যেইদিন থেকে বাঙালির বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লেখার প্রয়াস শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই সে অনুসন্ধান করছিল বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম রূপটিকে। এর আগে কখনো আমাদের মনে হয়েছে যে বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন; কখনো আমাদের মনে হয়েছে যে শৈবধর্মের যে গ্রন্থগুলো রয়েছে সেগুলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। কিন্তু ১৯০৭ সালে যখন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হল তখন বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা; বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে আমাদের ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গেল এবং নতুন করে লেখা হলো বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।


যেইদিন থেকে বাঙালির বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লেখার প্রয়াস শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই সে অনুসন্ধান করছিল বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম রূপটিকে। এর আগে কখনো আমাদের মনে হয়েছে যে বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন; কখনো আমাদের মনে হয়েছে যে শৈবধর্মের যে গ্রন্থগুলো রয়েছে সেগুলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। কিন্তু ১৯০৭ সালে যখন চর্যাপদ আবিষ্কৃত হল তখন বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে আমাদের ধারণা; বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে আমাদের ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গেল এবং নতুন করে লেখা হলো বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।


১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sangskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। তাতে উদ্দীপ্ত হয়ে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রয়েল লাইব্রেরী থেকে ১৯০৭ সালে তাঁর তৃতীয় বারের অনুসন্ধানে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় নামক পুঁথিটি আবিষ্কার করেন। তিনি চর্যাপদের সাথে "ডাকার্ণব" ও "দোহাকোষ" নামক আরও দুটি বই নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কার করেন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯১৬ সালে সবগুলো বই একসাথে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।


চর্যাপদ সহজিয়া বৌদ্ধ সাধকদের ধর্ম সম্পর্কিত সংকেত সংবলিত সংকলিত গ্রন্থ। বৌদ্ধ ধর্মের একটা শাখা মহাযান কালক্রমে বিবর্তিত হয়ে সহজযানে পরিণত হয়। এই সহজযানের সাধকদের সাধনপন্থা অনেকটা গুপ্ত বা গোপন প্রকৃতির ছিল। তারা তাদের এই সাধনপন্থা লিখে রাখার জন্য, তাদের নির্দেশগুলি দেয়ার জন্য যে হেঁয়ালি মিশ্রিত কাব্য রচনা করেছিল সেগুলোর সংকলিত রুপই চর্যাপদ। চর্যাপদ যারা লিখেছিলেন তাদের বলা হয় সিদ্ধাচার্য। তারা বৌদ্ধ সহজিয়া পন্থী ধর্মমতের সাধক। এরকম ২৩ মতান্তরে ২৪ জন সিদ্ধাচার্যের পরিচয় মেলে চর্যাপদ এর সাহায্যে। প্রকৃতপক্ষে ১৯০৭ সালে প্রাপ্ত গ্রন্থটি যাকে আমরা চর্যাপদ হিসেবে চিনি তা মূল গ্রন্থ নয়। এটা মূল গ্রন্থ থেকে বাছাই করে ৫০ বা ৫১ টি পদ নিয়ে সংকলিত একটি অনুলিপি গ্রন্থ মাত্র। এই তথ্য জানা যায় পরবর্তীতে প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক সংগৃহীত চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ থেকে।


গ্রহণযোগ্য মতামত অনুসারে চর্যাপদের রচনাকাল দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী। সেই সময় বাংলাদেশের অর্থাৎ এই বঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটা বিরাট পরিবর্তন সাধিত হচ্ছিল। বাংলা তখন পাল যুগ অর্থাৎ বৌদ্ধযুগ থেকে সেন যুগ অর্থাৎ ব্রাহ্মন্যবাদের যুগের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই সেন যুগের ধর্মীয় আগ্রাসনের কারণে বৌদ্ধ ধর্মের সাধকরা ধীরে ধীরে বাংলা ত্যাগ করে তাদের স্বধর্মীয় অঞ্চল অর্থাৎ নেপাল এবং তিব্বতের দিকে যেতে শুরু করে এবং এ কারণেই সম্ভবত বাংলায় কোন বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রাচীন সাহিত্য পাওয়া যায়নি।


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা