কাল একটি অনলাইন নিউজপোর্টালে 'গ্রাহকদের আস্থার নাম ইভ্যালি' শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল সেটি তার নিজের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করেছেন। সেখানে 'কমেন্ট সেকশনে' কী বলছেন ইভ্যালির গ্রাহকরা?

মুশফিক মেহেদী নামে একজন লিখেছেন, 'বছরের সেরা জোক্স!' প্রিন্স মাহমুদ লিখেছেন, 'কোনো খবর নেই। অনেকে পরে অর্ডার করেও পাইছে। এ কেমন সিরিয়াল মেইনটেইন...হট লিংক লাগে নাকি?' লিংক যে লাগে, সেটির প্রমাণ যেন মেলে মনির মাহমুদের কমেন্টে, 'সেইম মোবাইল ৩১ জানুয়ারি অর্ডার করে মোবাইল পাচ্ছি না। কিন্তু ১৭ ফেব্রুয়ারি অর্ডার করে পেয়েছে। এইটাই ইভ্যালি।' মোঃ আবু বকর সিদ্দিক নামে একজন জানিয়েছেন, ১৫ ডিসেম্বরে অর্ডার দিয়ে এখনো ডেলিভারি পাননি। তার কমেন্টের নিচে কে এম হাসিবুর রহমান নামে আরেকজন ভুক্তভোগী লিখেছেন, 'আপনাদের মেসেজ দিলে রিপ্লাই দেন না। R15 বাইক কবে থেকে দিবেন, প্লিজ জানান। প্রথম দিন অর্ডার করে আবার ফুল পেমেন্ট করেও বাইক পেলাম না। আগের বাইকটা সেল দিয়ে এখন খুব ঝামেলায় আছি, একটু দেখবেন ব্যাপারটা?' 

আল আমিন নামে একজন মোহাম্মদ রাসেলকে ম্যানশন দিয়ে লিখেছেন, '১ মাস পার হয়ে গেছে, আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে সুনির্দিষ্ট করে বলবেন? মেইল, সিসি কম তো হলো না! বাইরের গ্রুপে পোস্ট দিতে চাই না যে ই-কমার্সের দুর্নাম হোক। দয়া করে সুনির্দিষ্ট একটা তারিখ জানান।' নাইম লিখেছেন, 'হিরো তো লিস্ট দেয় উইকে ১টা করে। এইভাবে লিস্ট দিলে ৩ বছর লাগবে সব হিরো বাইক ডেলিভারি দিতে। প্লিজ কাইন্ডলি কিছু করেন।'

ইভ্যালির বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিনকে দিন বাড়ছেই

সাদ্দাম নামে একজন আক্ষেপ করে লিখেছেন, 'এডমিনদের পক্ষে থেকে প্রতি সপ্তাহে একটা পোষ্ট দেওয়া উচিত যে কার কি সমস্যা কমেন্ট করুন, আমরা তা সলভ করবো। বাট আপনারা তা করেন না। আমারও ৪ টা প্রোডাক্ট দেড় মাস ধরে আটকে আছে। কবে পাবো জানি না। ইফতেখার আহমেদ ফাহমির মন্তব্য, 'গিফট কার্ড কিনলাম, শর্ত দিয়েছিল এক মাস পর থেবে ব্যবহার করা যাবে। ১ মাস পরে অর্ডার করলাম ফুল পেমেন্টে। ফুল পেমেন্ট করলে নাকি সেটা রেগুলার অর্ডার হয়। কিন্তু ১৫ দিন হয়ে গেল ডেলিভারি দেয়া তো দুরের কথা, স্ট্যাটাসের কোনো পরিবর্তন নেই। কথা দিয়ে যদি কথা না-ই রাখতে পারেন, তাহলে অযথা প্রতিজ্ঞার মানে হয় না। এমন প্রবলেমে পড়েছি এখানে টাকা ইনভেস্ট করে, বাসা থেকে তিন বেলা বকাবকি শুনতে হচ্ছে। আমি এর একটা সমাধান চাই।'

মনির মাহমুদ লিখেছেন, 'নবীনবরণ সাইক্লোনে লেনোভো মোবাইল অফার দিয়েছিলেন, স্টক নাই বলে সবারটা ক্যান্সেল করে দিলেন, এখন আপনাদের ওয়েবসাইটে স্টুডেন্ট বাজারে সেইম মোবাইল এভেইলেবল দেখাচ্ছে! এর নাম ইভ্যালি! এন্সার প্লিজ!' সৌমিত্র রায় 'আস্থা' নিয়ে বিদ্রূপই করলেন, 'দুই মাস পার হইছে.. আস্থার নাম দিয়ে ৬২ দিন চলছে।' মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন আরও এক কাঠি সরেস, 'আস্থা আছে বলেই ৩ মাসেও রিফান্ড এর টাকা আসে নি বিকাশে,,, এভাবেই এগিয়ে যান হ্যারেজমেন্ট করে!' 

ইভ্যালির অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপ যেটাকে 'ফেস' বানিয়ে ইভ্যালি নিজেদের ক্যাম্পেইনগুলোর প্রচারণা চালায়, সেখানে কেবলই ইভ্যালির পক্ষের রিভিউ। অরুপ যেখানে কোনো সমস্যার, কোনো ইস্যুর কথা প্রকাশ করতে দেয়া হয় না। সেখানে কোনো নেগেটিভ রিভিউ প্রকাশ তো হয়ই না, গ্রাহকের কোনো রকমের কোনো সমস্যাও প্রকাশ হয় না৷ নেতিবাচক কিছু বললেই ব্যান! তেমনই এক ভুক্তভোগী অরুপ লিখেছেন, 'SIR PLEASE REMOVE THE BAN FROM ME IN EVALY OFFICIAL GROUP'।

যে পোস্টের মন্তব্যগুলো আমরা প্রকাশ করলাম, সেই পোস্টেই এরও চার গুণ কমেন্ট করেছে ভুক্তভোগীরা। কয়টি প্রকাশ করলে ইভ্যালির দৈন্যতা টের পাওয়া যাবে? এভাবেই প্রতিনিয়ত শত শত কমেন্ট পাওয়া যায় বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে, এমনকি ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেলের পোস্টেও। মোহাম্মদ রাসেল যদি নিজের ওয়ালে 'গুড মর্নিং' লিখেও পোস্ট দেন, তবু শত শত ভুক্তভোগীদের মন্তব্যের ভিড় লেগে যায়। নিজেদের কষ্টের কথা প্রায় প্রতিদিন শেয়ার করেও মিলছে না কোন সমাধান। একটা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কীভাবে গ্রাহকদের ব্যাপারে এতটা অমনোযোগী হতে পারে? 

ইভ্যালি কর্তৃপক্ষকেই ভাবতে হবে কীভাবে তারা পরিস্থিতি সামলে নেবেন। কেবল পজিটিভ রিভিউ দেখিয়েই কি হাজার হাজার নেতিবাচক ফিডব্যাক আড়াল করা সম্ভব? ইভ্যালি এই ব্যর্থতা এড়াবে কি করে?

আরও পড়ুন-

* ইভ্যালিসহ অন্যান্য ই-কমার্স থেকে সময়মতো পণ্য না পেলে ভোক্তা অধিকারে মামলা করবেন যেভাবে!

* কেন ইভ্যালির বিরুদ্ধে এত অভিযোগ?


শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা