বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের সাথে সর্বহারা-জাসদ-কমিউনিস্ট পার্টি, ইনু-মতিয়া-মেনন ইত্যাদিদের সংযোগ নিয়ে গাল বড় করে লেকচার কপচাতে দেখা যায় আজকাল। অথচ ঘরের শত্রু বিভীষণ হয়ে কত বিশ্বাসঘাতক যে রয়ে গেলো চেনা মুখোশের আড়ালে, সে নিয়ে কথা বলেনা কেউই।

বঙ্গবন্ধু সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন মনোরঞ্জন ধর। বঙ্গবন্ধু তাকে সম্মান করে দাদাবাবু বলে ডাকতেন। মনোরঞ্জন ধরকে মন্ত্রী হতে অনুরোধ করে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন-

‘দাদা আপনার কথার উপরে জীবনে কোন কথা বলিনি, আপনি যা বলবেন, যা করবেন সেটাতেই আমি রাজি।'

এই দাদাবাবু ১৫ই আগস্টের পর মোশতাকের আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই মনোরঞ্জন ধর ছিলেন কুখ্যাত ইনডেমনিটি নামক অধ্যাদেশের রচয়িতা। ‘দি বাংলাদেশ গেজেট, পাবলিশড বাই অথরিটি’ লেখা অধ্যাদেশটিতে দুটি ভাগ ছিল।

প্রথম অংশে বলা হয়েছিল-

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বলবৎ আইনের পরিপন্থী যা কিছুই ঘটুক না কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টসহ কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না।

দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছিল-
রাষ্ট্রপতি উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যাদের প্রত্যয়ন করবেন তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হলো। অর্থাত্ তাদের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীসভার ২১ মন্ত্রীকে ১৫ই আগস্টের পর মোশতাকের মন্ত্রীসভায় দেখা যায়। আরও উল্লেখ্য যে সেই ২১জনের কয়েকজন পরবর্তীতে আবারও আওয়ামী লীগের টিকেটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আজকাল বিভিন্ন সমাবেশে হাফপ্যান্ট পরা ছাত্রনেতাদের প্রায়শই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের সাথে সর্বহারা-জাসদ-কমিউনিস্ট পার্টি, ইনু-মতিয়া-মেনন ইত্যাদিদের সংযোগ নিয়ে গাল বড় করে লেকচার কপচাতে দেখা যায়। অথচ নিজেদের হাতে লেগে থাকা থকথকে রক্তের দিকে তাদের কোন নজর নেই। 

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা