ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় পাখিগুলো মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। এরপর কি হয়েছিল বলে মনে হয়? নিশ্চয়ই ভাবছেন আশেপাশের মানুষগুলো পাখিগুলোকে রক্ষার চেষ্টা করেছে, তাই না?

শামুকখোল পাখি। শ্বেতশুভ্র অতিথি পাখি। নাটোরের বড়াইগ্রামের বাজিতপুর গ্রামে বটতলা বাজারের পাশে তিনটা শিমুল গাছের ডালে দুইশোর বেশি শামুকখোল পাখি বাসা বেঁধে আশ্রয় নিয়ে ছিল ৩ মাস ধরে। সারাদিন চারপাশের বিলে খাবারের সন্ধানে ঘুরতো, রাতে গাছে এসে আশ্রয় নিত। ঘুর্ণিঝড় আম্ফানে বাতাসের তীব্রতায় গতকাল ভোরে পাখিগুলো মাটিতে পড়ে গিয়েছিল। 

এরপর কি হয়েছিল বলে মনে হয়? নিশ্চয়ই ভাবছেন আশেপাশের মানুষগুলো পাখিগুলোকে রক্ষার চেষ্টা করেছে, হয়তো পারে নাই, অনেক পাখি মারা গেলেও কিছু হয়তো বেঁচে গেছে বলে আশা করছেন, তাই না? 

পাখিগুলো নীচে পড়ে যাবার পর কিছু মানুষ এই প্রবল ঝড়ের ভেতরেও পাখিগুলোকে ধরে নিয়ে গেছে। তারপর কেটেকুটে চুলায় রান্না বসিয়ে দিয়েছে। সারাদেশে প্রবল দুর্যোগের ভেতর তাদের গ্রামে আশ্রয় নেয়া কিছু অতিথি প্রচন্ড ঝড়ে অসহায় হয়ে পড়বার সুযোগে তারা অতিথি সৎকার করেছে তাদের কেটেকুটে রান্না করে মজাসে খেয়ে ফেলে! কি অসাধারণ মনুষ্যত্ব আর মহানুভবতা! 

বাজিতপুরের শামুকখোল পাখি

এর আগেও পাখিগুলোকে গ্রামের অনেকেই শিকার করতে চেয়েছে, কিন্তু আব্দুল কাদের নামে এক পাখিপ্রেমী তরুণ তাদের আটকে দিয়েছেন, গ্রামবাসীকে বুঝিয়ে পাখিগুলোকে রক্ষা করে আসছিলেন। কিন্তু ঝড়ের ভেতর যখন সবাই আতংকিত হয়ে বাড়িঘর, জানমাল বাঁচাতে ব্যস্ত, তখন এই লোভী হায়েনাগুলো গাছ থেকে নীচে পড়ে যাওয়া অসহায় পাখিগুলোকে ধরে নিয়ে গেছে। তিনি এসে গাছের নীচে পাখিদের আর পাননি, পরে তাদের বাড়ি গিয়ে দেখেন ইতিমধ্যে কেটেকুটে পাখির মাংস চুলায় রান্নায় চড়িয়ে দেয়া হয়েছে। 

শামুকখোল পাখিগুলোর ওজন ছিল ২-৩ কেজি, সম্ভবত খুব মজাও হয়েছিল খেতে। যেদেশে পালে পালে মানুষের মত দেখতে পিশাচশ্রেণীই সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে আসলে অতিথি পাখির সৌন্দর্য, পরিবেশ রক্ষায় তাদের গুরুত্ব, তাদের আশ্রয় দিয়ে ভালো রাখা, স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে দেয়া ইত্যাদি আলোচনার চেয়ে পাখির মাংস কেমন হবে, খেতে কতটা টেস্টি, কিভাবে লোলুপ দৃষ্টিতে শিকার করা যাবে এসব আলোচনাই বেটার...


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা