জর্ডানের প্রথম নারী পাইলট হলেন দেশটির ১৯ বছর বয়সী রাজকুমারী সালমা বিনতে আবদুল্লাহ্। এ যেন ঠিক রিভার্স আরব্য রজনীর গল্প!

গড়পড়তা গল্প, উপন্যাস, সেলুলয়েড কিংবা আরব্য রজনীর ফিকশনে রাজকুমারীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয় তা নিতান্তই হাস্যকর। কখন রাজকুমার এসে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে তার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া এই রাজকুমারীদের আর কোনোই কাজ থাকে না। প্রাসাদের সবচেয়ে গহীনতম কক্ষটা বরাদ্ধ থাকে তাদের জন্য, সেটাই হচ্ছে রাজকুমারীর আশ্রয়স্থল। নিজের পরিচয় বলতে নামমাত্র ‘রাজকুমারী’ শব্দটাই শেষ সম্বল। আচ্ছা, নিজ বিছানায় শুয়ে শুয়ে কাঁদার জন্যেই কি রাজকুমারীদের জন্ম হয়? 

বক্স অফিস হোক কিংবা বাস্তব জীবন, ডিজনী প্রিন্সেসদের দাপুটে পদচারণায় ট্যাবু ভেঙ্গে বেরিয়ে আসাটা খুব একটা সহজ নয়। রাজকুমারীকে হতে হবে লাক্স সুন্দরী, পন্ডস্ বিউটি, উগ্লি উগ্লি উশ করা যায় এমন। সুরেলা কন্ঠে গাইতে হবে ভালোবাসার গান। ফিগার হতে হবে সুপার মডেলদের মতোন। এ যেন ফর্সা, স্লিম পাত্রী চেয়ে পাত্রপক্ষের কিউট আবদার। এই মামাবাড়ির আবদারগুলো পূরণ করবার জন্যেই কি রাজকুমারীদের জন্ম হয়?

জর্ডানের রাজ পরিবার। বাম পাশ থেকে রানী রানিয়া, রাজকুমারী সালমা, রাজা আবদুল্লাহ্ এবং রাজপুত্র হুসেইন।

সেই প্রশ্নে ফিরছি একটু পরে, তার আগে গত ৯ই জানুয়ারী (২০২০), অ্যারাবিয়ান রয়াল এজেন্সি থেকে টুইট করা কিছু ছবি নিয়ে কথা বলা যাক। ছবিগুলোয় এক তরুণীকে এয়ারফোর্সের ইউনিফর্মে সনদ ও র‍্যাংক গ্রহণ করতে দেখা যায়। সে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ্, রানী রানিয়া, রাজপুত্র হুসেইন। কারণ, যে তরুণী সনদ গ্রহণ করেছেন তিনি হচ্ছেন জর্ডানের রাজকুমারী সালমা। ১৯ বছর বয়সী এ রাজকুমারী নিয়েছেন সামরিক প্রশিক্ষণ। সাফল্যের সাথে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষাসমূহ অতিক্রম করে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। প্রসঙ্গত, সালমার ভাই যুবরাজ হুসেইন নিজেও প্রথম লেফটেন্যান্ট হিসেবে জর্ডানিয়ান আর্মড ফোর্সে কর্মরত আছেন।   

একজন মুসলিম নারী যেখানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রক্ষণশীল আরবের আকাশ, সেখানে আমরা প্রিন্সেস দিয়ে কাঁপাচ্ছি ফেসবুক ফেইক প্রোফাইল। দুনিয়ায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগলেও আমরা ব্যস্ত থাকবো 'ভাবী জানেন??...' নিয়ে। আর আমাদের রাজপুত্রদের কথাই বা কী বলবো, তারা তো ডিজিটাল খাম্বা চুরি করেই কূল পায় না!


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা