পৃথিবী বইয়ের হোক- কথাটা কিঙ্কর আহসান কি কেবল নিজের বইয়ের প্রচার করতেই বলেন? নাকি নিজের বইয়ের বাইরে অন্য লেখকদের বই নিয়ে কথা বলতে তিনি অনিচ্ছুক!

সাধারণত গল্পহীন কোনো বিজ্ঞাপন আমাকে টানে না। কারণ, এসবে মনে দাগ কেটে যাওয়ার মতো কিছু থাকে না। কিন্তু কিছু কিছু বিজ্ঞাপন বা ক্যাম্পেইন শুধু গল্প বা মেসেজের কারণেই মনে অনেকদিন রয়ে যায়। তেমনই একটি ক্যাম্পেইনের কথা মনে পড়ছে, বাংলালিংকের আয়োজনে বই নিয়ে হয়েছিল ক্যাম্পেইনটা। 

এ প্রজন্মের পাঁচজন তরুণ লেখককে পরিচয় করিয়ে দিয়ে গল্পের পৃথিবী, বইয়ের পৃথিবীর আবেদনময়তা ছিল ক্যাম্পেইন জুড়ে। লেখক কিঙ্কর আহসান ক্যাম্পেইনের সাথে জড়িয়ে ছিলেন অতপ্রোতভাবে। বাংলাদেশের প্রথম লেখক ওরিয়েন্টেড সেই ক্যাম্পেইনটা পছন্দ হয়েছিল দুটো কারণে। প্রথমত, আজকের পৃথিবীতে আমরা যখন বলছি প্রজন্ম বইবিমুখ হয়ে যাচ্ছে কিনা তখন কাজটা হয়েছিল বই নিয়েই! দ্বিতীয়ত, কিঙ্কর আহসানের আইডিয়া কিংবা উদ্যমে সেই ক্যাম্পেইন হলেও এখানে ৫ জন লেখককে পাঠকের সামনে উন্মোচন করা হয়েছিল বৃহত্তর পরিসরে। মানে এখানে কোনো ব্যক্তিবিশেষ নয়, ক্যাম্পেইনটা সাহিত্য, শিল্পকে মধ্যমনি রেখেই হয় তখন। 

এই ক্যাম্পেইনটার রেশ এখনো রয়ে গেছে মনজুড়ে। মনে মনে কিঙ্কর আহসানের এই বইপ্রীতি কিংবা শিল্প সাহিত্যকে মূলধারায় আনবার এই লড়াই দেখে অবাক হয়েছিলাম। বিচ্ছিন্নতার একটা সময়ে আমরা বেঁচে আছি। এই সময়ে কিঙ্কর বলছেন, পৃথিবীর বইয়ের হোক। তিনি বই নিয়ে কথা বলতে চান, বই লিখে বাঁচতে চান। আবার বই, বইয়ের লেখকদের নিয়ে ক্যাম্পেইন করেন। 

কিন্তু বই নিয়ে কথা বলাটা বোধহয় সেক্সের মতোই ট্যাবু কিনা কে জানে, বিশেষত নিজের বই নিয়ে যদি কেউ কথা বলেন। যদিও, আজকাল যৌন সুরক্ষার প্রোডাক্ট নিয়েও খোলামেলা বিজ্ঞাপন হয়, ক্যাম্পেইন হয়। বাঁচতে হলে নাকি জানতে হবে। সত্যিই তো, বাঁচতে হলে জানতেই হবে। কিন্তু বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি জানা-শেখার সবচেয়ে দারুণ যে মাধ্যম, সেই বইয়ের কথা বলাটাই কি নিন্দনীয় হয়ে উঠেছে কিনা কে জানে! 

তাই, আজকাল কথা ওঠে, লেখক কেন এতো গায়ে পড়ে পাঠকের কাছে যান, পাঠকের সাথে কথা বলেন, তিনি কি সহজলভ্য হয়ে উঠছেন কিনা। প্রশ্ন ওঠে লেখকের অটোগ্রাফ কেন এতো সহজ হয়ে উঠছে, কেউ কেউ সরাসরি এটাই বলেন বই নিয়ে এতো ঢোল পেটানোর কি আছে, কালজয়ী হলে বই এমনিই টিকে যাবে। কারো প্রশ্ন আবার রবীন্দ্রনাথ, হুমায়ুন এই যুগে থাকলে কি তারা এমন কোমড়বেধে বইয়ের প্রচারে নামতেন কিনা। ইত্যাদি ইত্যাদি। 

কখনো কখনো আবার দেখি সরাসরি কোনো লেখককে টার্গেট করেই এই কথাগুলো, প্রশ্নগুলো করা হচ্ছে। যেমনটা দেখেছি কিঙ্কর আহসানের ক্ষেত্রে। কিঙ্কর আহসানের একটি বাক্য আজকাল স্লোগানের মতোই ব্যবহার হয়, কলকাতার বিলবোর্ডেও এই লাইনটা দেখা যায়। তিনিও বারংবার এই বাক্যটা বলেন, তার লেখায়, কথায়, বইয়ের আয়োজনে। বলেন, "পৃথিবী বইয়ের হোক"।

আচ্ছা, এবারে তাহলে এটা সামনে চলে আসে যে আসলেই কি কিঙ্কর কেবল নিজের বইয়ের প্রচার করতেই এই কথাটা বলেন? পৃথিবী বইয়ের হোক, কথাটা কি কেবলই মুখরোচক কোনো বাক্য? তিনি কি অন্য কোনো লেখকের বই বা লেখককে নিয়ে কথা বলা বা সামগ্রিক অর্থে নিজের বইয়ের বাইরের দুনিয়া নিয়ে কথা বলায় অনিচ্ছুক কিনা? 

একজন লেখকের লেখা দিনশেষে সমাজের আয়না, একজন লেখক দিনশেষে সমাজের আর দশজনের চেয়ে সংবেদনশীল মানু্ষ। তিনি সমাজকে একটু ভিন্নভাবে দেখেন, তিনি এমপ্যাথি তৈরি করেন। তাই লেখকের ইনটেনশন নিয়ে যদি কথা ওঠে, সেটা এক ধূম্রজালের সৃষ্টি করে। লেখকের পাঁড় ভক্তরা হয়ত লেখকের পক্ষে যুক্তিহীন স্বরে কথা বলতে গিয়ে এই জালটাকে আরো বেশি জটিল করে তুলতে পারেন৷ আবার যারা লেখককে অনির্ধারিত কোনো কারণে অপছন্দ করেন তাদের অনুমান নির্ভর সৃষ্ট জালটা কখনো খোলাসা হয় না। আদতে যা সাহিত্যের জন্যে উপকারী হয় না কোনোদিকেই। 

তাই, লেখক কিঙ্কর আহসানের ইনটেনশনটা আসলে কী তা জানা দরকার। যদিও, একটু গোলকধাঁধায় পড়ে গেলাম এই ভেবে যে, যিনি ৫ তরুণ লেখক নিয়ে বাংলালিংকের ক্যাম্পেইন করেন, একা না বেড়ে ওঠে যিনি বইয়ের ইন্ডাস্ট্রিকেও বাড়াতে চান, তার দিকে অভিযোগ ছোঁড়া কি ঠিক হবে কিনা!

কিঙ্কর আহসান

কিন্তু, লেখক এই অভিযোগকে কি দৃষ্টিকোণে দেখেন তা বোঝার ইচ্ছে থেকেই প্রশ্নটা করি তাকে। লেখক কিঙ্কর আহসান প্রশ্নটা শুনলেন। তার কথা স্পষ্ট, তিনি একা নন, এগিয়ে চলতে চেয়েছেন সকলকে নিয়েই। মূলত কিঙ্কর আহসানের "মধ্যবিত্ত" নামক পাঠকপ্রিয় উপন্যাসটি প্রকাশিত হবার পর তিনি বইয়ের আয়োজনগুলোতে ডাক পেতে শুরু করেন। তার বই ভাবনা কী, সাহিত্য ভাবনা কী, তা জানার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠে অনেকেই। 

কিঙ্কর আহসান তখন নিজেও প্রবলভাবে অনুভব করলেন বই নিয়ে কথা বলা দরকার। আমাদের বইয়ের বাজারটা সেই অর্থে বিস্তৃত না, অন্তত ১৬ কোটি মানুষের দেশ হিসেবে যতটুকু হবার কথা। কারণ কী? তিনি বলেন, 

"আমরা অর্থনৈতিকভাবে অনেকদূর এগিয়ে গেছি, আমাদের গড় আয়ুও বেড়ে গেছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে কিন্তু মানসিকভাবে কি আমরা ঠিক আছি? চারদিকে প্রতি মুহূর্তে এত কিছু ঘটছে যে একটা কেমন অস্থিরতা চারপাশে। বাচ্চা একটা ছেলে অভিমানে আত্মহত্যা করছে, হতাশা বাড়ছে, অভিমান জমছে। এই যে নিজেকে চেনা যাচ্ছে না, সময়কে আমরা বুঝতে পারছি না, কোনো কিছুকে ফেস করার জন্য মনের জোর অনুভব করি না - এটা কেনো? হয়ত আমাদের মানসিক জোরটা কমে যাচ্ছে দিনকে দিন। এই মানসিক জোর, নিজেকে, সময়কে বুঝবার প্রেরণা আসে কোত্থেকে? বই থেকে। কিন্তু বই বোধহয় আমাদের লাইফস্টাইল থেকে ছিটকে গেছে।"

তিনি উদাহরণ দেন, বাইরের দেশে লোকে ঘুরতে বের হলেও ব্যাগপ্যাকে অন্যান্য কিছু নেয়ার পাশাপাশি একটা বইও তুলে নেয়। বাসে, ট্রেনে মানুষ বই পড়ে। সমুদ্র পাড়ে তারা নীরবে মগ্ন হয়ে থাকে বইয়ের পাতায়। সেখানে বই পড়া মানুষদের ধরা হয় অগ্রসর মানুষ। আর আমাদের এখানে বইটা এখনো সে পর্যায়ে লাইফস্টাইলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয় নি। লোকে এখানে রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়ে চেক ইন দেয়, সিনেমা দেখে রিভিউ দেয়, কিন্তু বইয়ের কথা বলে না। 

কিঙ্কর আহসান সেই না বলা জায়গাটা নিয়েই কাজ করতে চাইলেন। তিনি দেখতে চাইলেন, বই হবে আলোচনার বিষয়। তিনি ভাবতে চাইলেন, বই হবে জীবন যাপনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তিনি স্বপ্ন দেখলেন, পৃথিবীটা হবে বইয়ের। 

এই ইচ্ছার কথা, স্বপ্নের কথা নিয়ে ভাবনার সুঁতোয় তিনি গাঁথতে চাইলেন বাংলা ভাষাভাষী তরুণ লেখকদের। ভাবলেন, সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করা যায় কিনা। কিন্তু অনেকেই এই আবেদনকে একপাক্ষিক চোখে দেখতে শুরু করে। ১০০ জনের কাছে যদি তিনি যান এবং বলেন, আসুন একসাথে কাজ করি, একসাথে পৃথিবীকে বইয়ের করে গড়ি, ৯৫ জন তাকে আলিঙ্গন করে নিতে একটু যেন অনীহা দেখান। কেউ অবহেলায় ফেরান, কেউ স্বাভাবিকতার ভেতরেই বুঝিয়ে দেন, তিনি এই আবেদনে আগ্রহী নন। 

কথাসাহিত্যিক কিঙ্কর আহসান যখন এই আক্ষেপের জায়গাটি বর্ণনা করলেন, তখন বোঝা গেল তার চাপা কষ্টের জায়গা আসলে কোথায়। প্রশ্ন হলো অন্যরা কেন আসেন না, একসাথে কাজ করতে কেন এই অনিচ্ছুকতা?

খেয়াল করলে আমরা দেখব, তুমুল জনপ্রিয় লেখক প্যাটারসন কিন্তু এখন বেশিরভাগ বই যৌথভাবে রচনা করেন। অর্থাৎ একাধিক লেখক মিলে একটি বই রচিত হয়৷ অনেক লেখক ক্রস মার্কেটিংয়ের কাজ করেন, একসাথে বই নিয়ে কাজ করার সুযোগ বের করেন। এতে দুজন লেখকের পাঠকরা মিলে ডাবল পাঠকবেইজ থেকে বইয়ের বিকিকিনিও বাড়ে। পাওলো কোয়েলহো ভীষণ সক্রিয় ইন্সটাগ্রাম ও টুইটারে। তার লেখা থাকে লোকের টিশার্টে, মানুষ পুরো ব্যাপারটা যেন তাদের লাইফস্টাইলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আপন করে নিয়েছে। এভাবে বইয়ের ইন্ডাস্ট্রিটাই বাড়ে দিনশেষে। আপনি যদি ইউটিউবের গ্লোবাল ট্রেন্ড দেখেন, দেখবেন মাঝে মধ্যে দুইটি ভিন্ন চ্যানেলের দুইজন ইউটিউবার একসাথে মিলে দুইটা চ্যানেলে নিজেদের ভিডিও প্রকাশ করেন। দুইজনের দর্শক মিলে দর্শকের সংখ্যাই বাড়ে দিনশেষে। যদি খেয়াল করেন, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির দিকে, একজন জনপ্রিয় অভিনেতা যদি আরেকজন অভিনেতার সিনেমার জন্য শুভকামনা বা প্রশংসা জানান, দিনশেষে দর্শক কিন্তু আরো খুশি হয়, আগ্রহী হয়, সিনেমার ইন্ডাস্ট্রিটাই লাভবান হয়। 

কিন্তু বইয়ের ক্ষেত্রে এসে বাংলাদেশের ট্রেন্ড হলো এখানে লেখকরা একটু বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতেই কেন যেন পছন্দ করেন। কারো কারো মধ্যে ইগোটা একটু বেশি সক্রিয়৷ তারা ভাবেন, আমি যদি আরেকজনের কথা বলি, আরেকজনের সাথে আমার অডিয়েন্স শেয়ার করি তাহলে বুঝি আমার বইয়ের বিক্রি কমে যাবে, তারটা বেড়ে যাবে। কিন্তু তারা এটা ভাবেন না, দুইজনের সম্মিলিত প্রয়াসে পাঠকের সংখ্যা আরেকটু বাড়তেও পারে, নিজের দশজনের সাথে আরেকজন লেখক বন্ধুর দুইজন নতুন পাঠক হলেও আসতে পারে আমার কাছে। 

এই প্রসঙ্গে একটা অন্য কথা বলি। হুমায়ূন আহমেদ যখন প্রথম বই লিখেন, তখন আহমদ ছফা সেই বইটাকে আবিষ্কার করেন যে এরকম দারুণ বই কেন অগোচরে থাকবে। তিনি এই বই নিয়ে মন্তব্য লেখার কারণে একজন হুমায়ূনকে বাংলাদেশ পায়। একজন আহমদ ছফা উচিত কথা বলতে কখনো ছাড়েন না, একসময় তিনি হুমায়ূন আহমেদের সমালোচনাও করেন কিন্তু ওই যে শুরুর দিকে তার ওই পুশ, একটা ভাল বইয়ের কথা বলা সেজন্যে তিনি আজন্ম কিন্তু স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আজকের দিনে এটা বিরল। নিজের বই ছাড়া আর কেউ অন্য কোনো বইয়ের কথা বলতেই চান না। এই ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বইয়ের বিস্তারের পক্ষেই অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় শেষ পর্যন্ত৷ 

কিঙ্কর আহসানের "পৃথিবী বইয়ের হোক" স্লোগানকেও বাইরে থেকে কারো কাছে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার চর্চা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ওই যে ১০০ জনের কাছে গিয়ে দুই হাত ভরে অবহেলা নিয়ে ফিরেছেন, সেখানে বরং প্রশ্নটা আরো তীব্র হয়ে ওঠে ব্যক্তিকেন্দ্রিক আসলে কারা? এটা আসলে সামগ্রিক ইন্ডাস্ট্রিরই প্রচলিত একটি অবস্থা। কিঙ্কর তাই একটু ভিন্নভাবে ভাবলেন। তিনি মনে করলেন, ঠিক আছে সবাইকে চাইলেই পাশে যেহেতু পাওয়া যাচ্ছে না, আমি নিজের কাজটা করি। যদি নিজের কাজ ঠিকঠাক করি তাহলে হয়ত বাকিরা উপলব্ধি করবে বইয়ের কথা বলার প্রয়োজনটা, যখন অন্যরাও এভাবে বলতে থাকবে তখন দিনশেষে আলাদা আলাদা হলেও বইয়ের পৃথিবীটা বড় হবেই। ক্রিকেট খেলায় একজন ব্যাটসম্যান যখন খেলেন, তাকে কোচ বলেন তুমি তোমার খেলাটাই খেলে আসো, এভাবে  প্রতিজনে মিলে নিজের সেরাটা দিলে দলটাই জয়ী হয় ফাইনালি। বইয়ের ক্ষেত্রে জয়টা হবে গোটা বইয়ের ইন্ডাস্ট্রিরই। 

এবার বইমেলায় আসছে কিঙ্কর আহসানের 'মেঘডুবি'। প্রকাশিত হবার আগেই ভীষণ আলোচিত বইটি। ১৬ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে প্রি অর্ডার। রকমারি, বইবাজার, অথবা, ডেলিগ্রাম, দূরবীন, বইপোকা ডট শপ, বুক এক্সপ্রেস এবং দারাজ সহ সকল অনলাইন বুক শপে প্রি অর্ডার হবে।

কিঙ্কর কাজ শুরু করলেন এই ভাবনাকে সামনে রেখে। সেই ১০০ জনের মধ্যে যে ৫ জনকে পাশে পান, তাদের নিয়ে ঠিকই কাজ করার চেষ্টা করতে থাকেন। এক্ষেত্রে তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন যে, যখনই তিনি কোনো বইয়ের আয়োজনে ফর্মাল ইনফর্মাল উপায়ে কথা বলার সুযোগ পান, তিনি একা যান না। তিনি অন্য লেখকদের সাথে নিয়ে যান। আবার তিনি যখন প্রত্যন্ত জায়গায় বইয়ের কথা বলেন "পৃথিবী বইয়ের হোক" স্লোগান সামনে রেখে, তিনি কেবল তার একার বইয়ের প্রচারণা চালিয়ে আসেন এমন নয়, তিনি বলেন মূলত বইয়ের কথাই।
 
সেসব গল্পে ক্ল্যাসিক থেকে শুরু করে এ প্রজন্মের লেখকদের কথাও সুযোগ পেলে বলে আসেন। নিজের বইয়ের অভ্যাস নিয়ে যখন বলেন তখন চলে আসে সেই কিশোরের গল্প সে টাকা জমিয়ে সেবা প্রকাশনীর বই পড়তো, রাত বাড়তো আর সে ডুবে থাকত জাফর ইকবাল, হুমায়ুনের বইয়ে৷ কারওয়ানবাজারের আড্ডার কথা যখন বলেন, তখন চলে আসে বনফুল থেকে কৃষাণ চন্দর, সাদাত হোসাইন মান্টোর গল্পও। তাহলে এটা কী কেবল নিজের বইয়ের পৃথিবী হবার গল্পই বলা? নাকি পৃথিবীব্যাপী গল্পজগতের গল্পটাও করেন তিনি?


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা