দেশের ভেতরে নিয়মিত পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত কর্মদিবসের মধ্যে ডেলিভারি দেয়া হবে। জরুরি পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে।

কয়েক দফায় ঘোষণা আসার পরেও বারবার বিলম্বিত হয়েছে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম, দুই হাজার সতেরো-আঠারো-উনিশ পেরিয়ে বিশের ঘরে চলে গেছে ক্যালেন্ডারের পাতা, কিন্ত আলোর মুখ দেখেনি এই প্রকল্প। স্বয়ং মন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন দিন তারিখের, সেই তারিখও আবার পিছিয়েছে। তবে দেরীতে হলেও, ই-পাসপোর্ট নিয়ে অপেক্ষার অবসান হচ্ছে অবশেষে। আগামীকাল সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সেবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেয়াদ অনুযায়ী ই-পাসপোর্টের সর্বোচ্চ ফি ১২০০০ টাকা আর সর্বনিম্ন ফি ৩৫০০ টাকা। 

বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীর জন্য সর্বোচ্চ ফি নির্ধারিত হয়েছে ২২৫ ডলার এবং সর্বনিম্ন ফি ধরা হয়েছে ১০০ ডলার। আর বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ফি ২২৫ ডলার এবং সর্বনিম্ন ফি ৩০ ডলার রাখা হয়েছে। ই-পাসপোর্ট হবে ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার। তিন ক্যাটাগরিতে দেয়া হবে ই-পাসপোর্ট। সেই অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ টাকা ও অতিজরুরি ফি ৭৫০০ টাকা। ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ ও অতিজরুরি ফি ৯০০০ টাকা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যারা ই-পাসপোর্টের আবেদন করবেন, তাদের জন্যে জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৭৫০০ ও অতিজরুরি ফি ১০৫০০ টাকা। ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণ ফি ৭ হাজার টাকা, জরুরি ফি ৯ হাজার ও অতিজরুরি ফি ১২ হাজার টাকা দিতে হবে।

অনলাইনেই পূরণ করা যাবে ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র। এছাড়া পিডিএফ ফরম্যাট ডাউনলোড করে কম্পিউটারে ফরমটি পূরণ করা যাবে। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। এতে কোনও ছবির প্রয়োজন হবে না। কোনও ধরনের কাগজপত্রও সত্যায়িত করতে হবে না।

যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি/স্মার্ট আইডি কার্ড) নেই, তাদের পিতা এবং মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করে ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে জন্মনিবন্ধন সনদ লাগবে। ১৮ বছরের নিচে সব আবেদনকারীর ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। তারা দশ বছর মেয়াদি পারসপোর্টের জন্যে আবেদন করতে পারবেন না, তবে বয়স আঠারোর বেশি হলে তখন দশ বছর মেয়াদের পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে।

দেশের অভ্যন্তরে নিয়মিত পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত কর্মদিবসের মধ্যে ডেলিভারি দেয়া হবে। জরুরি পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে। আর অতিজরুরি পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা। 

কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেতে আবেদনকারীদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার উইং বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের প্রধান কার্যালয় বরাবর আবেদন করতে হবে। পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন বা ছবি পরিবর্তনের প্রয়োজন না হলে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিতির দরকার নেই। 


ট্যাগঃ

শেয়ারঃ


এই বিভাগের আরও লেখা