জন্মানোর ৩৭ দিনের মাথায় শিশুটার শরীরে বাসা বাঁধল প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। সেই থেকে টানা ৯ দিন আইসিইউ’তে প্রাণপণ লড়াই করে করোনাকে পরাজিত করে বেঁচে থাকার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো সেই শিশু...

শিশুটির নাম আমিনে তেপে। জন্ম হয়েছে করোনার ক্রান্তিকালে। বয়স যখন মাত্র ৩৭ দিন, তখনই বাচ্চাটার শরীরে ধরা পড়লো করোনাভাইরাস। তুর্কির ইস্তানবুলের ঘটনা এটা। গত ১২মে এর তারিখ উল্লেখ করে গ্লোবাল টাইমসের বরাতে নিশ্চিত করা হয় ঘটনার সত্যতা।

তুর্কিতে এখনো পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ। তার মাঝে সুস্থ হয়েছেন প্রায় এক লাখ দশ হাজার। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন চার হাজারেরও বেশি মানুষ। এখনো আক্রান্ত আছেন পঁয়ত্রিশ হাজারের বেশি।

চারপাশে মৃত্যুর মিছিল নিয়ে পথচলা যে শিশুর, তাকে আইসিইউ নামক মৃত্যুকূপ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তার বয়স এখন দেড় মাস, এরই মধ্যে কীভাবে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়ে সেটাও জানা হয়ে গেছে তার।  

হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসারত আমিনে তেপে

ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন, মা বাবার মাধ্যমেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলো শিশুটা। পরিবারের সবাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে আছে শিশুটির। এই অবস্থায় লড়াইটা একাই চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। অবশ্য আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করার সময় শিশুটির এক আত্মীয় উপস্থিত ছিলো।

করোনাক্রাইসিসে জন্মটানোটাই এক ক্রাইসিস বটে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকাটা আসলে চারটিখানি কথা নয়। সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু, যার ইমিউন সিস্টেমও অতোটা শক্তিশালী নয়। সেই শিশুটা যখন করোনাকে হারিয়ে ফিরিয়ে আসে, তখন আপনা-আপনি জীবনীশক্তি ফিরে পাই।

কোনো এক দুর্গোম অন্ধকার পথে আশার আলো জাগে। করোনা হয়তো তার সর্বশক্তি দিয়েই রুখে দিতে চাইবে মানব সম্প্রদায়কে। এবং এই যুদ্ধজয়ী গল্পগুলো এতো সহজে হেরে যেতে দেবে না আমাদের।

 

 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা