পুরো বিশ্ব যখন অচল হয়ে পড়েছে, তখন তুর্কমেনিস্তানে জীবন চলছে স্বাভাবিক গতিতে। দোকানপাট, ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট- সব খোলা। অনেক মানুষ এক জায়গায় জড়ো হচ্ছে, অথচ কেউ মুখে মাস্ক পড়ছে না...

এই লেখাটা যখন লিখছি- করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন দশ লাখেরও বেশি, যার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৮৩ হাজারের বেশি মানুষ। এই যখন পরিসংখ্যান, তখন গোটা একটা দেশ দাবী করছে তারা নাকি করোনাভাইরাসে আক্রান্তই হয়নি। মধ্য এশিয়ার এই দেশটার নাম তুর্কমেনিস্তান। বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়ক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম তারা।    

করোনাভাইরাস ঠেকাতে অন্যান্য দেশ যখন সবকিছু নিষিদ্ধ করে লকডাউন জারি করছে, তখন তুর্কমেনিস্তানে গত ৭ই এপ্রিল ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ উদযাপনের জন্য গণ সাইকেল র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছিলো। তারা দাবী করছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজনও ধরা পড়েনি সেখানে।

তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট গুরবাঙ্গুলি বেরডিমুখাআমেডভের নির্দেশ মেনে সব অফিস, আদালত, বাজারে একটি ভেষজ উপাদান ছড়িয়ে জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের ধারণা এই ভেষজ উপাদান ভাইরাস দমনে সাহায্য করবে। যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমান নেই। 

বিশেষজ্ঞদের আশংকা, তুর্কমেনিস্তানের সরকার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেসব তথ্য প্রকাশ করে, সেগুলোর একেবারেই বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। গত এক দশক ধরে ওরা দাবি করে যাচ্ছে সেদেশে নাকি কোন এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত মানুষও নেই। যা মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

৭ই এপ্রিল ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ উদযাপনের জন্য তুর্কমেনিস্তানের গণ সাইকেল র‍্যালি

সেদেশের সরকারের ভয়ে থাকা আতঙ্কগ্রস্ত জনগনও এ ব্যাপারে মুখ খুলছে না একদমই। নাম প্রকাশ না করে আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমে যে বিবৃতি তারা দিচ্ছেন, তাতে স্পষ্ট যে তুর্কমেনিস্তানের সরকার সত্য গোপন করছে। যা করোনাভাইরাসের মহামারি প্রতিরোধের চেষ্টায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে। কিন্তু ভয়ে দেশটির কোন মানুষ সেরকম ইঙ্গিত পর্যন্ত দিতে নারাজ।

‍তবে তুর্কমেনিস্তানের কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কিছু প্রশংসা করবার মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। তারা প্রায় এক মাস আগে তাদের স্থল সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিলো। জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে তারা নিজেদের পরিকল্পনাও তৈরি করেছে। গত ফেব্রুয়ারীর শুরুতে চীন এবং অন্য কিছু দেশের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচলও বন্ধ করে দেয় তারা।

সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণের জন্য রাজধানীর পরিবর্তে পাঠিয়ে দেয়া হয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তুর্কমেনাবাটে। সেখানে একটি কোয়ারেনটিন জোনও তৈরি করা হয়। অনেকে আবার ঘুষ দিয়ে এই কোয়ারেনটিন জোন থেকে আগেই বেরিয়ে যান- এই অভিযোগও রয়েছে।  

কিন্তু বাকী বিশ্বে যখন সব অচল হয়ে পড়েছে, তখন তুর্কমেনিস্তানে জীবন চলছে স্বাভাবিক গতিতে। দোকানপাট, ক্যাফে, রেস্টুরেন্ট- সব খোলা। বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। কেউ মুখে মাস্ক পড়ছে না। বড় বড় জনসমাগম হয় এমন ধরণের অনুষ্ঠানও চলছে। মনে হচ্ছে করোনাভাইরাসের মারাত্মক হুমকিকে এই দেশ অস্বীকার করে চলেছে।

আরও পড়ুন- 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা