ভাইরে/আপুরে! গত প্রায় ৩/৪ মাস ফেসবুক এর বাইরে ছিলাম। এই সময়ে অনেক কিছু শিখছি। তবে যে গুপ্তধন আবিষ্কার করছি তা যদি আগে আবিষ্কার করতে পারতাম, তাইলে জীবনটা আরো মৌজ মাস্তির, আরো আরামের, আরো প্রোডাক্টিভ হইতো! এক ভাইজান এর ভিডিও দেইখা আমার এই আবিষ্কার!

শাব্বির আহসান: এইডা হইলো ৪ ঘন্টার শত্রু নিধন আর পড়াশুনার আর অসাধারণ হইয়া উঠার কিসসা কাহিনী। আমি আগে ৩০ মিনিট কইরা পড়তাম, ব্রেক নিতাম, চা খাইতাম, ফেবুতে বাংলা সিনেমার গ্রুপে হালকা হা হা রিয়েক্ট দিয়া আবার পড়তে বইতাম। অনেকটা পোমোডোরো টেকনিক আর কি! সবাই কইবেন, সমস্যা কী!? আছে ভাইরে আছে, সমস্যা আছে।

একবার কনসেনট্রেশন ভাইংগা গ্যালে আবার তা আনতে আনতেই আধেক সময় শেষ! আর ২০/৩০ মিনিট লাগাতার পইড়া আসলে কোনো কিছুর কনসেপ্ট মাথায় ঢুকে না। আর মাঝখানের ব্রেক এ যদি লোভে পইড়া একবার নিজের টাইমলাইন এ ঢুকছেন তো কেল্লা ফতে! ফলাফল? সারাদিন বই নিয়া বইসা থাকো আর খাও বউ এর বাজার করার ঝারি আর চোখ রাংগানি! 

তাইলে ক্যামনে কী? এইত্তো লাইনে আইছেন! ফলো করেন দিনে মাত্র ৪ ঘন্টার নিঞ্জা টেকনিক! আর বাকি সময় যা ইচ্ছা তাই - নেটফ্লিক্স, আড্ডা, ঘুম আর এক্সারসাইজ!

দিনে একবারে ৪ ঘন্টা বা দুইবারে ২ ঘন্টা কইরা মাত্র ৪ ঘন্টা সময় বাইর করেন। সবচেয়ে ভালো হয় সকালে ৬-১০ বা সকালে ৭-৯ আর বিকালে ৭-৯৷ মোট ৪ ঘন্টা, ব্যাস! আর হ্যাঁ, এর মধ্যে প্রধান কাজ হইলো নীচের শত্রু গুলা খতম করা-

১. মোবাইল - সাইলেন্ট না, পুরাপুরি বন্ধ, আর রাখবেন অন্য রুমের বিছানার তলে।
২. বাথরুম - আগেই শেষ কইরা রাখতে হবে।
৩. খাওন দাওন - না না না, চা-কফি তো দূরের কথা!
৪. কম্পিউটার - বন্ধ! (যদি না অনলাইনে পড়াশুনা করি)
৫. বন্ধুবান্ধব / আত্মীয়স্বজন - মনে করেন আপনি টারজান, জংগলে থাকেন।

প্রতি রাতে ২ মিনিটের ছোট্ট একটা কাজ - পরের দিন যেইখান থিকা পড়া শুরু করবেন সেই পাতায় পেন্সিল গুইজা রাখা, খাতা কলম রেডি রাখা আর হালকা প্ল্যান করা কী কী পড়বেন। ২ মিনিট মাত্র, বেশী না। কারণ এই প্রিপারেশনের চক্করেই পরেরদিন ১ ঘন্টা শেষ!

এখন শুরু করেন ২ বা ৪ ঘন্টার Super concentrated study. মনে রাখবেন, জীবনে তখন আর কিচ্ছু নাই, নাই রং, রস, রুপ - খালি বইয়ের পাতার অক্ষর যা লিখতে যাইয়া সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীবকে ১০০০০ বছর পার করতে হইছে৷ যে অংক করতেছেন, যে ফিজিক্স পড়তেছেন বা বায়োলজি - সে জন্যি হাজার হাজার নিউটন, আইন্সটাইন জীবন দিয়া দিছে, যুদ্ধ হইছে, লাখ লাখ মানুষ আত্মদান করছে, সে বই প্রিন্ট করতে কম্পিউটার,  ছাপাখানা, কাগজ, কালি আবিষ্কার করতে হইছে - এই সামান্য বই কিন্তু বই না - এইটা যাদুর খনি, সোনার হরিন, মুফতে/ বিনা চেষ্টায় পাইছেন মনি মুক্তা, ভাইরে এইটা হেলাফেলা কইরেন না। 

শরীরের চোখ দিয়া দেখতেছেন সাধারণ নিউজ প্রিন্ট, কিন্তু মনটা খুলেন, মস্তিষ্ক বিকাশ কইরা দেখেন - ১০০০০ বছরের আবিস্কার আপনের সামনে - জানার জন্যি, বুঝার জন্যি, ওই আবিস্কারকে আরো ক্ষুরধার করার জন্যি! আপনে নিজে এই দায়িত্ব নিছেন, পুরা মানুষ জাতির দায়িত্ব। কঠিন এক কাজ। মোবাইল, বাথরুম,  খাওনদাওন তখন সামান্যই মনে হবে। ৪ ঘন্টা, মাত্র৷ দিনের ১৭% মাত্র! মাত্র!

৪ ঘন্টা - আপনের অসাধারণ হইয়া উঠার অবিশ্বাস্য গল্প। ৪ ঘন্টায় ৪০০ ঘন্টার কাজ হবে। বাকী সময়? পুরাই আপনের নিজের। যেভাবে ইচ্ছা, মন যা চায় (অন্যের ক্ষতি ছাড়া) করেন!

৪ ঘন্টা! তা ভাইরে! কবে থিকা?

**

লেখক- শাব্বির আহসান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর। অংশগ্রহণ করেছেন প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে (গালফ ওয়্যার, ১৯৯০-১৯৯১)। দীর্ঘদিন সাফল্যের সাথে কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষার মিশনে কাজ করেছেন। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পে কাজ করেছেন পরামর্শক হিসেবে। এসময় তিনি প্রচুর বই পড়তেন। পাশাপাশি অব্যাহত রেখেছিলেন দেশ-বিদেশে ভ্রমণ। লেখালেখির শুরু তখন থেকেই। ফেসবুকে তাঁর 'ভাইরে আপুরে' সিরিজটি ভীষণ জনপ্রিয়। একই শিরোনামে তাঁর লেখা বইটিও পাঠকদের মন ছুঁয়েছে।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা