মিসজাজমেন্টের কারণে কী হতে পারে ইতালি তার নারকীয় উদাহরণ। এমন উদাহরণ কি বাংলাদেশও হবে?

ইতালিতে ২৬০০+ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় এফেক্টেড, যা মোট আক্রান্তের ৮ পার্সেন্ট। এই মুহূর্তে মৃত্যুর দৌড়ে চীনকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ইতালি। অথচ সংবাদমাধ্যমের খবর মতে, করোনা ঠেকাতে ইতালি সরকারই সবচেয়ে ফাস্ট এন এগ্রেসিভ মুভ করেছিল।

জানুয়ারির শেষ দিকে ইতালিতে দুজন চীনা পর্যটকের মধ্যে করোনা উপসর্গ পাওয়া যায়। তখনই এই দুইজনকে আইসোলেটেড করে ইতালি। শুধু তাই না, এই দুইজন যাদের সংস্পর্শে এসেছিল বলে জানা যায়, সবাইকে করোনা টেস্ট করা হয়েছে। ইতালিই ইউরোপের প্রথম দেশ যারা চীন থেকে আসা ডিরেক্ট ফ্লাইটগুলো নিষিদ্ধ করেছে তখুনি।

ফেব্রুয়ারি একুশের দিনে ইতালিয়ান এক নাগরিক মাটিয়া, যিনি মিলান থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে থাকেন, তিনি করোনা আক্রান্ত হন। এরপর মাত্র ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ৮৮৮ জন আক্রান্ত এবং যার মধ্যে ২১ জন মারা যান। আর এই মুহুর্তে দাবানলের মতো মৃত্যু ঘুরছে ইতালিতে। ইতালিয়ান মানুষের সবচাইতে নিকট-আত্মীয় এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। 

মাটিয়ার শরীরে যখন উপসর্গ ধরা দেয়, তখনো এতোটা দুশ্চিন্তাজনক পরিস্থিতি হবে কেউ ভাবেনি। কারণ, সবাই ভেবেছে- মাটিয়া তো চীন ভ্রমণ করেনি, হয়তো তেমন সমস্যা হবে না। তাকে হাসপাতালেও এতটা প্রটেকশনের মধ্যে রাখা হয়নি। কিন্তু ক্রমেই তার শরীর বেশি খারাপ হতে শুরু করে।

২১ তারিখে তার করোনা শনাক্ত হয়, বাই দিস টাইম, মাটিয়ার থেকে কমপক্ষে ৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী, পাশের রোগী এবং তার ওয়াইফের মধ্যেও করোনা ছড়ায়। সেই হাসপাতালে মিস ম্যানেজমেন্ট এবং মিস জাজমেন্টই করোনা ইতালিতে ছড়াতে অবদান রাখে বলে অভিযোগ আছে স্বয়ং ইতালিয়ান প্রাইম মিনিস্টারের।

হাসপাতাল কী বলেছে? তারা বলেছে- তাদের উপর নির্দেশনা দেয়া ছিল যে চীন থেকে আগত বা চীনা নাগরিকের সাথে সম্পর্কিত রোগীদেরকে কেবল করোনা টেস্ট করাতে হবে৷ তারা তাই মাটিয়াকে প্রথমে করোনা রোগী বলে ভাবনাতেই আনেনি, যেহেতু মাটিয়ার সাথে চীনের কোনো দূরতম সম্পর্কও ছিল না।

ইতালি এখন মৃত্যুপুরীর আরেক নাম

একটা ভুল জাজমেন্ট ইতালির কী অবস্থা করেছে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। চীনা কাপলকে আইসোলেটেড করে যে ত্বরিত পদক্ষেপ নিয়েছিল ইতালি, ফ্লাইট অফ করে যে বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়েছিল ইতালি, সব কিছু ভন্ডুল হয়ে গেছে একটা মিস জাজমেন্টে।আজকে ইতালির রোগীদের ৮ পার্সেন্টই স্বাস্থ্যকর্মী।

আমাদের বাংলাদেশে হু হু করে বিদেশ ফেরত মানুষ প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশে আসা বিদেশ ফেরত মানুষের তুলনায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষ নগণ্যই। যেহেতু, তাদের আসা আটকানো যায়নি, তাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকাটাও নিশ্চিত করা যায়নি, তাই এই মুহূর্তে সম্ভাব্য সকল রোগীর পরীক্ষা করা জরুরি। যেটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা।

শুনেছি, অনেকেই ফোন করলে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, সে বিদেশ ফেরত কারো স্পর্শে এসেছে কিনা, এরকম। এই মুহুর্তে এই প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে রোগীকে জাজ করাটা কতটুকু ওয়াইজ ডিসিশন জানি না। তার উপর পরীক্ষা করার কিটের সংখ্যাও এই মুহুর্তে নগন্য।

আবার শোনা যাচ্ছে, হাসপাতালে সর্দি, জ্বর নিয়ে যাওয়া রোগীদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। কারণ, আমাদের এখানে ডাক্তারদের কাছেই সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। আব্দুর নূর তুষার যথার্থই বলেছেন, ঢাল তলোয়ার ছাড়া যুদ্ধে কে নামতে চাইবে!

ইতালির রোগীর কেইস এবং ডাক্তারদের এফেক্টেড হওয়ার সংখ্যা যদি আপনাকে ভাবায়, আপনার জানা উচিত এখন প্রায়োরিটি কী হওয়া উচিত। প্রথমেই ডাক্তারদেরকে অবশ্যই অবশ্যই সব রকম নিরাপত্তামূলক টুলস দিতে হবে। তাদেরকে কনফিডেন্স দিতে হবে যে, সব রকম সাপোর্ট নিয়ে সরকার এবং জনগণ তাদের পাশে আছে। 

ডাক্তারদের সুরক্ষা নিশ্চিতের পর করোনা ডিটেকশন কিটের স্টক নিশ্চিত করাটা খুবই দরকার। সিক্সথ সেন্স দিয়ে যে জাজমেন্ট করা হচ্ছে, সম্ভাব্য রোগী বিবেচনা করে পরীক্ষা করা হচ্ছে, এটার মিস জাজমেন্টের কারণে কী হতে পারে ইতালি তার নারকীয় উদাহরণ। এমন উদাহরণ কি বাংলাদেশও হবে?


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা