন্টেন্ট প্রোডিউস করে যাচ্ছেন, তা যথেষ্ট তারিফ করার মত। ফেমিনিজম ব্যাপারটা মুখের বুলিতে না রেখে তিনি নিজের প্রতিটা কাজে দেখিয়ে যাচ্ছেন। নেপোটিজম ঘেরা ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি নতুন সব পরিচালক আর লেখকদের বারবার সুযোগ দিচ্ছেন। তারচেয়েও বড় ব্যাপার- "আমার সমস্ত প্রোডাকশনে আমিই অভিনয় করব" এই লোভটা তিনি সামলাতে পেরেছেন - qudos to that!

বুলবুল সিনেমার পোষ্টার 

বুলবুল সিনেমার চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসারের দায়িত্বে আর ভিএফএক্সের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা দুজনেই রেড চিলিজ প্রোডাকশন হাউজের সদস্য আর দুজনেই নিজেদের জায়গায় ভাল কাজ করেছেন। যিনি রেড চিলিজ কোম্পানির মালিক, তার সিনেমাতেও আশা করি ভবিষ্যতে ভাল কাজ দেখব। এরপরে কখনও কোন পুরনো রাজবাড়িতে বেড়াতে গেলে বুলবুল সিনেমাতে বলা পাওলি দামের সংলাপটা মনে পড়বে- বড় বাড়ির রহস্যগুলোও বড় হয়ে থাকে।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা