প্রাসাদে ঢুকেছে আততায়ী, কোমরে গুঁজে রাখা সেফটি ক্যাচ অন করা পিস্তলটাও নজর এড়ায়নি নিরাপত্তারক্ষীদের, কিন্ত কেন তারা বাধা দিলো না যুবককে? সে কি রাজপরিবারের কেউ? সবাই চেনে তাকে?

উনিশশো পঁচাত্তর, রিয়াদ, সৌদি আরব। দিনের তাপমাত্রা এখানে চল্লিশের ওপরে থাকে, ধুলি ওড়ে পিচঢালা রাস্তায়। জেদ্দা-রিয়াদের মতো শহরগুলো তখনও আজকের মতো আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়নি, বহুতল ভবনের সংখ্যা হাতেগুণে বের করা যেতো। সৌদি অর্থনীতির চালিকশক্তি ভূগর্ভস্থ খনিজ তেল, তখন রমরমা একটা অবস্থা সৌদি অর্থনীতিতে, সারাবিশ্বে তেলের একচেটিয়া যোগানদাতা তখন মুসলিম বিশ্বের ঝাণ্ডাধারী এই দেশটাই। 

রাজধানী রিয়াদে সৌদি রাজপ্রাসাদে প্রতিদিনকার মতো ব্যস্ততা। এখানকার কর্মীদের অবসরের সময় খুব কমই মেলে, সে নিরাপত্তাকর্মীই হোক, বা অন্য কোন চাকুরে। প্রায় প্রতিদিনই বিদেশী অতিথিরা আসেন, তাদের মধ্যে থাকেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা নীতিনির্ধারকেরা, সৌদি বাদশা’র সঙ্গে ওদের সব বৈঠক এখানেই হয়, কড়া নিরাপত্তায় ঢাকা থাকে পুরো এলাকাটা, একটা মাছিরও অনুমতি ছাড়া গলবার উপায় নেই এখানে। সেই কঠোর নিরাপত্তার ফাঁক গলে জ্বলজ্যান্ত একটা মানুষ ঢুকে গেলে রাজপ্রাসাদে, লক্ষ্য একটাই তার- যেকোন মূল্যে সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজকে খুন করা। 

আততায়ী পড়েছে, হাতের বদলা হাত, চোখের বদলা চোখ, আর খুনের বদলা হচ্ছে খুন। সেই বদলা নিতেই এসেছে সে, চোখেমুখে তার প্রতিশোধের জিঘাংসা। কে এই যুবক? কার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে চায় সে? কিভাবে ঢুকে পড়লো সে সবার অলক্ষ্যে? না, অলক্ষ্যে নয়, সবার চোখের সামনে দিয়েই প্রাসাদে ঢুকেছে সে, কোমরে গুঁজে রাখা সেফটি ক্যাচ অন করা পিস্তলটাও নজর এড়ায়নি নিরাপত্তারক্ষীদের, কিন্ত কেন তারা বাধা দিলো না যুবককে? সে কি রাজপরিবারের কেউ? সবাই চেনে তাকে? 

কুয়েত থেকে তেল ব্যবসায়ীদের একটা বড়সড় প্রতিনিধিদল এসেছে সৌদি আরবে, তাদের সঙ্গে ছিলেন কুয়েতীয় তেল মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরাও। ওদের দলটার সঙ্গে আজ দেখা করবেন সৌদি বাদশাহ ফয়সাল, অতিথিরা সবাই এসে গেছেন, আছেন রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যেরা, আরও এসেছেন মন্ত্রীপরিষদের কয়েকজন সদস্য, তেল ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও। বাদশা ফয়সল তার ব্যক্তিগত প্রাসাদ থেকে এসে পৌঁছুলেন বৈঠকখানায়। অতিথিরা তখনও পর্দার অন্যপাশে, তেলমন্ত্রী শেখ জাকি ইয়ামানী বৈঠক সম্পর্কে ব্রীফ করছিলেন বাদশাহকে। এমনই সময়ে বৈঠকখানায় ঢুকলেন বাদশা’র এক ভাইয়ের ছেলে।

কাকতালীয়ভাবে, তার নামও ফয়সাল; ফয়সাল বিন মুসাইদ। অনেকদিন পর ভাইপোকে দেখে বেশ খুশীই হলেন বাদশা ফয়সাল, নিজের নামে নাম হওয়ায় ছেলেটাকে বেশ পছন্দও করেন তিনি। দাঁড়িয়ে গেলেন বাদশা, দুই হাত বাড়িয়ে আলিঙ্গনে জড়াতে চাইলেন ভাইপোকে। ঠিক তখনই গুলির শব্দ! একবার, দুইবার, তিনবার সশব্দে গর্জে উঠলো ঘাতকের রিভলবার!

মাইলখানে দূরের একটা সরকারী অ্যাপার্টমেন্টে সেই গুলির শব্দ পৌঁছাল না। সেখানে বাবার অপেক্ষায় বসে আছে এক অষ্টাদশী তরুণী। বাবা এলে একসঙ্গে দুপুরে খাবে, এজন্যেই তার প্রতীক্ষা। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল, মানুষটা ফিরলেন না। ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে মুসাইবা’র। তেলমন্ত্রী শেখ ইয়ামানীর মেয়ে সে। সন্ধ্যার আগমূহুর্তে শেখ ইয়ামানী যখন বাসায় ঢুকলেন, ততক্ষণে তার বেশভূষায় বিধ্বস্ত একটা ছাপ, শরীর আর মনের ওপর দিয়ে বিশাল এক ঝড় বয়ে গেছে। ঘরে ঢুকে সোজা ডাইনিং রুমে চলে গেলেন ইয়ামানী, পেছন পেছন গেলেন মুসাইবাও, চোখে তার জিজ্ঞাসু দৃষ্টি। শেখ ইয়ামানী আর্তনাদ করে উঠলেন, ‘মুসাইবা, ভয়ঙ্কর বিপদ!’ এর অনেক্ষণ আগেই হাসপাতালের ডাক্তারেরা জানিয়ে দিয়েছেন, জীবনপ্রদীপ নিভে গিয়েছে বাদশা ফয়সালের। তিনটে গুলির মধ্যে একটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল, অন্য দুটোর একটা আঘাত করেছিল তার চিবুকে, সেটাই তার মৃত্যুর কারণ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

বাদশাহ ফয়সাল 

পুরোটা সময় বাদশা’র সঙ্গেই ছিলেন ইয়ামানী, দেখেছেন কিভাবে শক্তসমর্থ একটা কঠিন হৃদয়ের মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ধীরে ধীরে। লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া গুলিটা ইয়ামানীর কানের পাশ ঘেঁষে চলে গেছে, একটু উনিশ বিশ হলে যে কি হতো সেটা ভেবেই শিউরে ওঠেন শেখ ইয়ামানী। আততায়ী আর কেউ নয়, বাদশা’র প্রিয় ভাইপো ফয়সাল। অস্ত্রসহ ধরা পড়েছে সে, বাদশাহকে গুলি করার পরে শান্ত ভঙ্গিতে বৈঠকখানার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল সে। গুলির শব্দ শুনে অস্ত্র বাগিয়ে ছুটে এসেছিল নিরাপত্তারক্ষীরা, চিৎকার করে তাদের থামতে বলেছিলেন ইয়ামানী, ফয়সালকে জীবিত ধরা প্রয়োজন, কোনভাবেই যেন তার মৃত্যু না হয়।

ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, যাকে অনেক পশ্চিমা রাজনৈতিক বিশ্লেষক রায় দিয়েছিলেন সৌদি আরবের ইতিহাসের সবচেয়ে উদারপন্থী শাসকদের একজন হিসেবে, তার মৃত্যু হলো নিজের ঘরে, নিজের পরিবারের সবচেয়ে প্রিয়তম সদস্যদের একজনের হাতে! 

কী ছিল এই খুনের পেছনের কারণ? সেটা জানতে হলে খানিকটা পিছিয়ে যেতে হবে, ঘড়ির কাঁটাকে উল্টোদিকে ঘুরিয়ে চলে যেতে হবে বাদশা ফয়সালের একদম শুরু সময়টায়। 

সৌদি আরবের জনক ধরা হয় আবদুল আজিজ ইবনে সৌদকে। তার নামেই সৌদি আরবের নামকরণ। বিশ্বের আর কোন দেশের নাম সেদেশের জনক বা বিখ্যাত কোন ব্যক্তির নামের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয়নি। সেই আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের একশোজন সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ। সৌদি রাজপরিবারের নিয়ম অনুযায়ী যুবক বয়স থেকেই বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে পালন করতেন যুবরাজেরা, ফয়সালও তার ব্যতিক্রম হননি, হাইল এবং আসির প্রদেশে তাকে পাঠানো হয়েছিল ছয় হাজার সৈন্যের বাহিনী দিয়ে। নিজের সাহসী সিদ্ধান্তগ্রহণ আর বিচক্ষণ দৃষ্টিভঙ্গির কল্যানে অল্প সময়েই এই অঞ্চলে তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। 

১৯২৫ সালে হেজাজ বিজয় করেন তিনি, পরের বছর এই প্রদেশের শাসনকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় তাকে। ১৯৩০ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। তবে সেই সময়টায় সৌদী আরবের অর্থনীতি ছিল নিম্নমুখী। বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ তখন দেশের আভ্যন্তরীন নানা ঘটনা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন মতাবলম্বী গোত্রগুলো মাঝেমধ্যেই বিদ্রোহ করে, তাদের দমন করা আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখায় এত বেশী সময় আর মনযোগ দিতে হচ্ছিল যে, অর্থনীতির সূচক পতনের করাল গ্রাস ঠেকানো যাচ্ছিল না কোনভাবেই। 

১৯৫৩ সালে ফয়সালের বড় ভাই সৌদ বিন আবদুল আজিজ বাদশাহ মনোনীত হলেন, ফয়সাল হলেন যুবরাজ। কিন্ত দেশের অবস্থা হলো আরো খারাপ। বৈদেশীক ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়ছিল দেশটা, ক্রমাগত বাড়ছিল দেনা। অথচ সেই সময়ে অসম্ভব রকমের বিলাসী জীবনযাপন করতেন আবদুল আজিজ, সরকারী কোষাগারের অর্থ রাজপরিবারের জন্যে খরচের অদ্ভুত একটা নিয়ম চালু করে দিয়েছিলেন তিনি! 

দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব চরমে উঠলো একটা সময়ে, ষাটের দশকের শুরুর দিকে সেটা ভয়াবহ রূপ নিলো। ১৯৬২ সালে বাদশা আবদুল আজিজ চিকিৎসার জন্যে বিদেশ গেলে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আলাদা একটা মন্ত্রীপরিষদ ঘোষণা করে দিলেন যুবরাজ ফয়সাল। সেই মন্ত্রীসভায় আবদুল আজিজের সন্তানদের কেউ স্থান পেলো না। বাদশা’র নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সৌদি রয়্যাল গার্ড তখনও আবদুল আজিজের প্রতি অনুগত, আজিজ ঘোষণা দিলেন, তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন না, দরকার হলে রয়্যাল গার্ডকে ব্যবহার করবেন। পাল্টা চাল হিসেবে ফয়সাল নিয়ে এলেন সৌদী ন্যাশনাল গার্ড-কে। দুই পক্ষ মুখোমুখি একটা অবস্থানে, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আসন্ন- এমন সময়ে পরিবারের নীতিনির্ধারক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের চাপে পদ ছাড়তে রাজী হলেন আবদুল আজিজ।

ক্ষমতায় এসেই সরকারী ব্যয় কমানোর ঘোষণা দিলেন বাদশাহ ফয়সাল। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে রাজপরিবারের সদস্যদের ভর্তুকী দেয়ার নিয়মটাও সাময়িক সময়ের জন্যে নিষিদ্ধ করলেন, যদিও পুরোপুরি বিলুপ্ত করেননি সেটা। রাজপরিবারের সন্তানদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্যে গমন নিষিদ্ধ করেছিলেন তিনি, তার পরিবর্তে দেশের ভেতরেই শিক্ষাগ্রহণের আদেশ জারী করেন। এই আদেশের ফলেই সৌদি আরবের প্রভাবশালী পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের দেশের ভেতরেই পড়ালেখা করাতে উৎসাহী হয়ে ওঠে, তৈরী হয় নতুন উচ্চশিক্ষাকেন্দ্র, সেগুলোর মানও উন্নত হতে থাকে। 

ওয়াহাবী গোত্রগুলোর সঙ্গে রাজপরিবারের একটা মনমালিন্য ছিল বরাবরই, কিন্ত সেই মনোমালিন্যকে একপাশে রেখে তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন বাদশা ফয়সাল। তেল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জনে জোর দিয়েছিলেন ফয়সাল, ভূগর্ভস্থ তেল উত্তোলনের জন্যে বিদেশী কোম্পানীগুলোর মুখাপেক্ষী না হয়ে থেকে নিজেদের ব্যবস্থাতেই সঠিকভাবে তেল উৎপাদন করা যায় কিনা, সেটা দেখার জন্যে কমিটি তৈরী করে দিয়েছিলে। 

নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি, যুবরাজ থাকাকালীন সরকারী টিভি স্টেশন স্থাপন করেছিলেন; যদিও এজন্যে রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতাদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। বিদেশী রাষ্ট্রগুলো এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল খুবই ভালো। নিজের সময়ে মুসলিম বিশ্ব বা ওআইসির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা ছিলেন ফয়সাল। যদিও এই প্রভাবের অনেকখানি অপব্যবহার তিনি করেছেন বাংলাদেশের সঙ্গে, তার জীবদ্দশায় সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি, শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল বলে। বাংলাদেশের মানুষের হজ্জ পালনও নিষিদ্ধ করেছিলেন তিনি, পাকিস্তানী বন্ধুদের টানে! 

তবে নিজের শাসনামলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন যে কাজটা তিনি করেছিলেন, বা যেটার জন্যে সবচেয়ে বেশী প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, সেটা হাজার হাজার বছরের দাসপ্রথার বিলুপ্তি ঘটিয়ে। সরকারী ব্যবস্থাপনায় প্রায় ১৭০০ দাসকে ‘আজাদ’ বা মুক্ত ঘোষণা করা হয়। প্রতিজন দাসকে মুক্ত করার পেছনে তার সরাকার ভর্তুকী দিয়েছিল দুই হাজার ডলার করে। পুরো অর্থটাই দেয়া হয়েছিল সরকারী কোষাগার থেকে। সৌদি আরব তখন অর্থনীতিতে ভালোভাবেই দাঁড়িয়ে গেছে, নগরায়ন বাড়ছে, মানুষের জীবনযাত্রাও বেশ উন্নত হয়েছে তার সময়ে। কিন্ত কেন তাকে হত্যা করা হলো? কোন ক্ষোভের বলি হয়েছিলেন বাদশাহ ফয়সাল?

কট্টরপন্থী কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্ররোচনায় একটা দল হামলা চালিয়েছিল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সেন্টারে। সেখানে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছিল সেই দলটার। মোটামুটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ যাকে বলে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিল বেশ ক’জন, তাদের মধ্যে ছিলেন রাজপরিবারের এক সদস্যও। তার নাম প্রিন্স খালিদ বিন মুসাইদ, যে ফয়সাল বিন মুসাইদ নিজের হাতে বাদশাহ ফয়সালকে হত্যা করেছিলেন, খালিদ ছিলেন তারই বড় ভাই। 

নিজের ভাইয়ের হত্যাকারী হিসেবে বাদশাহকেই দায়ী করেছিলেন ফয়সাল, প্রতিশোধের আগুন তার বুকের ভেতর জ্বলছিল দাউদাউ করে। সেই আগুনটাই তিনি নেভালেন বাদশাহ ফয়সালের মাথা লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছুঁড়ে। অনেকে অবশ্য এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আমেরিকার সিআইএ’র হাতও খুঁজে পায়, তবে সেটা গুজবের পর্যায়েই আছে। 

সংখ্যালঘু ওয়াহাবী সম্প্রদায় এই হত্যাকাণ্ডে মদত দিয়েছিল বলেই দাবী করেন অনেকেই। হত্যাকারী ফয়সাল বিন মুসাইদকে ঘটনার পরপরই গ্রেফতার করা হয়, বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় তাকে। প্রাথমিকভাবে ফয়সালকে পাগল বলে ঘোষণা দেয়া হয়। তবে বিচারকার্য চলাকালে চিকিৎসকদের প্যানেল কর্তৃক মানসিকভাবে সুস্থ রায় দেয়া হয় তাকে। বিচারে তাকে মৃত্যুদন্ডের সাজা দেয়া হয়েছিল। সে বছরের জুন মাসেই সেই মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়, রিয়াদে প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদ করা হয় ফয়সালের। প্রায় এক হাজার মানুষ সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।

তথ্যসূত্র- বিবিসি, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস

*

প্রিয় পাঠক, চাইলে এগিয়ে চলোতে লিখতে পারেন আপনিও! লেখা পাঠান এই লিংকে ক্লিক করে- আপনিও লিখুন


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা