আমাদের কপি-পেস্ট শেখানো মানুষটা জীবনের মায়া ত্যাগ করেছেন। পৃথিবীতে যতদিন কপি-পেস্ট চলবে, তিনি বেঁচে থাকবেন তার উদ্ভাবিত কাট-কপি-পেস্ট কমান্ডের মাধ্যমে। জীবনকে কিছুটা সহজ করে দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ল্যারি টেসলার।  

আগুন কিংবা চাকার মতই যুগান্তকারী উদ্ভাবন বলা যায় এটিকে। বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ব্যবহারকারী এমন কেউ নেই যে ‘কাট’, ‘কপি’, পেস্ট’ কমান্ডের উপকারিতা ভোগ করেননি। নিজের সমাবর্তনে মজা করে অনেকে বলে থাকেন, তারা তো গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিটই করেছেন গুগল থেকে কপি-পেস্ট করে।

এই কাট-কপি-পেস্ট কমান্ডের জনক হচ্ছেন ল্যারি টেসলার। পেশার একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। জন্মেছেন বিংশ শতাব্দীতে চল্লিশ দশকের আমেরিকায়। বেড়ে উঠেছেন নিউইয়র্কে, কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক করেছেন ক্যালিফর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। স্নাতক শেষ হওয়ার পরই মূলত তিনি কম্পিউটারের কাজকে আরো সহজ করার চেষ্টা করতে থাকেন। ষাট দশকে এসে কর্মজীবন শুরু করেন। দ্বিতীয় স্টিভ জবস কিংবা বিল গেটস হবার ইচ্ছে ছিলো না তার কখনোই। হয়েছেন প্রথম ল্যারি টেসলার, যিনি সাড়া বিশ্বকে কপি-পেস্ট শিখিয়ে গেছেন। নিজের উদ্ভাবনী শক্তির ছাপ রেখেছেন প্রযুক্তি উপত্যকা খ্যাত সিলিকন ভ্যালিতেও।  

কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ফটোকপি ও প্রিন্টিং খাতের প্রযুক্তি নির্মাতা জেরক্সের পালো অলটো রিসার্চ সেন্টারে (পার্ক)। ল্যারির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে জেরক্স। তাদের টুইটার বার্তায় বলা হয়েছে, ‘কাট, কপি, পেস্ট, ফাইন্ড ও রিপ্লেসসহ’ কম্পিউটারের এমন অনেক যুগান্তকারী কমান্ডের প্রবর্তনের জন্য আপনাকে প্রযুক্তিবিশ্বে মর্যাদার আসনে আসীন রাখবে।  

ল্যারি টেসলার 

দীর্ঘদিন জেরক্সে কাজ করার পর, সেখান থেকে তাকে অ্যাপলের জন্য নিয়ে যান স্টিভ জবস। বর্তমান সময়ের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অ্যাপলে ১৭ বছর কাজ করার এক পর্যায়ে ল্যারি সেখানকার প্রধান বিজ্ঞানী পদে অধিষ্ঠিত হন। অ্যাপল ছেড়ে দেয়ার পর তিনি শিক্ষা বিষয়ক একটি উদ্যোগ নিয়ে হাজির হন। তারপর একসময় অ্যামাজন ও ইয়াহুর মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেও কাজ করেন ল্যারি। উল্লেখ্য, তার মৃত্যুর খবরটি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ৭৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।   

কম্পিউটার ইউজার ইন্টারফেসে বিপ্লব ঘটিয়েছেন এই বিজ্ঞানী। ল্যাবরেটরি থেকে ঘরে ঘরে কম্পিউটার পৌঁছে দেয়ার জন্য যে কয়জন মানুষ আমরণ পরিশ্রম করে গেছেন ল্যারি টেসলার তন্মোধ্যে অন্যতম। আমরা হয়তো তার উদ্ভাবন নিয়ে মজার ছলে নানা কথাই বলবো। কিন্তু এই কপি-পেস্ট কমান্ডটি কম্পিউটার জগতে কী বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়ে গেছে সেটা ঘুনাক্ষরেও টের পাবো না। এই পৃথিবী যতদিন থাকবে, এতে কম্পিউটিং সিস্টেম যতদিন থাকবে, ল্যারি টেসলারও ততদিন বেঁচে থাকবেন। জীবনকে কিছুটা সহজ করে দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ল্যারি টেসলার।  


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা