মানুষের বিয়ের ইভেন্ট অর্গানাইজ করতে করতে বিয়ে বিষয়ে আমার ভেতর ভয় ঢুকে গেছে। না জানি বিয়ের পর বউ কোনদিন বলে বসে, আমারে একটা লাইট পিংক বাচ্চা এনে দাও। তার গায়ে যাতে হালকা ব্লু কালারের শেড থাকে।

আসাদুজ্জামান জীবনঃ ওয়েডিং ইভেন্ট অর্গানাইজ করার কাজের সুবাদে প্রায়ই নানান ধরনের ক্লায়েন্টের সাথে ইভেন্ট বিষয়ক আলোচনা করা লাগে। প্রতিটি ইভেন্টে ফ্লোরাল ডেকোরেশনে একটা কালার থিম থাকে। সেই থিম ধরেই ভেন্যু সাজানো হয়। ক্লায়েন্ট দুই ধরনের হয়। পুরুষ ও নারী।

পুরুষ ক্লায়েন্ট : ভাইয়া, আমার বিয়ের ডেকোরেশনটা সুন্দর করে করবেন প্লিজ। 

পুরুষ ক্লায়েন্ট : ভাইয়া, আমার ইভেন্টে সবকিছু রেড+গোল্ডেন থিমে করবেন।

পুরুষ ক্লায়েন্ট : ভাইয়া, ছবির মতন এজ ইট ইজ করলেই হবে।

পুরুষ ক্লায়েন্ট : ভাইয়া, আপনার পছন্দ মতন করে দিয়েন, যাতে সুন্দর হয়।

পুরুষ ক্লায়েন্ট নিয়ে তেমন একটা সমস্যা নাই। আমার মাথা আউলায় যায়, যখন নারী ক্লায়েন্ট আসে।

নারী ক্লায়েন্ট : ভাইয়া, আমার ইভেন্টের কালার থিমটা হবে ল্যাভেন্ডার+পিচ+ইনডিগো+মেজেন্ডা। এই যে এই সামনের কেনাপিটা হবে লাইম ইউলো। আর ব্যাকড্রপের কার্টেইনটা হবে পাকা পেঁপের ভেতরের কালার। ফুলের কম্বিনেশন হবে পেঁয়াজের দুই তিনটা পাপড়ি তুলে ফেলার পর যেই কালারটা হয়, সেইটা। ফ্রন্টে আর্টিফিসিয়াল ফুলের মধ্যে মিষ্টি কালার ফুল দিবেন। বাগেরহাটের সাদেক গোল্লার যেই কালার, ওই মিষ্টির কালারটা।

একবার এক মেয়ে ক্লায়েন্ট এসে বললো: ভাইয়া, একদম সেন্টারে একটা স্যান্ডেলিয়ার দিবেন। ওইটার লাইটের কালার হবে, সবুজ রংয়ের সাথে পার্পেল রং মিলালে যেই কালারটা হয়, ওইটা। ওয়াকওয়েতে কার্পেট দিবেন ক্যাপাচিনোর কালারের মতন আর সেন্টারপিস গুলো দেখতে যাতে কোণ আইসক্রিমের মতন হয়। সাইড কার্টেনগুলো বাটারফ্লাই+জর্জেট কাপরের হবে।

মাঝে মাঝে এই ক্লায়েন্টগুলোর সাথে কথা বলার পর তাদের জামাইগুলার জন্য আমার আফসোস লাগে। আহারে, মানুষের সংসার জীবন কতই না অসহ্য হয়। যারা বলো আমি কেন বিয়ে করিনা? তাদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা, মানুষের বিয়ের ইভেন্ট অর্গানাইজ করতে করতে বিয়ে বিষয়ে আমার ভেতর ভয় ঢুকে গেছে।না জানি বিয়ের পর বউ কোনদিন বলে বসে, আমারে একটা বেবি পিংক বাচ্চা এনে দাও। তার গায়ে যাতে হালকা ব্লু কালারের শেড থাকে।

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ জাওয়াদ চৌধুরী


ট্যাগঃ

শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা