চীন থেকে আনলে মন্ত্রী আনেন, উপদেষ্টা আনেন। ডাক্তার বা নার্স চেষ্টা করলেও আনতে পারবেন না। চোরের দল শত শত পিসিআর মেশিন এনে গোডাউনে ফেলে রেখেছে অথবা পুরো বরাদ্দটাই হজম করে ফেলেছে। তারাই হয়ত আপনাকে বলছে বিদেশি ডাক্তার-নার্স আনতে।

ডা. মো. জাহিদুর রহমান খান: একজন ভাইরোলজিস্ট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক 

এর আগের একটি লেখায় বলেছিলাম, বেশি কান্নাকাটি করলে ধমক খাবো- সেটাই হয়েছে। চোরের দল নিজেদের আকাম আড়াল করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলছে ডাক্তাররা চিকিৎসা না দেয়ার জন্যই আজকে দেশের করোনা পরিস্থিতি এত খারাপ হয়েছে। সে হিসেবে ধমক কমই হয়েছে। অথচ দেশের ৯৯.৯৯% মানুষ জানে আজকের এই পরিস্থিতির জন্য কারা প্রকৃতপক্ষে দায়ী।

গত কয়েক বছর থেকেই দেখা গিয়েছে, যখনই তাদের বড় বড় আকামগুলো ফাঁস হয়, তখনই যে কোন একটা ডাক্তার সম্পর্কিত ইস্যু সৃষ্টি করে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মনোযোগ মূল ফোকাস থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। তিন মাসে একটা পূর্ণাঙ্গ করোনা হাসপাতাল তৈরি করতে না পারা কি ডাক্তারের ব্যর্থতা?

এসব নিয়ে আর কিছু বলার রুচি হয় না। পত্রিকা খুললেই দেখা যাবে প্রতি বছর পিসিআর মেশিনের মতো দামী দামী যন্ত্রপাতি কেনার নামে কারা হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। তারপরও একটা আশা ছিল, যেহেতু নিজেরও মরার ভয় আছে, চোরেরা হয়ত গোপনে হলেও মাফ টাফ চেয়ে কিছু কাজ করার চেষ্টা করবে। তা না করে আবারও ডাক্তার এবং জনগণকে মুখোমুখি করিয়ে দেয়া হল। এর পরিণাম দেশের সবাইকেই ভোগ করতে হবে।

ডাক্তার এবং জনগণ মুখোমুখি হলে পরিণাম সবাইকেই ভোগ করতে হয়

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বোঝা উচিত, বঙ্গবন্ধুর রক্ত প্রবাহিত হওয়ার কারণে যেমন উনার ঘাড়ের রগ ত্যাড়া, তেমনি ঘাড় ত্যাড়ারাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে শক্ত করে ধারণ করে। আমরা মানুষের সেবা করি দায়িত্ববোধ থেকে। চাকরি যাওয়ার ভয় থেকে না। ঝুঁকি ভাতা যে কোন পেশার মানুষের জন্য একটি মৌলিক অধিকার। এটি যদি দান খয়রাত ভাবেন, তাহলে দেয়ার দরকার নাই, আশপাশের চাটার দলকে দেন।

৫২, ৭১, ৯০, ২০১৩, আজ পর্যন্ত কোন আন্দোলন, সংগ্রাম বা জাতীয় দুর্যোগে বাংলাদেশের ডাক্তাররা কিছু পাওয়ার লোভে দেশের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েনি। এই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আপনাদের ঘুম ভাঙতে হয়ত দেরি হয়েছে। অথচ আমরা ডাক্তাররা তিন মাস আগ থেকেই নানা রকম তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বারবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে আসছি। আর আজকে শুনতে হয়, টাকা না পেলে রোগীর চিকিৎসা করব না! দয়া করে একদিন, শুধু একদিন যে কোন একটি সরকারি হাসপাতালে চাটার দল ছাড়া, আগে থেকে কাউকে কিছু না বলে এসে দেখেন ডাক্তাররা রোগীর সেবা দিচ্ছে কিনা। একবার সাধারণ ডাক্তারদের সুযোগ দেন আপনার সাথে সরাসরি কথা বলার জন্য। শুধু একবার।

দিন-রাত এক করে খাটছে এই ডাক্তাররাই

চীন থেকে আনলে মন্ত্রী আনেন, উপদেষ্টা আনেন। ডাক্তার বা নার্স চেষ্টা করলেও আনতে পারবেন না। চোরের দল শত শত পিসিআর মেশিন এনে গোডাউনে ফেলে রেখেছে অথবা পুরো বরাদ্দটাই হজম করে ফেলেছে। তারাই হয়ত আপনাকে বলছে বিদেশি ডাক্তার-নার্স আনতে।

বিনীতভাবে জানিয়ে রাখতে চাই, প্যানডেমিক মোকাবেলা করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ জনস্বাস্থ্যবিধ, ভাইরোলজিস্ট, আইসিইউ স্পেশালিস্ট বাংলাদেশে আছেন। এখনো সময় আছে মোসাহেবদের দেয়া ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে আপনি সরাসরি তাদের সাথে বসেন। হুমকি দিয়ে অফিসে হাজির করানো যায়, পিসিআর মেশিন কীভাবে চালাতে হয়, তা শেখানো যায় না।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা