প্রায় সময়ই এই শব্দ দুটি শুনি আমরা, 'বঙ্গবন্ধুর আদর্শ'...কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আসলে কী? এদেশে সবার মুখে মুখে থাকার কথার ছিল বঙ্গবন্ধুর গল্প। অথচ, তেলবাজের সাম্রাজ্যে ভয় হয় একদিন বঙ্গবন্ধুর নামটা ছাড়া বাকি সব অর্জন, বিসর্জন, আদর্শ, দর্শন মুছে যায় কিনা!

১. শেখ আবদুল মজিদ। সম্পর্কে তিনি খোকার নানা। খোকা ছিলো মানুষটার ডাক নাম। পরিবারের লোকজন মায়া করে এই নামে ডাকতেন। নানা শেখ আবদুল মজিদ অন্য আরেকটা কেতাবি নাম রেখেছিলেন। নাম রাখার সময় নিজের মেয়েকে ডেকে বললেন, ‘মা সায়রা, তোর ছেলে একদিন জগৎজোড়া বিখ্যাত একজন হবে।’ নানা কি জানতেন, যার সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী দিয়ে গেলেন, সে একদিন নিজে একটা গোটা দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে? 

তিনি শেখ মুজিবর রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু। তিনি বাংলাদেশ। যার সম্পর্কে ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেন, “আমি হিমালয় দেখিনি, আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি।' ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাটি তাঁর সম্পর্কে বলেছিলো, 'মুজিব না থাকলে বাংলাদেশ কখনই জন্ম নিতো না।' রাজনীতিটা তিনি করতেন গণমানুষের জন্যে। তিনি বজ্রকন্ঠে বলেছিলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই।“

তাঁর মন কাঁদত কৃষক শ্রমিক নিপীড়িত মানুষের জন্য। তিনি কথা বলতেন ন্যায়ের পক্ষে। এজন্য জীবনের বড় অংশই কেটেছে যার কারাভোগ করে। মানুষটাকে ঘিরে কত কবি কাব্য রচনা করেছেন। আর তিনি রচনা করেছিলেন একটা ইতিহাস, দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস। এইজন্যই নিউজ উইক বঙ্গবন্ধুকে উল্লেখ করেছিলো, “পয়েট অফ পলিটিক্স” নামে। এই মানুষটা দেশের নামটা পর্যন্ত নিজে দিয়ে গিয়েছিলেন। ৬৬’ সালের ৫ই ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি বলেছিলেন,

“এক সময়ে এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে বাংলা কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি — আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ‘পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশ।''

বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই। আমাদের আছে কিছু শোক। আমাদের আছে একটা কালো দিন। ১৫ই আগস্ট। যিনি পুরো জীবন দেশের জন্য উৎসর্গ করে গেলেন, যিনি আজীবন এই দেশটার মাটি আর মানুষেরে বিশ্বাস করে গেলেন, একটা পর্যায়ে এই দেশের কিছু মানুষই হলো তাঁর ঘাতক। যিনি বলতেন, “আগে আমার দেশ, তারপরে পরিবার।'' যিনি দেশের মানুষকেই সবসময় পরিবার ভেবেছেন, নিজের পরিবারকে ঠিকমতো সময় দেয়া হয়ে ওঠেনি তাঁর। শিশু রাসেল পিতা মুজিবকে কাছে না পেয়ে মাকেই মাঝে মধ্যে বাবা বলে ডাকতো। ঘাতকরা কাউকে ছাড় দেয়নি। সপরিবারে নিহত করে গেলো সবাইকে, একটুও বুক কাঁপে নি তাদের? একটুও বিবেকে বাঁধেনি তাদের? 

বিবেক তো এখনো অন্ধকারে। আজকাল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বলে কেউ কেউ চেঁচান। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিক্রি করে সস্তায় বিবেক বিকিয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ। তাঁরা কি আদৌ জানেন- বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কী? 

'বঙ্গবন্ধুর আদর্শ'- কেবল দুটি শব্দ নয়, এর মাহাত্ম্য বিশাল

২. আজকে আমাদের দেশে দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের মুখে যখন শুনি “বঙ্গবন্ধুর আদর্শ”, তখন এই দুঃখ জানানোর ভাষা আমাদের নাই। যাদের কাছে আদর্শ চর্চা শিখতে যাবো তাদের একটু কাছ থেকে পর্যবেক্ষন করলে দেখা যাবে, তারাই সবার আগে আদর্শ বিক্রি করে বসে আছে। সত্যিকারের আদর্শের একটা ঘটনা বলি।

ভাসানী সাহেব তখন দলটার সভাপতি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন তখনকার সাধারণ সম্পাদক। ভাসানী সাহেব শেখ মুজিবকে একটি কাজে নারায়ণগঞ্জে পাঠান। সাথে দিয়েছিলেন আট আনা পয়সা। মুজিব কাজ শেষ করে বিকেলে এসে মাওলানা ভাসানীর হাতে আট আনা পয়সাই ফেরত দেন। ভাসানী সাহেব খুবই অবাক হলেন। জিজ্ঞেস করলেন, “ঘটনা কী মুজিব, তুমি নারায়ণগঞ্জ কীভাবে গেলে?” বঙ্গবন্ধু উত্তর দিলেন, “সাইকেল করে গিয়েছি, টাকাটা বেঁচে গেছে।“ 

অথচ “বঙ্গবন্ধুর আদর্শ” বলে সারাদিন চেঁচান এমন কিছু পথভ্রষ্ট নেতাও এদেশে আছে যারা অসহায় জনগণের ত্রাণের খাবারও লুটপাট করেন। জনগণ কাঁদে আর তারা এসি রুমে বসে মিডিয়ার সামনে ফোঁস ফোঁস করে বিক্রি করেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।

৭৪ সালে সারাদেশে দূর্ভিক্ষ। বঙ্গবন্ধুর মন খারাপ, কিন্তু মনোবল শক্ত। এসময় তাঁর সাথে দেখা করতে গেলেন নুরুল ইসলাম। ধানমন্ডির বত্রিশে। ভেতরে প্রবেশের পর দেখলেন শেখ মুজিব লুঙ্গি ও গেঞ্জি পড়ে মোড়ার উপর বসে আছেন। নুরুলকে দেখে বললেন, “আসো আসো, আমি তো প্রতিদিন মুড়ি খাই, তুমি খাবা?” এমন সাধারণ জীবনই যাপন করতেন বঙ্গবন্ধু। 

এক নেতাকে একবার এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আচ্ছা আপনি মুজিব কোট কেন পড়েন?” সেই নেতা জবাব দিয়েছিলেন, “এটা বঙ্গবন্ধু পড়তেন বলে পড়ি, এটা আদর্শ।'' আসলে বঙ্গবন্ধু পড়তেন বলে এটি আদর্শ নয়, আদর্শ ছিলো এই কোট পড়ার পেছনের চিন্তাধারায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক ছাত্র একবার তাজউদ্দিনের সাথে শেখ মুজিবের সাথে দেখা করতে গেলেন। ছেলেটা অনেকক্ষণ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নেতাকে দেখলেন। হুট করে ছেলেটা বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করলো, ”আপনার কোটের বোতাম ছয়টা কেনো? এ ধরনের কোটে বোতাম আরো বেশি থাকার কথা।” প্রশ্ন শুনে নেতা ছেলেটিকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, “এমন প্রশ্ন আমাকে আগে কেউ করে নাই, তুই প্রথম। এই ছয়টি বোতাম হলো আমার ঘোষিত ছয় ৬ দফার প্রতীক।'' এই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর চিন্তা চেতনা, যিনি একটা কোটের মধ্যেও ধারণ করেন বিশ্বাস, দাবি, ন্যায্যতা।

বঙ্গবন্ধুর ছাত্র থাকা অবস্থায় শুধু ছাত্র না, সকলের অধিকারের কথাই ভাবতেন। এখনকার ছাত্ররাজনীতি হচ্ছে “ভাইয়া রাজনীতি” আর “নাউন” এর চেয়ে “বিশেষণ” বেশি ব্যবহার করে খুশি করার রাজনীতি। ব্যক্তিগত ব্যানারের এক কোনায় দেখা যায় না, এমন ধরনের বঙ্গবন্ধুর ছোট্ট এক টুকরা ছবি দিয়ে পোস্টার বানানোর রাজনীতি। নিজে কাজ না করে নেতার প্রোফাইল পিকচার শেয়ার করার রাজনীতি। আর কথায় কথায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বলে নিজেকে দাবি করার প্রতিযোগিতার রাজনীতি।

অথচ বঙ্গবন্ধু সেই মহান ব্যক্তিত্ব, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকা অবস্থায় কথা বলেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পক্ষে। ১৯৪৯ সালে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ডাকা ধর্মঘটে নেতৃত্বদানের অভিযোগে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। মুচলেকা দিয়ে ছাত্রত্ব ফেরত পাওয়ার অফার পেয়েও তিনি তাঁর নীতি থেকে একচুলও সরে আসেননি। এটাই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। 

আজকাল রাজনীতি চলে গেছে ব্যবসায়ীদের হাতে। টাকা না থাকলে নাকি রাজনীতি হয় না। কেউ কেউ তো রাজনীতিকেই সবচেয়ে বড় ব্যবসা বলেন! কারো কারো ধারণা এখানে টাকা বিনিয়োগ করে একবার ক্ষমতার স্বাদ পেলেই সাত পুরুষের চলার মতো স্বচ্ছলতা হবে। অথচ, আমাদের বঙ্গবন্ধু ছিলেন মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিনিধি। তিনি তাঁর পড়াশুনা ও রাজনীতির আংশিক খরচ এমনকি সিগারেটের পয়শাটাও স্ত্রীর কাছে নিতেন। তাঁর সহজ-সরল জীবনযাপনের কথা সকলেই জানে। বঙ্গবন্ধু অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বলেন,

“আব্বা-আম্মা ছাড়াও সময় সময় রেণুও আমাকে কিছু টাকা দিতে পারত। রেণু যা কিছু জোগাড় করত বাড়ি গেলে এবং দরকার হলেই আমাকে দিত। কোনোদিন আপত্তি করে নাই, নিজে মোটেই খরচ করত না।''

টাকার চেয়ে বড় ব্যাপার বঙ্গমাতা তাঁকে কখনো কোনো কিছুতেই বাঁধা দেননি। মানসিকভাবে উৎসাহ যুগিয়েছেন। একজন বঙ্গবন্ধুর জাতির পিতা হয়ে ওঠার পেছনে লোভ নয়, টাকা নয়, প্রতিহিংসা নয়- কাজ করেছে সরল মন, মানুষের জন্য ভালো করার চেতনা আর তাঁর আপনজনদের বিশ্বাস। 

আরেকটি অসাধারণ গল্প বলা যেতে পারে। সময়টা ১৯৭৩ সাল। বঙ্গবন্ধু ভীষণ রকম অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ডাক্তার বললেন অপারেশন ছাড়া গতি নাই। পেটে পাথর হয়েছে। সবাই বঙ্গবন্ধুকে পরামর্শ দিচ্ছেন বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করতে। বঙ্গবন্ধু  বাঁধা দিলেন। তিনি বললেন,

“দেশের অর্থ খরচ করে আমি বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করাবো না। চিকিৎসা করতে হলে দেশেই করতে হবে। এজন্য যদি আমাকে মরতেও হয়, তবুও আমি মরতে রাজি আছি। তবুও রাষ্ট্রের অর্থ খরচ করে আমি বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করতে চাই না।“
শেখ মুজিবর রহমানের 'বঙ্গবন্ধু' হয়ে ওঠায় স্ত্রীর ভূমিকা ছিল অপরিসীম

এটিই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। অথচ, আজকাল সংসদ প্রতিনিধিদের মধ্যে কারো কারো কোনো হদিস খুঁজে পাওয়া যায় না, খোঁজ নিয়ে জানা যায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সময়টা তাঁরা ভিনদেশে সফর করে ডুব দিয়ে বসে আছেন! বঙ্গবন্ধুর নামে মিথ্যা প্রচারও কম হয়নি। তাঁকে ইসলামবিরোধী হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টাও হয়েছে এই দেশে। অথচ, তিনি স্বাধীনতার পরপরই রাশিয়াতে অনুষ্ঠিত তাবলীগে বাংলাদেশ থেকে জামাতপ্রেরণের ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকার কাকরাইলের মসজিদ ও বিশ্ব এজতেমার জন্য টঙ্গীতে সরকারি জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ্জ পালনের জন্যে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা তিনিই করেছিলেন। বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। তিনি বিদেশ থেকে মদ আমদানি ও মদ তৈরি নিষিদ্ধ করেছিলেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার নামে প্রকাশ্যে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ ষোষণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন খুবই ধর্মপ্রাণ মানব। তবে কখনো ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেননি তিনি। এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন,

“যার মনের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা, সে হলো বন্য জীবের সমতুল্য। যারা বাংলার গ্রামে-গ্রামে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে, তোমরা তাদের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন শুরু করো। ধর্মনিরপেক্ষতার পতাকা সমুন্নত রাখো।''

১৯৫০ সালে তিনি কারাবন্দী ছিলেন ফরিদপুরে। সমাজকর্মী চন্দ্র ঘোষের সাথে এক আলাপচারিতায় তিনি সেসময় বলেছিলেন, “আমি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান বলে কিছু নাই। সকলেই মানুষ।'' এটিই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এর প্রতিচ্ছবি যিনি আঁকতেন।

বঙ্গবন্ধু গুণী মানুষের কদর করতে পছন্দ করতেন। আজকাল দেশে গুণী হওয়ার বড় সমস্যা শেষ বয়সে এসে বিনা চিকিৎসায় অর্থের অভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়। বঙ্গবন্ধু তাঁর সমসাময়িক গুণী মানুষদের খেয়াল রাখতেন। জহরুল হক নামের একজন অফিসারকে দেখে বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে যেতেন। সবার কৌতূহল ছিলো এ নিয়ে। একদিন বঙ্গবন্ধু নিজেই বললেন, “জহুর ভাই সেই ব্যক্তি, যিনি ইংরেজীতে কিছু লিখলে সোহরাওয়ার্দী কখনো সেটা কাটতেন না।''  

এক সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছাকাছি বসে আছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। কিছুটা লজ্জ্বিত ভঙ্গিতে। একটা চিত্রশিল্পীদের জন্য একটা প্রতিষ্ঠান গড়তে কিছু জায়গা দরকার। সেটা সোনারগাঁও এ হলে ভালো হয়। এই কথাটাই অনেকদিন ধরে বঙ্গবন্ধুর কাছে বলবেন বলে সুযোগ খুঁজছিলেন। কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারছেন না। শেষমেষ জয়নুল আবেদিনের পাশে থাকা শিল্পী শাহাবুদ্দিন তাঁকে রক্ষা করলেন। কথাটা পেশ করলেন বঙ্গবন্ধুর কাছে। বঙ্গবন্ধু সব শুনলেন এবং বললেন, “পুরো সোনারগাঁই আপনার।“ এই হচ্ছেন আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, এভাবেই গুণী মানুষের কদর করতেন তিনি। 

নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রথম তিনিই ভেবেছিলেন। এক আদেশনামায় তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, “পাবলিক সেক্টরে যে সকল নিয়োগ হবে, তাতে ১০ শতাংশ মেয়েদের নিয়োগ থাকবে।“ সেই সময়ে ১০ শতাংশ মেয়েদের পাবলিক সেক্টরে নিয়োগ এর সিদ্ধান্ত কী পরিমাণ সাহসী কাজ, সেটা তখনকার মানুষই ভালো জানেন। এটিই ছিলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, যিনি নারী অধিকারের কথা সবার আগে মাথায় রাখেন। 

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ! এক ভদ্রলোক দেখা করতে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধুর কাছে। নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে ভেতরে প্রবেশ বাধা দিচ্ছিলো। বঙ্গবন্ধু দেখতে পেলেন তাকে। নিজে এসে ডেকে নিয়ে গণভবনের অভ্যন্তরে অনেকক্ষণ আলাপ করলেন। বের হওয়ার পর নিরাপত্তা রক্ষীদের বললেন,“আপনারা যারা এই ভদ্রলোককে গণভবনের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিয়েছেন তারা তাঁর অতীত সম্পর্কে কিছুই জানেন না। পাকিস্তানী পুলিশ যখন আমাকে গ্রেফতারের জন্য হন্যে হয়ে সারা দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তখন তিনি নিজের জীবনের বিনিময়ে আমাকে তাঁর বাসায় আশ্রয় দিয়েছিলেন। আমি তাঁর কাছে অনেক ঋণী।'' 

এটিই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, যিনি উপকারীর উপকারের কথা উদারতার সাথে স্বীকার করতেন। আজকের নেতাদের মতো নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরেরদিনে হাওয়া হয়ে যেতেন না তিনি। থাকতেন জনগণকে কাছে নিয়ে, জনগণের কাছাকাছি। এদেশে মুখে মুখে থাকার কথার ছিল বঙ্গবন্ধুর গল্প। অথচ, তেলবাজের সাম্রাজ্যে ভয় হয় একদিন বঙ্গবন্ধুর নামটা ছাড়া বাকি সব অর্জন, বিসর্জন, আদর্শ, দর্শন মুছে যায় কিনা! 

বঙ্গবন্ধু নিহত হয়েছিলেন তাঁর কাছের লোকদের দ্বারা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যদি নিহত হয় তবে সেটিও হবে এযুগে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিক্রেতাদের দ্বারা। সেই ক্ষণ যেন এজন্মে না দেখতে হয় আমাদের। এ জন্ম স্বার্থক হোক বঙ্গবন্ধুর দেশে জন্মেছি বলে, বাংলাদেশে জন্মেছি বলে...

আরও পড়ুন-

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা