মানুষ নিজেরাই আর মানুষ নেই। কিভাবে আশা করবো বাকী প্রাণীরাও তাদের বৈশিষ্ট্যধরে রাখবে। আমাদের জগতটা এখন 'সার্ভাইভাল অফ দ্যা ফিটেস্ট' এই নীতির ওপরেই চলছে।

নিজের জন্ম দেয়া সন্তানকেই খেয়ে ফেলতে হচ্ছে। কি বিভৎস তাই না? রাশিয়ার মস্কোর গবেষক দল জানিয়েছে এই ভয়ঙ্কর তথ্য। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে প্রকৃতির ওপর তারই একটি উদাহরণ এটা। একদিনে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে, অন্য দিকে ভারসাম্য  হারাচ্ছে প্রানীকূল। সরেজমিনে গিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেলেন, বেঁচে থাকার তাগিদে মেরু ভাল্লুকের দল নিজেদের সন্তানদেরই গ্রহণ করছে খাদ্য হিসেবে। 

মেরু ভাল্লুকরা স্বভাবে মাংসাশী। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তারা সম্মুখীন হচ্ছেন বিরূপ পরিবেশের। এমতাবস্থায় দেখা দিচ্ছে খাদ্যাভাব। খাদ্যাভাবে স্বজাতিকে ভক্ষণের প্রবণতা বাড়ছে ওদের মধ্যে। নিজেদের সন্তানকেও ছাড়ছে না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। মস্কোর গবেষক মেরু ভাল্লুক বিশেষজ্ঞ ইলিয়া মর্দভিনস্তেভও এমনটাই বলেছেন।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এখন শুধুমাত্র পাঠবইয়েই সীমাবদ্ধ নয়। এটা পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হুমকিস্বরূপ।  এই হুমকি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বেড়ে যাওয়া পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে মানব সম্প্রদায়কে। এবং এটা করতে হবে সমষ্টিগতভাবে। কোনো দেশ, জাতি দ্বারা বিভাজিত হয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকানো অসম্ভব।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুই মেরুতে বিরামহীন বরফ গলছে। অ্যান্টার্কটিকায় বরফের বুক চিরে বয়ে চলেছে নদী। বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, মেরু দেশের বরফ গলে সমুদ্রের তল উপচে উঠবে। ভাসিয়ে দেবে বহু শহর। পরিবেশ বদলের এই নিরন্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পালটে যাচ্ছে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা। অভিযোজনের লক্ষ্যে অভ্যেসগুলো বদলে নিতে হচ্ছে মেরু ভাল্লুক, পেঙ্গুইনদের। 

বিজ্ঞানীরা এই ছবিগুলো প্রকাশ না করলে হয়তো অনেকে বিশ্বাসই করতো না

তাই বলে নিজের সন্তানকেই খেয়ে ফেলতে হবে? হ্যাঁ, বাস্তবতা এতটাই ভয়ঙ্কর। কিন্তু কেন স্বজাতি কিংবা নিজ সন্তানকে খেয়ে ফেলার এই প্রবণতা, সেই উত্তরও খুঁজে বের করেছেন গবেষকরা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রচন্ড খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে মেরু অঞ্চলসমূহে। সাধারণত বরফের নিচে থাকা সিল শিকার করে খেয়ে এরা অভ্যস্ত। কিন্তু বরফ গলে যাওয়ায় সিলরাও সমুদ্রের দিকে চলে যাচ্ছে। ফলে খাদ্য সরবরাহ কমছে।  পূর্ণবয়স্ক মেরু ভাল্লুকরা স্ত্রী এবং শাবকদের আক্রমণ করে তাদেরই মাংস ছিড়ে খাচ্ছে।

এদিকে, আর্কটিক অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার উত্তোলনে অভিযান জোরদার করেছে ব্যবসায়ীরা। ফলে সেসব জায়গা থেকে উৎখাত হতে হচ্ছে প্রাণীদের। সেটাও মাংসাশী প্রাণীদের খাদ্য সংকটের আরেকটা কারণ বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মেরু ভাল্লুকদের নিজের সন্তানকে ছিড়ে খাওয়া দৃশ্য যদি তারা প্রকাশ না করতেন হয়তো আমরাও বিশ্বাস করতাম না।  

জলবায়ু পরিবর্তন যে কী ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে সেটা হয়তো কোনও উদাহরণ দিয়েও বোঝানো সম্ভব না অবুঝ মানুষদের। এই জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষ তার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতিতে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। একটি প্রাণী খাদ্যাভাবে তার সন্তানকে খেয়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে। এর চাইতে ভয়ঙ্কর উদারহণ আর কিবা হতে পারে আমার জানা নেই।  

 


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা